গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক ক্ষতির শিকার হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজন এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সহায়তার অংশ হিসেবে মঞ্জুরিকৃত অর্থের আর্থিক সহায়তার চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) গাইবান্ধা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে এ সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিআরটিএ গাইবান্ধা সার্কেল সূত্র জানায়, সড়ক পরিবহন আইন ও ট্রাস্টি বোর্ডের সহায়তার আওতায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জন ব্যক্তির পরিবারকে জনপ্রতি ৫ লাখ টাকা এবং দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কিন্তু চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা নেই—এমন ২ জন ব্যক্তিকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৭৬ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে চেক তুলে দেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় দুর্ঘটনায় স্বজনহারা ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা পঙ্গুত্বের ক্ষতি কখনোই কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে এই আর্থিক সহায়তা শোকসন্তপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে এবং তাদের জীবনযাত্রার পথ সহজ করতে সাহায্য করবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব পিপিএম, বিআরটিএ গাইবান্ধা সার্কেলের সহকারী পরিচালক ফয়সাল হাসান এবং মোটরযান পরিদর্শক কামাল আহমেদ কাজলসহ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ-র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।
দুর্ঘটনায় স্বজনকে হারিয়ে ৫ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন চম্পা খাতুন। চেক হাতে পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় সংসার চালানোর একমাত্র মানুষটির মৃত্যুর পর পুরো সংসারটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় দিন কাটার মতো অবস্থা ছিল। টাকার বিনিময়ে আমার স্বজনকে আর ফিরে পাব না, কিন্তু এই আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এই টাকাটা অন্তত সন্তানদের পড়াশোনা আর সংসারের দুঃসময়ে একটু মাথা গুঁজে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।”
চেক বিতরণ শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে চালক ও পথচারীদের সচেতন হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।