• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

শ্রেণিকক্ষ থেকে সংসদ: অদম্য এক সংগ্রামী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদন / ১১৭ Time View
Update : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

মাটি ও মানুষের খুব কাছাকাছি থাকা জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ‘মাসিক আলোচনা’র বিশেষ আয়োজনে আজ আমরা এমন একজন ব্যক্তিত্বের মুখোমুখি হয়েছি, যিনি বয়সের ফ্রেমে আটকে না থেকে জনসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ এম. পি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা ৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি বর্তমানে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দের জীবন বৈচিত্র্যময় এবং অনুপ্রেরণামূলক। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান শিক্ষক (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার পর অবসরে গিয়েও তিনি বসে থাকেননি। বরং মানবসেবার ব্রত নিয়ে নিজ গ্রামের বাজিতনগর হাটে একটি ছোট্ট চেম্বারে হোমিও চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। ৭৩ বছর বয়সেও তার অদম্য মনোবল এবং তারুণ্যদীপ্ত কর্মচাঞ্চল্য সবাইকে অবাক করে দেয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার যে দৃশ্য সাঘাটা ও ফুলছড়িবাসী দেখেছে, তা জনমনে তার প্রতি গভীর আস্থার জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। তারই প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বাক্সে, যেখানে মানুষ তাকে বিপুল জনসমর্থনে বিজয়ী করেছে।

নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক সাংসদ যখন রাজধানীর ব্যস্ততায় ডুবে যান, আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ সেখানে ব্যতিক্রম। সংসদের প্রতিটি বিরতিতে তিনি ফিরে আসেন তার প্রিয় জনপদে। ছুটে যান গ্রামের পর গ্রামে, শোনেন সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ আর স্বপ্নের কথা। নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন অবহেলিত এই জনপদের ভাগ্যোন্নয়নে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ফুলছড়ি থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবি তুলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন। উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের এই প্রাণের দাবিটি জোরালোভাবে উত্থাপন করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি এই অঞ্চলের মানুষের আশা আকাক্সক্ষার ধারক।
একজন প্রচারবিমুখ শিক্ষক থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ যাত্রা, আগামীর পরিকল্পনা এবং সাঘাটা ও ফুলছড়ি নিয়ে তার স্বপ্নের কথা জানতেই আমাদের আজকের এই বিশেষ সাক্ষাৎকার। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ এম.পি’র মুখোমুখি হয়েছে ‘মাসিক আলোচনা’র বিশেষ প্রতিনিধি দল। আমাদের আজকের পর্বে তুলে ধরা হলো সেই আলাপচারিতার চুম্বক অংশ।

আলোচনা: আপনার দীর্ঘ কর্মজীবন শুরু হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে, এরপর হোমিও চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘ সময় মানুষের সেবা দিয়েছেন। শিক্ষক এবং চিকিৎসক থেকে একজন জনপ্রতিনিধি হওয়ার এই যে বিশাল রূপান্তর, একে আপনি কীভাবে দেখেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ এম.পি: আসলে আমার জীবনের এই রূপান্তরকে আমি আলাদা কোনো অধ্যায় হিসেবে দেখি না, বরং একে মানবসেবার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করি। শিক্ষকতা যখন শুরু করেছিলাম, তখন আমার লক্ষ্য ছিল জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি সুশিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলা। শিক্ষকতা পেশা ছিল সমাজ সংস্কারের একটি হাতিয়ার। আবার যখন চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হলাম, তখন সরাসরি মানুষের শারীরিক কষ্ট দূর করার সুযোগ পেয়েছি। বিশেষ করে আমার গ্রামের বাজিতনগর হাটের সেই ছোট্ট চেম্বারে বসে আমি মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমাকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছে।
রাজনীতিতে আসাটাও আমার কাছে সেই সেবারই একটি বৃহত্তর রূপ। রাজনীতি মানে তো মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই। আমি মনে করি, একজন শিক্ষক যেমন সমাজকে পথ দেখান তেমনি একজন জনপ্রতিনিধিও সমাজের ক্ষতগুলো চিহ্নিত করে তা সংস্কারে ভূমিকা রাখে। ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার এই দায়িত্ব সেই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত, যা আমি আমার শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে পালন করার চেষ্টা করছি। সমাজ থেকে অবিচার দূর করে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার এই রূপান্তরের সার্থকতা।

আলোচনা: ৭৩ বছর বয়সেও আপনি নির্বাচনের সময় মাইলের পর মাইল হেঁটে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন যা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। এই অদম্য শারীরিক ও মানসিক শক্তির রহস্য বা উৎস আসলে কী?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ এম.পি: বয়সের সংখ্যা দিয়ে আসলে মনোবলকে মাপা যায় না। আমার এই অদম্য শক্তির উৎস হলো মানুষের প্রতি আমার অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং আমার আদর্শ। আমি যখন সাঘাটা ও ফুলছড়ির প্রত্যন্ত গ্রামে ভোটারদের কাছে গিয়েছি, তখন তাদের চোখের ভাষা আমাকে শক্তি দিয়েছে। আমি দেখেছি মানুষের অভাব, তাদের বঞ্চনা এবং তাদের আকুতি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি যুদ্ধের ময়দানেও যেমন পিছপা হইনি, রাজনীতির ময়দানেও মানুষের দ্বারে পৌঁছাতে আমি ক্লান্তিবোধ করি না।
আমার এই শক্তির পেছনে অন্যতম কারণ হলো নিয়মানুবর্তিতা। শিক্ষকতা জীবনে আমি যে শৃঙ্খলা শিখেছি, তা আজও মেনে চলি। এছাড়া আমার কর্মীদের উদ্দীপনা আমাকে সবসময় চাঙ্গা রাখে। মাইলের পর মাইল হাঁটা আমার কাছে কষ্টকর মনে হয়নি কারণ আমি জানতাম, প্রতিটি কদম আমাকে আমার এলাকার মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যখন আমি তাদের দুঃখের কথা শুনেছি, তখন আমার মনে হয়েছে তাদের জন্য কিছু করার সুযোগ পাওয়াটা অনেক বড় পাওয়া। এই যে মানুষের ভালোবাসা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা, এটাই আমার মূল শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার ইচ্ছা থাকলে আল্লাহ নিজেই শারীরিক ও মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দেন। জনমনে আস্থার এই জায়গাটি আমি সরাসরি মানুষের সাথে মিশে অর্জন করার চেষ্টা করেছি।

আলোচনা: অনেক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর রাজধানীর কর্মব্যস্ততায় নির্বাচনী এলাকা থেকে কিছুটা দূরে চলে যান। কিন্তু আপনি সংসদের বিরতি পেলেই গ্রামে ফিরে সাধারণ মানুষের খোঁজ নিচ্ছেন। মাটির কাছাকাছি থাকার এই অনুপ্রেরণা আপনি কোথা থেকে পান?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ এম.পি: আমার শিকড় এই সাঘাটা আর ফুলছড়ির মাটিতে। আমি এই এলাকার আলো বাতাসে বেড়ে উঠেছি, এখানকার মানুষের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। রাজধানীর সংসদীয় কাজের প্রয়োজন অবশ্যই আছে, কিন্তু আমার মূল কর্মক্ষেত্র হলো আমার নির্বাচনী এলাকা। আমি মনে করি, একজন জনপ্রতিনিধি যদি তার এলাকার মানুষের স্পর্শ থেকে দূরে সরে যান, তবে তিনি তার প্রকৃত দায়িত্ব ভুলে যান। সংসদের বিরতিতে গ্রামে ফিরে আসা আমার কাছে কোনো বাড়তি কাজ নয়, এটি আমার প্রশান্তির জায়গা। আমি যখন গ্রামে ঘুরি, সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে বসে তাদের সমস্যার কথা শুনি, তখন আমি তাদের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারি। এই মাটির কাছাকাছি থাকার অনুপ্রেরণা আমি পাই আমার দেশপ্রেম থেকে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই মাটি ও মানুষের জন্য লড়াই করেছি, তাই আজ পদমর্যাদার কারণে তাদের ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। মানুষের দোয়া আর ভালোবাসাই আমাকে বারবার গ্রামে টেনে নিয়ে আসে। আমি চাই সাধারণ মানুষের ঘরের দরজা যেমন আমার জন্য খোলা থাকে, আমার দুয়ারও যেন তাদের জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকে।

আলোচনা: সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ফুলছড়ি থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবি তুলে আপনি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। উত্তরবঙ্গের মানুষের স্বপ্নের এই দাবিটি বাস্তবায়নে আপনি ব্যক্তিগতভাবে কতটা আশাবাদী এবং আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা কী?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ এম.পি: উত্তরবঙ্গ বা বিশেষ করে আমাদের সাঘাটা ও ফুলছড়ি অঞ্চল দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত। ফুলছড়ি থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ শুধু আমার এলাকার মানুষের দাবি নয়, এটি পুরো উত্তরবঙ্গের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ। আমি সংসদে এই দাবিটি তুলেছি কারণ এটি এই অঞ্চলের কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত না হলে কোনো অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আমি এই সেতু বাস্তবায়নে অত্যন্ত আশাবাদী। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই দাবিটি অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি। আমার পরবর্তী পরিকল্পনা হলো এই দাবিটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং জনমত গঠন করা। আমি চাই না এটি কেবল একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হয়ে থাকুক। এই সেতু নির্মিত হলে কৃষকরা তাদের ফসলের সঠিক দাম পাবে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এছাড়া আমাদের উত্তরবঙ্গের নদী ও পানি ব্যবস্থার যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, সেগুলো মোকাবিলায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা বড় ভূমিকা রাখবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং এই প্রকল্পের গুরুত্ব বারবার তুলে ধরছি। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমি শেষ পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাব যাতে আমাদের এলাকার মানুষ আধুনিক যাতায়াত সুবিধার সুফল ভোগ করতে পারে।

আলোচনা: আপনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের ময়দানে দেশকে স্বাধীন করার যে লক্ষ্য ছিল, বর্তমানে একজন সাংসদ হিসেবে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ ও সমৃদ্ধ জনপদ গঠনে সেই লক্ষ্য আপনাকে কতটা তাড়িত করে?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ এম.পি: একাত্তরের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে এক মহাকাব্যিক লড়াই। সেই যুদ্ধের মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার। একজন তরুণ হিসেবে সেদিন হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলাম একটি শোষণমুক্ত ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্নে। আজ যখন আমি জাতীয় সংসদের সদস্য, তখন আমার মনে হয় আমার সেই যুদ্ধের দায়িত্ব এখনো শেষ হয়নি। তখন যুদ্ধ ছিল সীমান্তের শত্রুদের বিরুদ্ধে, আর এখন যুদ্ধ হলো দারিদ্র্য, দুর্নীতি আর ইনসাফহীনতার বিরুদ্ধে।
একটি সমৃদ্ধ জনপদ গঠন করতে হলে আগে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমি সাঘাটা ও ফুলছড়ি এলাকার প্রতিটি গ্রামে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার এলাকার মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে না পারবে এবং তাদের নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে, ততক্ষণ আমার মুক্তিযুদ্ধের শপথ অপূর্ণ রয়ে যাবে। আমি চাই আমাদের এই জনপদটি হবে এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষের মাঝে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

আলোচনা: সাঘাটা ও ফুলছড়ি নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি নদী শাসন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আপনার মেয়াদের অগ্রাধিকার তালিকাগুলো কী কী?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ এম.পি: সাঘাটা ও ফুলছড়ির মানুষের প্রধান শত্রু হলো যমুনা নদীর করাল গ্রাস। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হচ্ছে এবং আবাদি জমি নদীতে ধসে যাচ্ছে। আমাদের এই এলাকার পানি ও নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমার অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে যমুনা নদীর স্থায়ী তীর সংরক্ষণ এবং নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। দ্বিতীয়ত, নদী ভাঙন কবলিত মানুষদের পুনর্বাসন করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা আমার লক্ষ্য। এছাড়া ভাঙন প্রবণ এলাকাগুলোতে টেকসই সড়ক এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হবে। নদী শাসনের পাশাপাশি আমি কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোর দিচ্ছি, যাতে কৃষকরা পানিবন্দি অবস্থায় বা খরা মৌসুমেও তাদের চাষাবাদ চালিয়ে যেতে পারে। সাঘাটা ও ফুলছড়ির অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমি এমন কিছু মেগা প্রজেক্ট প্রস্তাব করার প্রস্তুতি নিচ্ছি যা এই অঞ্চলের চেহারাই বদলে দেবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নও আমার তালিকার অন্তর্ভুক্ত। আমার মূল লক্ষ্য হলো নদীকে অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদে পরিণত করা। ইনশাআল্লাহ, আমার এই মেয়াদে আমি সাঘাটা ও ফুলছড়িকে একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

আলোচনা: একজন প্রবীণ অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এবং আদর্শিক রাজনীতিক হিসেবে আপনার নির্বাচনী এলাকার তরুণ প্রজন্মের প্রতি আপনার বিশেষ কোনো বার্তা বা পরামর্শ আছে কি?
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ এম.পি: তরুণ প্রজন্মই আমাদের আগামীর বাংলাদেশের কান্ডারি। আমি তাদের প্রতি সবসময় একটি কথাই বলি, তোমরা আদর্শহীন শিক্ষিত হওয়ার চেয়ে আদর্শবান মানুষ হওয়ার চেষ্টা করো। আজকের যুগে তরুণদের হাতে প্রযুক্তির অনেক বড় শক্তি আছে, কিন্তু সেই শক্তির সাথে যদি নৈতিকতা আর দেশপ্রেম না থাকে তবে তা কোনো কাজে আসবে না। আমি তাদের বলব, তোমরা নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের প্রতিও দায়বদ্ধতা তৈরি করো।
তোমরা সত্যের পথে অবিচল থেকো এবং যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করো। রাজনীতি হোক বা পেশা জীবন, সব জায়গায় ইনসাফ ও সততা বজায় রাখা জরুরি। সাঘাটা ও ফুলছড়ির তরুণদের আমি বলব, তোমরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলো যাতে আমাদের এই পিছিয়ে পড়া জনপদকে তোমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারো। তরুণদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য আমার পক্ষ থেকে সবসময় সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। আমি চাই তোমরা এমন একটি প্রজন্ম হিসেবে গড়ে ওঠো যারা নিজেদের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি দেশের মঙ্গলের কথা চিন্তা করবে। মনে রেখো, তারুণ্য কোনো বয়স নয়, এটি একটি মানসিকতা। তোমরা যদি সঠিক পথে থাকো, তবে ইনশাআল্লাহ একটি সমৃদ্ধ ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে। ‘মাসিক আলোচনা’র মাধ্যমে আমি এই আহ্বানটুকু আমার প্রিয় তরুণদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category