• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন

ঘরের ছেলে প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা

Reporter Name / ৫৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

 

প্রতীক ওমর

বগুড়ার মাটি ও মানুষের কাছে দিনটি এক নতুন যুগের সূচনা। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন, চোখের জল, আর রাজনৈতিক লড়াই শেষে নিজের শেকড়ে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণও করেছেন। এই নেতার বিজয়ে বগুড়া উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আপমর জনগণেল মধ্যে উৎফুল্লতা দেখা যাচ্ছে। এবার বগুড়ার উন্নয়ন হবে। অবহেলার দিন শেষ। বগুড়ায় জন্ম নেওয়াটা বিগত সরকারের কাছে ছিলো অপরাধের মতো। জেলার নাম শুনলে চাকরি হতো না। পদন্নোতি হতো। বৈষম্যের চরম শিখরে ছিলো এই জেলা।
সেই বগুড়ার আকাশে আজ নতুন সূর্যোদয় হলো। মিস্টি আলোর। যে সূর্য দীর্ঘ ১৯ বছর মেঘের আড়ালে ছিল, তা আজ দীপ্যমান। তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশের রাজনীতির ধ্রুবতারা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের গ্লানি মুছে, চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে তিনি ফিরেছেন তার প্রিয় জন্মভূমিতে। তার প্রত্যাবর্তন নতুন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
তারেক রহমানের গত দুই দশকের জীবন ছিল কণ্টকাকীর্ণ। ফ্যাসিবাদের চরম আস্ফালনে তাকে দিনের পর দিন বিদেশের মাটিতে কাটাতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। ওয়ান ইলেভেনের সেই ভয়াবহ নির্যাতন এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন আমলে তার ওপর নেমে এসেছিল অবর্ণনীয় নিপীড়ন। শত শত মামলা, ফরমায়েশি রায় এবং একের পর এক ষড়যন্ত্র তাকে দমাতে পারেনি।
লন্ডনের প্রবাস জীবনে থেকেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য দেশের মানুষের কথা ভুলে যাননি। প্রযুক্তির সহায়তায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন, দলকে সুসংগঠিত করেছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর যখন দেশের মানুষ নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেল, তখনও নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় তার ফেরা বিলম্বিত হয়েছিল। কিন্তু সত্যের জয় অনিবার্য। সকল বাধা পেরিয়ে তিনি যখন দেশের মাটিতে পা রাখলেন, তখন সৃষ্টি হলো এক আবেগঘন মুহূর্তের।
এরপর ১৯ বছর পর গেলো ২৯ জানুয়ারি বগুড়ায় পা রেখেন তারেক রহমান। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি হারিয়েছেন তার ছায়াসঙ্গী, প্রিয় ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে। বিদেশের মাটিতে ভাইয়ের মৃত্যু এবং দেশে নিয়ে আসার সেই করুণ স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে তার মমতাময়ী মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে।
দু:খ আর শোককে সাথে নিয়ে তারেক রহমান নির্বাচনের মাঠে বাংলাদেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত দাপিয়ে বেড়িয়েছেন নিরলসভাবে। ক্লান্ত তার চেহারাকে মলিন করতে পারলেও থামাতে পারেনি। যার ফলসূতিতে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করলেন। হলেন নতুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রি।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তা বিশ্বের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে বিরল। সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের দুঃসহ স্মৃতি মুছে ফেলে মানুষ বেছে নিয়েছে উন্নয়নের নতুন কারিগরকে।
বগুড়ার প্রতিটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তার দলের প্রার্থীরা। দেশের প্রতিটি প্রান্তে ধানের শীষের জোয়ারে ভেসে গেছে প্রতিপক্ষ। এই বিজয় মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জয়। তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রী। তার পিতা শহীদ জিয়াউর রহমান যেভাবে আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তারেক রহমানও আজ সেই একই পথে হাঁটার শপথ নিয়েছেন।
আনন্দবন্যায় ভাসছে বগুড়া: বগুড়ার সন্তান দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই খবরে বগুড়াবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের হিল্লোল। শহরের সাতমাথা থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের প্রতিটি চা দোকানে এখন একই আলোচনা। বগুড়াবাসীর আবেগ আজ বাঁধভাঙা। তারা মনে করেন, তারেক রহমানের বিজয়ের মাধ্যমে কেবল বিএনপির বিজয় হয়নি, বরং বগুড়ার সম্মান পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জিয়া পরিবারের প্রতি এই জনপদের যে অকৃত্রিম ভালোবাসা, তা আজ আবারও প্রমাণিত হলো।
উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়া ও আগামীর প্রত্যাশাজুড়ে তারেক রহমানকে সামনে রাখছেন এই জনপদের সাধারণ মানুষ। বিগত সরকারের আমলে বগুড়া ছিল উন্নয়নের দিক থেকে চরম অবহেলিত। রাজনৈতিক কারণে এই জেলাকে সুপরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং শিল্প খাতে বগুড়া যে সম্ভাবনার দাবিদার ছিল, তা পূরণ হতে দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের দাবি ছিল বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করা, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নত বিমানবন্দর এবং আধুনিক কলকারখানা।
এখন যখন তারেক রহমান দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন, তখন বগুড়াবাসীর প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী। তারা বিশ্বাস করেন, তাদের ঘরের সন্তান তাদের এই বঞ্চনার অবসান ঘটাবেন। উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বগুড়া তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে। তারেক রহমানের ভিশন আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বগুড়া থেকেই বাস্তবায়িত হতে শুরু করবে বলে সাধারণ মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস।
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর বগুড়ার মানুষ তার কাছে আশা করেন বগুড়াকে ঘিরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। বিসিক শিল্পনগরীর আধুনিকায়ন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে নতুন নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন। কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন। বগুড়ার সবজি ও শস্য যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য বিশালাকার হিমাগার এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র তৈরি। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু। বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপন, যা উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারা বিশ্বের আকাশপথের যোগাযোগ নিশ্চিত করবে।
এছাড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখতে চায় বগুড়ার মানুষ। শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বগুড়াকে একটি নলেজ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আবেদন আছে। ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবী আছে খেলা প্রেমিকদের থেকে। ক্রীড়াকে উন্নয়ন করতে পারলে দেশের অর্থনীতির মূল শক্তিকে আরো গতি দিতে পারবে। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় চায় বগুড়ার মানুষ। তথ্যপ্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় এই অঞ্চলে তরুণদের কর্মমূখী করে গড়ে তুলবে।
এরপর শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজকে আরও উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা। প্রশাসনিক সংস্কার ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করার প্রয়োজন অনুভব করে বগুড়ার মানুষ। তারেক রহমান নিজেও বারবার ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলেছেন।
বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচিয়ে নতুন এক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো শহীদ জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানের হাতধরে। এই বিপুল বিজয় আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার পথে এক চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি। বাংলার প্রতিটি প্রান্তে আজ যে নতুন আশার আলো জ্বলে উঠেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। উন্নয়নের মহাসড়কে বগুড়াকে সঙ্গে নিয়ে গোটা দেশকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবেন তিনি, এটাই এখন সময়ের দাবি এবং সাধারণ মানুষের ঐকান্তিক প্রার্থনা। নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বাংলাদেশ ফিরে পাবে তার গণতান্ত্রিক মর্যাদা আর বগুড়া ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category