• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী হৃদয়কে কুপিয়ে হত্যা মামলায় বগুড়ায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড তিনজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদন / ১২৫ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাগিবুল হাসান হৃদয় হত্যা মামলায় ৫ আসামির সাজা ঘোষণা করেছেন আদালত। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের দায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫-এর বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন এবং মো. রাব্বি। অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন আশিক, শাকিল ও মতিন। দণ্ডাদেশের পাশাপাশি পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আদায়কৃত জরিমানার অর্ধেক অর্থ নিহত হৃদয়ের সন্তানের ভরণপোষণের জন্য প্রদান করা হবে এবং অবশিষ্টাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা থাকবে।

মামলার নথিসূত্র ও তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুলাই অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের কৈপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় হৃদয়দের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতকারী। আসামিরা সেখানে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানের ভেতরে ঢুকে রাগিবুল হাসান হৃদয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে।

সে সময় ছেলেকে বাঁচাতে পিতা মামুনুর রশিদ এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ঈদের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হৃদয়। নৃশংস এই ঘটনায় নিহত হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদার রহমান জানান, চাঁদার দাবিতে রক্তক্ষয়ী এই হামলা ও নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন। তিনি এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
এদিকে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন নিহতের স্বজনরা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “আমার ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিল। ঈদের আগের দিন তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়, ঈদের দিন সে মারা যায় এবং ঈদের পরদিন তার সন্তান জন্ম নেয়। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, তবে এটি যেন দ্রুত কার্যকর হয়।” একই সাথে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হামলায় আহত হওয়া হৃদয়ের বাবা মামুনুর রশিদও।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category