• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন

‘সামাজিক অপরাধ নিরসনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’- হোসনা আফরোজা

Reporter Name / ২৬৭ Time View
Update : সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

একটি জেলার সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে সেই জেলার প্রশাসনিক নেতৃত্বের উপর। আর যখন নেতৃত্বে থাকেন একজন দক্ষ, মানবিক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রশাসক, তখন উন্নয়ন হয়ে ওঠে বাস্তবতার নাম। বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা তেমনই একজন নেতৃত্বদাতা, যিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জেলার নানা স্তরে জনসেবামূলক কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি প্রশাসন, নারীর ক্ষমতায়ন কিংবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাঁর সক্রিয়তা নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক উচ্চমহল পর্যন্ত।
একজন নারী প্রশাসক হিসেবে তিনি যেমন অনুপ্রেরণার উৎস, তেমনি দায়িত্ব পালনে কঠোর ও সময়ানুবর্তী। জেলা প্রশাসনের প্রতিটি শাখায় তিনি শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসে তিনি প্রায়ই ছুটে যান প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। তাঁর এই কর্মদক্ষতা, মানবিকতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার সমন্বয়ে তিনি বগুড়ার সার্বিক উন্নয়ন ও সেবাদান ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিচ্ছেন। মানবিক ও প্রশাসনিক অভিযাত্রা আজ বগুড়ার মানুষের হৃদয়ে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে।
‘আলোচনা’ ম্যাগাজিনের সূচনা সংখ্যায় আমরা কথা বলেছি জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজার সঙ্গে। তাঁর জীবনদর্শন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সময়োপযোগী ও প্রেরণামূলক আলাপচারিতা। পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সেই মূল্যবান সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন‘আলোচনা’ সম্পাদক প্রতীক ওমর।

আলোচনা: জেলা প্রশাসক হিসেবে বগুড়ায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কেমন?
হোসনা আফরোজা: বগুড়া জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে আমি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল অনেকটাই উত্তপ্ত। এ পরিস্থিতিতে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ালেখার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে আমি সৌভাগ্যবান যে, এসময় জেলা পুলিশ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারে সহযোগিতা পেয়েছি। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।
বগুড়ার সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও ছিল প্রশংসনীয়। তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পাশে থেকেছে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই জেলার জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। এখন উন্নয়ন কার্যক্রম, জনসেবা এবং সুশাসনের প্রতি মানুষ আগ্রহী ও আস্থাশীল হয়ে উঠেছে এটাই আমার কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আলোচনা: বগুড়ার কোন বিষয়গুলোকে আপনি উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন?
হোসনা আফরোজা: বগুড়া জেলার সার্বিক উন্নয়নকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে এগিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলেছি। শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট নিরসনে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ক্রমান্বয়ে দৃশ্যমান হবে। একইভাবে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে পৌরসভার মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা রেল ও বিমান যোগাযোগের দিকে নজর দিয়েছি। ঢাকার সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও, ট্রেনে ভ্রমণে সময় বেশি লাগে। এজন্য বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করতে আমরা উচ্চপর্যায়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছি। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিকভাবে চালুর বিষয়ে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির জন্য বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষা বিস্তারে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে প্রশাসনিক কাজ চলছে। এছাড়াও নদীভাঙন রোধ ও সম্ভাব্য নৌবন্দর স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে একটি আধুনিক, সেবামুখী ও টেকসই বগুড়া গড়ার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

আলোচনা: জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ কীভাবে বাড়ানো যায় বলে আপনি মনে করেন?
হোসনা আফরোজা: একটি অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে হলে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বগুড়া জেলা প্রশাসন এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতি বুধবার নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন করা হয়, যেখানে সরাসরি জনগণ তাদের সমস্যা, অভিযোগ ও পরামর্শ নিয়ে উপস্থিত হন। শুধু তাই নয়, অফিস চলাকালীন প্রতিদিনই মানুষ নির্বিঘ্নে আমার কার্যালয়ে এসে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়াও, আমি নিয়মিত উপজেলা পরিদর্শনে যাই এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সাথে মতবিনিময় করি। বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে জনগণকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যাতে তারা সরাসরি মতামত ও প্রত্যাশা জানাতে পারেন। আমরা চাই, জনগণ যেন প্রশাসনকে কাছে পায়, নির্ভর করতে পারে। এজন্য এই সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও বেগবান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আলোচনা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাত নিয়ে আপনার বিশেষ কোন পরিকল্পনা আছে কী?
হোসনা আফরোজা: জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি বগুড়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাত-শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি।
শিক্ষা খাত:
শিক্ষার মানোন্নয়ন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমাতে শিক্ষকগণকে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পূর্বে সুনির্দিষ্ট পাঠ পরিকল্পনা তৈরি ও মানসিক প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছি। শিক্ষাঙ্গণ যেন শিক্ষার্থীবান্ধব ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে পরিণত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করছি। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় বগুড়ায় একটি আধুনিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এবং জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
স্বাস্থ্য খাত:
জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। রোগী সেবার মান বাড়াতে প্রযুক্তিগত ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়েও আমরা নজর দিচ্ছি।
কৃষি খাত:
বগুড়া কৃষিপ্রধান জেলা। অধিকাংশ জমি তিন ফসলি হওয়ায় এখানে সারা বছরজুড়ে প্রচুর ফসল উৎপাদিত হয়, বিশেষ করে সবজি। কৃষকেরা যেন ন্যায্যমূল্য পান এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের সুযোগ পান এজন্য সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই তিনটি খাতে একযোগে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে বগুড়ার সার্বিক অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

আলোচনা: নারী প্রশাসক হিসেবে কোনো বিশেষ চ্যালেঞ্জ বা সুবিধা অনুভব করেন কী?
হোসনা আফরোজা: চ্যালেঞ্জের চেয়ে সুবিধা বেশি। একজন পুরুষ কর্মকর্তা হলে লোকজন যেভাবে গল্প আড্ডা দেওয়ার সুযোগ পেতো এখন তা করার সুযোগ নগণ্য। তাই কাজে মনোনিবেশ করা যায়। আমি যেহেতু গত ১৬ বছরের কোন অপকর্মের সাক্ষী নই তাই এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমার চ্যালেঞ্জ কম। বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুযায়ী জনকল্যাণের কথা মাথায় রেখে কাজ করলে কোনো ঝুঁকি থাকে না।

আলোচনা: তরুণ সমাজকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে প্রশাসনের উদ্যোগ কী কী?
হোসনা আফরোজা: তরুণ সমাজ যে কোনো জাতির অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। তাই বগুড়া জেলা প্রশাসন তরুণদের সক্রিয়ভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সমাজ উন্নয়ন, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রগুলোতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে।
তরুণদের কাছ থেকে সমাজ উন্নয়নের নতুন নতুন আইডিয়া বা চিন্তাধারা সংগ্রহ করা হচ্ছে, যেগুলো স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, উদ্যোক্তা হিসেবে তাদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রয়েছে, যেখানে ব্যবসা পরিকল্পনা, ডিজিটাল মার্কেটিং, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্টার্টআপসহ নানা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সম্পৃক্ত করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনা: স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অভিযানে বগুড়ার ভূমিকা কীভাবে দেখতে চান?
হোসনা আফরোজা: এ শব্দটি আমার পছন্দের নয়। আমি বলতে চাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বগুড়ার সকল স্কুলে টেকনিক্যাল শিক্ষার দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। ফলে আশা করা যায় ছাত্র ছাত্রীরা তথ্য প্রযুক্তিতে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। তাছাড়া নেকটার এর মাধ্যমে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং এর প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। নাগরিক সেবার গেইটওয়ে হিসেবে তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করলে দুর্নীতি হ্রাস পাবে।

আলোচনা: দুর্নীতি ও অনিয়ম দমনে প্রশাসনের বর্তমানে নীতিমালা বা পদক্ষেপ কী?
হোসনা আফরোজা: বর্তমান সরকার ও প্রশাসন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, যেখানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বগুড়া জেলা প্রশাসনও এই নীতির আলোকে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি দপ্তরগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, পর্যবেক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একইসাথে সাধারণ জনগণের মধ্যেও দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা, গণশুনানি এবং ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পর্যায়ে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রতিটি দপ্তরে অভিযোগ বক্স স্থাপন, অনলাইন অভিযোগ জানানো ও প্রতিকারের ব্যবস্থা, অফিসে সেবার তালিকা ঝুলিয়ে রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা প্রদানে বাধ্য করার মতো উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণকে ঘুষ বা অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদেরও সততা বজায় রাখতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে জেলায় স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনমুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠার পথে আমরা এগিয়ে চলেছি।

আলোচনা: পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুতে জেলার সচেতনতা বাড়াতে আপনার উদ্যোগ কী?
হোসনা আফরোজা: জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষায় বগুড়া জেলা প্রশাসন নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পরিবেশ রক্ষায় প্রথমত আমরা জলমহাল ও নদী দখলমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, যাতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে। এতে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা রোধ হবে, অন্যদিকে জলজ পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।
দ্বিতীয়ত, জেলার বায়ুদূষণ কমাতে অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে, যাতে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার প্রতি নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ে।
খাস জলমহাল যেগুলো ভরাট হয়ে গেছে, সেগুলো পুনঃখননের জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে তালিকা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড থেকে বরাদ্দ নিয়ে “বিল নুরইল” খননের পাশাপাশি তার চারপাশে বৃক্ষরোপণ, পর্যটকদের বসার স্থান এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই সব কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বগুড়াকে আরও বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

আলোচনা: আপনার ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলবেন?
হোসনা আফরোজা: নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিটি নাগরিককে দেশপ্রেমিক, সৎ এবং নৈতিক আদর্শ ধারণ করার বিকল্প নেই। সামাজিক অপরাধ নিরসনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বগুড়াকে মডেল শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখনই “নগর পরিকল্পনা” তৈরি করা প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় Smart Waste Collection Bin এবং আধুনিক Dumping Ground তৈরি জরুরি। শহরে ভবন নির্মাণের অনুমতি প্রদানের সময় ইমারত নির্মাণ আইনের কঠোর প্রয়োগ ও ছাড়কৃত জায়গায় অন্তত ২ টি বৃক্ষরোপণ নিশ্চিত করতে হবে। বর্ণিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণের জন্য প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।


উল্লেখ্য, হোসনা আফরোজা বগুড়া জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যোগদান করেন ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। এর আগে তিনি ২০০৫ সালে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের সদস্য হিসেবে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। চাকরি জীবনে তিনি দিনাজপুর ও নরসিংদী জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় এবং রাজবাড়ি সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় তিনি কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ভূমি আপিল বোর্ড এবং বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন পদায়িত ছিলেন। সর্বশেষ ০৫ আগস্ট ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৩ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে সরকারের উপসচিব হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন (২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখ হতে জ্যেষ্ঠতা প্রাপ্ত)। তিনি গত ২০ মার্চ, ২০২৫ তারিখে সরকারের যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন।
হোসনা আফরোজা ১৯৭৭ সালে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলাধীন বেতাগা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মোঃ আব্দুল লতিফ ছিলেন একজন ইসলামি চিন্তাবিদ ও পণ্ডিত ব্যক্তি, যিনি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তার মাতা, মিসেস জহুরা বেগম, একজন গৃহিণী। জনাব হোসনা আফরোজা ঢাকা বোর্ড হতে ১৯৯১ সালে এস.এস.সি এবং ১৯৯৩ সালে এইচ.এস.সি কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি বোর্ড কর্তৃক বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ হতে ১ম শ্রেণিতে বৃত্তিসহ স্নাতক (সম্মান) এবং একই বিভাগের অনুজীব বিষয়ে থিসিসসহ ১ম শ্রেণিতে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে চাকরিরত অবস্থায় তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার্স ইন গভার্নেস এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এমএজিডি) ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category