• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

গার্ডিয়ানের রিপোর্ট: ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের দাবির পর মার্কিন তেল জায়ান্টরা নীরব

আলোচনা বিশ্ব / ৭৭ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পর দেশটির তেল শিল্প পুনর্গঠনে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ বিনিয়োগ করবে মার্কিন কোম্পানিগুলো। কিন্তু তার এমন দাবির বিষয়ে এখনো নীরব মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো। এ খবর দিয়ে অনলাইন গার্ডিয়ান বলছে, ভেনেজুয়েলায় এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন জানিয়েছে, তারা ‘প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিনিষেধ মেনে’ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে; যদিও ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো তার পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকবে। ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদ, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলভাণ্ডার বলে ধারণা করা হয়, তা আধুনিকায়ন করা হবে। তার দাবি, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেঙেপড়া অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণ করবে, উৎপাদন বাড়াবে এবং ‘বিপুল পরিমাণ তেল অন্যান্য দেশে বিক্রি করবে’।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তেলের ব্যবসায় আছি। আমাদের বিশাল মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে যাবে। বিলিয়ন ডলার খরচ করবে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ঠিক করবে এবং দেশটির জন্য অর্থ আয় শুরু করবে।’ তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলোকে পরবর্তীতে ‘ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে’। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ওদিকে এক্সনমোবিল মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। কনোকোফিলিপস বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে এত তাড়াতাড়ি মন্তব্য করবে না। শেভরন জানিয়েছে, আমরা কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছি।
প্রায় ৫০ বছর আগে ভেনেজুয়েলা তেলশিল্প জাতীয়করণ করে। ২০০৭ সালে বেসরকারি অংশীদারিত্বে থাকা প্রকল্পগুলোও সরকার নিয়ন্ত্রণে নেয়। শেভরন থেকে গেলেও
এক্সনমোবিল এবং কনোকোফিলিপস নতুন শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তারা ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই করে এবং আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত তাদের বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়। তবে ভেনেজুয়েলা এখনো পুরো অর্থ শোধ করতে পারেনি নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত হওয়ার কারণে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, দেশটি মার্কিন সম্পদ ‘চুরি করেছে’। আর এখন সেই সম্পদ ‘ফেরত নেওয়ার’ ঘোষণা দিয়েছে।

অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্প যে মার্কিন তেল জায়ান্টদের ভূমিকা নিয়ে এতটা নিশ্চিত, তাতে ধারণা করা যায় যে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আগেই আলোচনা হয়েছে। রিস্ট্যাড এনার্জির জিওপলিটিক্যাল বিশ্লেষক হোর্হে লেয়ন বলেন, আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি প্রকাশ্যে এমন কথা বলেন, তবে নিশ্চয়ই মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আগেই সমঝোতা হয়েছে তার। তবে তিনি সতর্ক করেন, ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়ে বড় বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানিগুলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখতে চাইবে। শাভেজ কয়েক বছর আগে এই শিল্প জাতীয়করণ করেছিলেন, বিষয়টি এখনো তাদের মনে ভিড় করে। ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদন একসময় প্রতিদিন ৩.৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছিল। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যারেলে। আবার ২ মিলিয়ন ব্যারেলে ফেরাতে অন্তত ১১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকদের অনুমান।

লেওন বলেন, কোম্পানিগুলো এখন খুব বাছাই করে বিনিয়োগ করবে। বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ বাড়ছে, দাম কমছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় তারা সহজে যাবে না।
তবে অন্যরা মনে করেন, ভেনেজুয়েলা এখনো বিশাল সুযোগের জায়গা এবং বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। কর্পোরেট মহলে আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়ার অভিজ্ঞতা এখনো স্মরণীয়, যেখানে শাসক পতনের পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। টিনা ফোর্ডহ্যাম বলেন, স্বৈরাচার পরবর্তী রূপান্তরের ইতিহাস খুব জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি। কিন্তু ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, তার নেতৃত্বে ফলাফল আলাদা হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category