• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন

তারেক জিয়ার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও জামায়াত, এনসিপির প্রতি খোলা চিঠি

জুলফিকার শাহাদাৎ / ৩৯৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আমি এক ক্ষুদ্র সাহিত্যকর্মী। জামায়াত বা এন সি পি কে নসিহত করার যোগ্যতা আমার নেই। তবুও আমজনতার অংশীজন হিসেবে দুটি কথা বলতে চাই।
প্রথমে বলি, খুনি হাসিনার পলায়নের পর দেশের এই দুর্দিনে হাল ধরার মতো ড. ইউনূসের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি কে ছিলেন?
দেশের অর্থনীতি ধ্বংস, ব্যাংক ধ্বংস, বাংলাদেশ ব্যাংক লোপাট, পুলিশ নিষ্ক্রিয়, সচিবালয় অচল, ডলার সংকট, রিজার্ভ তলানীতে, দ্রব্যমূল্যে আগুন এই অবস্থায় তিনি দেশের দায়িত্ব নিলেন। দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে হাজার দুয়েক আন্দোলন, আনসার বিদ্রোহ, জুডিশিয়াল ক্যু,ভারতীয় বৈমাত্রিয় কূটনীতির মোকাবেলা করে তিনি দেশকে এক বছরের মধ্যে একটা স্থিতিশীল অর্থনীতি উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন। এর চেয়ে তার বেশি দেয়ার কি ছিল?
তিনি যদি দায়িত্ব না নিতেন তবে কী হত ভাবুন। এই এক বছরে কয়বার সরকার পরিবর্তন হত। কে পারত বিশ্বের কুটিল কূটনীতির মোকাবেলা করতে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চহারে আরোপিত শুল্ক কমাতে?
তাই তিনিই ছিলেন আমাদের উত্তম অভিভাবক নির্বাচন।
একজন ৮৪ বছরের যুবক গত একটি বছর কী পরিমাণ ঘরে বাইরে যুদ্ধ করেছেন একবার ভাবুন। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব মোকাবেলায় তাকে কী পরিমাণ গলদঘর্ম হতে হচ্ছে তা কারও অজানা নয়।
আগামী ডিসেম্বরে তারেক জিয়া দেশে ফেরার কথা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু নির্বাচন আদৌ হবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।


প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যাদেরকে দিয়ে বি এন পি গঠন করেছিলেন তারা ছিলেন আওয়ামী লীগ, মুসলিম লীগ, ন্যাপ ভাসানীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজন। বলা যায়, বিভিন্ন মত ও পথের সম্মিলন জাতীয়তাবাদী দল। তিনি উন্মুক্ত করে দেন মানুষের বাকশক্তিকে। তাই বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান এক অবিনশ্বর নাম।
তারই যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান। তিনি আগামী ডিসেম্বরে দেশে আসছেন। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই এক বছর কেন তিনি দেশে আসেননি। এর সহজ উত্তর নিরাপত্তা। বর্তমান সরকার তারেক রহমানের এ দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নন। দেশি ও বিদেশি একটা বুলেট তাকে নিশ্চিহ্ন করতে চৌদিকে তাড়া করছে। বিশেষ করে ভারতীয় ‘র’ ও খুনি হাসিনার পোষ্যগণ জানেন, তারেক রহমান তাদের জন্য কত বড় হুমকি। তাই খুব সচেতনভাবে তারেক রহমান দেশে ফেরেননি।
বর্তমানে তারেক রহমানের সাথে জামায়াত এনসিপি’র দ্বন্দ্ব পি আর নিয়ে। বাকিসব বিরোধ হয়ত মীমাংসা হবে। কিন্তু পি আর নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসাযোগ্য মনে হচ্ছে না। এ মুহূর্তে এ নিয়ে মাঠ গরম করা বা বিরোধে জড়ানো মানে ফ্যাসিস্ট প্রত্যাবর্তনের পথ উন্মুক্ত করা। মাঠ যত দ্রুত গরম হবে ফ্যাসিস্ট তত দ্রুত ফিরে আসবে। ষড়যন্ত্রের ডালপালা গজাবে। অন্তত: বিএনপি জামায়াত, এন সি পি ফ্যাসিস্ট নিষিদ্ধে তো একমত।
এই একটা সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারি। বিএনপি যেহেতু বড় দল তারা বাস্তবতা উপলব্ধি করবে। তারা ভুলে যাওয়ার কথা না, জামায়াতে ইসলামী প্রথমে কেয়ারটেকার সরকারের ফর্মুলা দেয়। সে ফর্মুলা তারা মানেনি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ এ ফর্মুলার বাংলা তর্জমা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আন্দোলনে নামে। বিএনপি এ প্রস্তাব গ্রহণ না করে একতরফা নির্বাচন করে টিকতে পারেনি। তখনও দোহায় ছিল সংবিধান। পরবর্তীতে সেই সরকার ১৫ দিন টেকেনি। পুনরায় সেই কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে অভিশপ্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসে। আর আওয়ামী লীগের কী দু:শাসন তা আমরা প্রত্যক্ষ করছিলাম গত ১৫ বছর।


তাই এ মুহূর্তে বিএনপি যদি পি আর পদ্ধতি মেনে না নেয় তবে আন্দোলনের অংশীজন হিসেবে এই তিন দল নির্বাচন পরবর্তী সরকার কাঠামো নিয়ে একটা সমঝোতায় আসতে পারে। যদি নতুন সরকার জাতীয় আকাঙ্খা পূরণে ব্যর্থ হয় তবে তারা সরকার থেকে পদত্যাগ করে রাজপথে নেমে আন্দোলনে শামিল হয়ে অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে পারে। তাই জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এ মুহূর্তে একটা নির্বাচনী সমঝোতার বিকল্প নেই। অন্যথায় জাতির আকাশে আমি এক ঘোর অন্ধকার লক্ষ্য করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category