এস.খন্দকার
জীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যেমন: চাল, ডাল, লবণ ইত্যাদির জন্য কোন বিজ্ঞাপনের দরকার হয় না। কিন্তু একজন ছাত্রের ব্যবহার্য সাইকেল দেখে আর অন্য ছাত্রের সাইকেল কেনার আগ্রহ দেখাতে পারে। পাশের বাড়িতে টেলিভিষণ দেখে তা কেনার আগ্রহ হতে পারে। যদি পণ্যদ্রব্য কিংবা কোন জিনিস কেনার বাজারে বিকল্প কোম্পানী বা মাধ্যম পাওয়া যায়, তখন ঐ ক্রেতা সাধারণের দ্রব্যগুণ যাচাই বা ভালো জিনিস কেনার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, তখনই কোম্পানীর মালিক বা জিনিসের যোগানদাতা তার পণ্য দ্রব্য ক্রয় করার বা বেশী বাজার জাত করার মানসিকতায় বিজ্ঞাপনের আশ্রয় গ্রহণ করেন। ক্রেতার চিন্তা ও মননশীলতাকে কোন জিনিসটি কিনবো, সেই অভাবটুকু পুরণ করে বিজ্ঞাপন দিয়ে। এটার জন্য বিজ্ঞাপন দরকার।
বর্তমান তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে ব্যবসায়ের সাফল্য অর্জন করার জন্য যেমন প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, তেমনি প্রয়োজন উংপাদিত সামগ্রীর বিক্রয়ের বাজার সৃষ্টি ও সংগঠন বজায় রাখার প্রচেষ্টা। এ কাজে বিজ্ঞাপনের সাহায্য অত্যাবশ্যক। ব্যবসায়ের সফলতার সঙ্গে বিজ্ঞাপন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটা উংপাদিত পণ্য বাজার জাত করার পর ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ তৈরী করে বিজ্ঞাপন। পণ্য উংপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন অত্যন্ত যৌক্তিক ভাবে কোম্পানীর পরিচিতির মাধ্যমে বিক্রি করতে সহায়তা করে থাকে। এটা কোন বাড়িতে গিয়ে নয়, এটা রেডিও এবং টেলিভিশন ও সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তাই ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন যুক্তিযুক্ত।
বিজ্ঞাপনের শব্দগত অর্থ জানানো, বিদিতকরণ বা বিশেষরূপে জ্ঞাত করান। কোন কিছু জনসাধারণকে বিশেষ ভাবে জানানোর জন্যই বিজ্ঞাপন। একটি উৎপাদিত দ্রব্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যখন উৎপাদিত হয় তখন সে তা বাজারজাত করতে চায়। এই পণ্য দ্রব্য সম্পর্কে ক্রেতাকে জানানোর জন্য বিক্রেতা বিজ্ঞাপনের সাহায্য নেন। কোন জিনিসের জন্য যখন বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তখন তার পিছনে উদ্দেশ্য থাকে ক্রেতা সৃষ্টি করা বা খুঁজে বের করা। আমরা কেউ কিছু বিক্রয় করতে চাই, আবার কেউ আছে যে কিছু কিনতে চাই। বিজ্ঞাপনের সাহায্যেই তা সম্ভব। সুতরাং ব্যবসার সাফলতা ও তার পরিচিতি বিজ্ঞাপনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সেই দিক দিয়ে ব্যবসার সাথে বিজ্ঞাপনের সম্পর্ক নিবিড়। বস্তুত: সাধারণ ভাবে সূত্র নির্ধারণ করতে গেলে কোন কিছু ক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য সাধারণ যে ঘোষণা তাকেই বিজ্ঞাপন বলে। কিন্তু বিজ্ঞাপনের চরিত্র ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করলে আরও কতকগুলো বিষয় আমাদের সামনে আসে। কোন পণ্যের ক্রয় বা বিক্রয় করাই শুধু বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য নয়। ব্যবসা বাণিজ্য জগতে নানা কারণে বিজ্ঞাপনের সাহায্য গ্রহণ করা হয়। প্রথমত: নতুন কোন পণ্য উৎপন্ন হলে বিক্রেতা বিজ্ঞাপনের সাহায্যে তা ক্রেতা সাধারণকে পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে জ্ঞাত করায়। দ্বিতীয়ত: বারবার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিক্রেতা তার পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে ক্রেতা গণের দৃষ্টি আকর্ষন করেন, ফলে পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হয়ে থাকে। তৃতীয়ত: বিজ্ঞাপনের সাহায্যে কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তার উৎপাদিত পণ্যের গুণাগুণ পরিবর্তন এবং মূল্য পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে ক্রেতাকে উক্ত পণ্য সম্পর্কে আকৃষ্ট করে থাকেন। চতুর্থত: কোন পণ্যের বিক্রয় অব্যহত রাখার জন্য বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা হয়। পঞ্চমত: উৎপাদক যে পণ্য উৎপাদন করে তা বেশ কয়েকটা হাত ঘুরে খুচরা বিক্রেতার হাতে পৌছায়।
উৎপাদনকারীকে নানা ভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে ঐ সব খুচরা বিক্রেতাকে সন্তুষ্ট রাখতে হয়। বিজ্ঞাপন হলে তারা পন্য বিক্রয়ের সুযোগ পায়, তাদের মধ্যে বিশ্বাস আসে। ৬ষ্ঠত: পন্য বিদেশে রপ্তানীর জন্য দেশ বিদেশের বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিভিন্ন সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয়। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের যে সমস্ত উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে, তা থেকেই বোঝা যায় ব্যবসায়ে বিজ্ঞাপনের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু। এ ছাড়াও বিজ্ঞাপন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সহায়ক না হয়ে মূল্য হ্রাসের সহায়ক হয়।
বিজ্ঞাপনের ফলে বিক্রয় বেড়ে যায় এবং এর ফলে লগ্নী করা টাকা তাড়াতাড়ী ঘুরে আসে। বিক্রয়ের পরিমান বাড়লে এবং লগ্নীকৃত অর্থ ঘুরে আসবার সময় সীমা কমলে পণ্যের দাম কমানো যায়। বিজ্ঞাপন বিক্রয়িতার (ঝধষবংসধহংযরঢ়) পরিপূরক। কারণ বিজ্ঞাপনের দ্বারা ভোগ্য পণ্য ব্যবহারকারীর মন যদি প্রভাবিত হয়ে থাকে তবে বিক্রেতার পক্ষে পণ্য বিক্রয় সহজ হয়। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোন কোন কোম্পানী এমন ব্যবসায়ীক সুনাম অর্জন করে যে, সেই কোম্পানী যে কোন ও পণ্য উৎপাদন করে সেটাই সহজে চালু হয়ে যায়। সুতরাং ব্যবসায়ের সাথে বিজ্ঞাপনের সম্পর্ক প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক। কিন্তু সব সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন নেই।যেমন: সমাজতান্ত্রিক দেশ সমূহে, এসব দেশে মানুষের যে পণ্যের প্রয়োজন ঐ জাতীয় একাধিক পণ্য উৎপাদন করা হয়না । কোন পণ্যের প্রয়োজনে শুধুমাত্র একটি পণ্যেরই উৎপাদন করা হয়। জনগণের সামনে কোন পণ্যের বিকল্প না থাকায় এখানে বিজ্ঞাপনের কোন প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র পুঁজিবাদী দেশ সমূহেই একটি পণ্যের বিকল্প হিসাবে একাধিক পণ্য উৎপন্ন করা হয়। সুতরাং এসব দেশসমূহে ব্যবসায়ের সুবিধার জন্য জনগণকে বিভিন্ন পণ্যের মধ্য থেকে কোম্পানীগুলো তাদের নিজেদের উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করার জন্য বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে থাকেন। সুতরাং এসব দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বিজ্ঞাপন ব্যবহার অতি প্রয়োজনীয়।
বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য হচ্ছে কোন পণ্য সম্পর্কে তথ্য দেওয়া, ক্রেতাকে পণ্য ক্রয় করতে প্ররোচিত করা এবং পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে ক্রেতা সাধারণ কে অবহিত করা। বিজ্ঞাপন পণ্য সম্পর্কে যে তথ্য দেয় তা মাত্র বিবৃত বা বর্ণনা করে। এই বিবৃত সত্য বা মিথ্যা হতে পারে। বিজ্ঞাপনে সত্যতা কতটুকু আছে তার উপরই নৈতিকতা নির্ভর করে। এ পর্যায়ে সত্য মিথ্যা ও বৈধ অবৈধ এর ভিতরে যে পার্থক্য আছে তা তুলে ধরাই হলো আসল কাজ। সত্য হলো তাই যে সত্যকে বোঝা যাবে, অসত্য অথবা মিথ্যার সাথে এর বৈপারিত্ব্য পদর্শন করে। অসত্য হচ্ছে তাই, যার সাথে বাস্তবতার কোন যোগ বা মিল নেই। তবে এর ক্ষতিকারক দিক নাও থাকতে পারে; যেমন আমরা সবাই জানি একজন সাহিত্যিক যখন গল্প লিখেন তখন বাস্তবতার সাথে সম্পর্ক নাও থাকতে পারে; কিন্তু তৎসত্তেও গল্পটি কোন ক্রমে ক্ষতিকর নয় বরং তা আমাদেরকে আনন্দই দান করে। অপর পক্ষে মিথ্যা সব সময়ই ক্ষতিকারক। এটা এক ধরনের কাজ। তখনই আমরা মিথ্যা বলি যখন এমন কোন বিবৃতি দেই, যাকে অসত্য বলে আমরা জানি এবং আশা করি যার উদ্দেশ্য এই বিবৃতিটি আমরা দিচ্ছি সে তাকে সত্য বলে গ্রহণ করবে। কেননা যাকে আমি সত্য বলে নিজে বিশ্বাস করিনা তাই আমি বলি এবং কাউকে প্রতারিত করার জন্য তাই আমি বলি। কোন বিবৃতি বা বচণের সত্যতা বা মিথ্যতা নির্ভর করে জগতের উপর। কোন বচন মিথ্যা কিনা তা নির্ভর করে বক্তার অভিপ্রায়ের উপর। বিজ্ঞাপন তখনই নৈতিক ভাবে অগ্রহণযোগ্য হবে, যখন এটা মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ এর উপর একটা প্রতারণার অভিপ্রায় থাকবে। যদি কোন বিজ্ঞাপন সত্য এবং অসত্য হয় তাহলে তা নৈতিক ভাবে সমর্থন যোগ্য। আর এটার মধ্য যদি কেবল মাত্র অসত্য ভাষায় থাকে তাহলে তা হবে অনৈতিক। বিজ্ঞাপন দাতা যদি তার পণ্যের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাকে প্ররোচিত করে তাহলে এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন নীতি সম্মত হবেনা। কসমেটিক মানুষের সৌন্দর্য বাড়ায়। এখানে প্রচার করা হলো ’ফেয়ার এন্ড লাভলী” নিয়মিত ব্যবহার করলে রং আরো ফর্সা করে, চিত্র তারকা বা রাণীর মত দেখা যাবে”, এখানে খুব বেশী অন্যায় হবে না, কেননা তাতে কিছুটা সৌন্দর্য বাড়ায়; কিন্তু যদি বলা হয় কালো মানুষকে ফর্সা করবে, তাহলে তা অনৈতিক ও মিথ্যা হবে। লাক্স সাবানের বিজ্ঞাপনের সময় বিভিন্ন চিত্র তারকাদের দেখানো হয়, এই বিজ্ঞাপনে এমনটা বোঝানো হয় যে, লাক্স সাবান ব্যবহার করলে চিত্র তারকাদের মত হওয়া যায়। কিন্তু আসলে লাক্স সাবানের মধ্যে এমন কোন গুণ নেই যা চিত্র তারকা হওয়ার জন্য সহায়ক। তাই এ ধরনের বিজ্ঞাপন অনৈতিক এটা এক ধরনের কৌশল মাত্র। অসত্য বচনের মধ্যে বিজ্ঞাপন নীতিসম্মত হতে পারে, যদি তার পিছনে কোন অসৎ উদ্দেশ্য না থাকে। এই হিসেবে বিজ্ঞাপন রূপক ভাষায় ব্যবহার কোন অনৈতিক কিছু নয়।
যেমন – গাড়ীর তেলের বিজ্ঞাপনে একটি কোম্পানীর এক সময় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল- ”ঊংংড় পড়ঁৎংব রহ ঃরমবৎ ড়ভ ঃধহশ “ অর্থাৎ ”গাড়ীর তেলের ট্যাংকের ভিতর বাঘ ধরে রাখছে”। তেলের শক্তি এমন যে তা গাড়ীকে বাঘের মত ক্ষিপ্রতা দিবে। বাস্তবে গাড়ীর তেলের ট্যাংকে বাঘ রাখা যায় না। কিন্তু রূপক ভাবে বুঝার জন্য কতকগুলো প্রতিক ব্যবহার করা অনৈতিক হবে না। তবে বিজ্ঞাপনের সাথে তা সংগতিপূর্ণ হতে হবে। আবার বৈদ্যুতিক পাখার বিজ্ঞাপনে প্রায়ই বলা হয়; এর ক্ষেত্রে ক্রেতাকে হীম শীতল পরশ এনে দেবে।
বাস্তবে কোন পাখারই বাতাস কখনো হীমশীতল নয়। এটা রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়। তাই এই বিজ্ঞাপন অনৈতিক নয়। বিজ্ঞাপনে মিথ্যার (ষরবরহম) ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের একটা ব্যাপার আছে, মিথ্যার ক্ষেত্রে ব্যক্তি সর্বদা বিশ্বাস করে যে, জিনিসটা ভালো নয়, যেমন : একজন ব্যবসায়ী বিজ্ঞাপন করলো ” পাকা চুল কালো করার জন্য কলপের দরকার নেই, তার আবিস্কিৃত তেল দিলেই ভালো হয়ে যাবে। এখানে বিজ্ঞাপন দাতা জানতো যে তার তেলে চুল কালো করে না। এ ধরনের বিজ্ঞাপন অনৈতিক। আবার একজন স্বপ্নে একটা ঔষধ পেল, পরে বললো যে, বিনা দামে সে সবাইকে এই ঔষধটি দিবে। কোন দাম সে নিবে না। এখন যদি ঔষধে রোগ না সারে তাহলে সেটা অনৈতিক হবেনা। কোন বক্তব্য না দিয়েও মানুষকে (ফবপবরাব) প্রতারিত করা যায়। যেমন : একটা গাড়িতে নায়ক নায়িকা বসিয়ে দিয়ে একটি সুন্দর দৃশ্যপূর্ণ জায়গায় চালিয়ে দেয়া হলো। লোকজন মনে করলো নায়ক নায়িকা যা ব্যবহার করে তা নিশ্চয়ই ভালো এটা প্রচার করা হলো। এ ধরনের মৌন প্রতারনা মূলক বিজ্ঞাপন অনৈতিক।
আলাউদ্দিনের মিষ্টি, আলাদিনস এর মিষ্টি, একই ধরনের প্যাকেট। এটা শুনতে একই মনে হয়, কেবল বানান পৃথক। সাধারণ মূর্খ মানুষকে ঠকানো বা তাদেরকে প্রতারিত করার জন্য এ কৌশল অবলম্বন অনৈতিক বটে। বিজ্ঞাপন যদি ক্রেতাকে কৌশলে ঠকায় বা তাড়িত করে তাহলে এ ধরনের বিজ্ঞাপন নৈতিক হবে না। যেমন- সীবাগেইগীর বিষন্নতা সম্পর্কিত বিজ্ঞাপনটি। বিজ্ঞাপনটিতে বলা হয়, বিষন্নতা একটি রোগ এবং যদি এ রোগ আপনার হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কিন্তু যখন কোন ব্যক্তি ডাক্তারের নিকট যায়, তখন সীবা গেইগীর নির্দেশিত ডাক্তার ঐ কোম্পানীর কিছু ঔষধের কথা বলে দেন। অতি কৌশলে ফন্দী ফিকিরের মাধ্যমে সীবা গেইগী জন সাধারণকে তাড়িত বা প্রতারনা করছে, ফলে এ ধরনের বিজ্ঞাপন নৈতিক নয়। যদি এমন কোন বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা হয়, যার দ্বারা ক্রেতাগণ বিপথগামী হয় তাহলে বিজ্ঞাপনটি নৈতিক হবে না। যেমন : একটি বিজ্ঞাপনে বলা হলো ”বিষ,” খেলে রোগী দ্রুত নিরাময় লাভ করে। কিন্তু ঠিক তার উল্টো টাই হয়। এ ধরনের বিজ্ঞাপন নৈতিক নয়। এমন কোন পণ্য আছে যেখানে পণ্যের গায়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া সম্ভব নয় – সেই ক্ষেত্রে বিবৃতিহীন পণ্য বিজ্ঞাপন করা নৈতিক হতে পারে। যেমন, নেইল পালিশ। কোন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যদি ক্রেতাকে পণ্য কিনতে বাধ্য করা হয়, তা হলে বিজ্ঞাপনটি অনৈতিক হবে।
কিন্তু যদি শুধু ক্রেতাকে প্রভাবিত করে তাহলে সেটা নৈতিক হবে। যেমন : কোন কোন বিজ্ঞাপন আছে যা অল্প বয়স্ক শিশুদের উদ্দেশ্যে দেয়া হয়, অথচ অল্প বয়স্ক শিশুরা কখনো নিজেরা কোন জিনিস কিনে না, তাদের কোন পছন্দ করার ক্ষমতা থাকে না। তাই তারা বাধ্য করে তাদের পিতামাতাকে বিজ্ঞাপিত জিনিস কিনতে। এটা জবরদস্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি বিজ্ঞাপনে এমন কোন পণ্যের ব্যবহার দেখানো হয়, যা ক্রেতার মনের সঙ্গে সংযোগ ঘটায়, তা হলে সে বিজ্ঞাপনটা নৈতিক হবে। কোন কোম্পানী যদি তার পণ্যের শুধু ভালো দিক টাই বিজ্ঞাপনে দেখায়, কিন্তু তার খারাপ দিকটি সম্পর্কে বিজ্ঞাপনে কোন তথ্য দেয় না, অথচ ঐ পণ্যের খারাপ দিকও রয়েছে এসব বিজ্ঞাপন নৈতিক হবে না। তাই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখান উচিত। অনেক সময় বিজ্ঞাপনে এমন সব সত্য কথা বলে যা দৈবক্রমে সত্য বলে পরিগণিত হতে পারে এটা অনৈতিক। সুন্দরী নারী দিয়ে টুথপেষ্ট বিক্রি করা কিংবা ইমরান খানকে দিয়ে কোকাকোলা খাওয়ানোতে দর্শককে প্রভাবিত করা হয়, এ ধরণের প্রভাবিত করে পণ্য বিক্রয় করা অনৈতিক।
মনের সাথে বস্তুর সংযোগ । এটার একত্রে একটা অনুসঙ্গের ধারণা হলে তা অনৈতিক হবে না। কোন কোম্পানী যদি নিজেকে পরিচিত করতে চায় তাহলে তা অনৈতিক কিছু না। যে কোম্পানীর নামটাই প্রাধাণ্য পায়, তা কোন অনৈতিক কিছু না। যেমন – কোহিনুর শিল্পগোষ্ঠী” তাদের পণ্যের প্রচারের চেয়ে কোম্পানীর প্রচারটা বেশী করে থাকে। বিজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্য পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি, বাজারের সম্প্রসারণ। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ব্যাপার ও আছে। তাই অনেক সময় বিজ্ঞাপন দাতারা এ সব প্রচার কৌশল অবলম্বন করেন যা নীতিগত ভাবে সমর্থন যোগ্য নয়। অসাধু ও কুরুচির বিজ্ঞাপন দেওয়া শুধু নীতিগত দিক থেকেই নিন্দনীয় নয়, এই ধরণের বিজ্ঞাপন দেওয়া সম্পূর্ণ আহমুকী। জিনিস টি খারাপ নয়। যেমন : কাস্ত কৃষকের এটা একটা প্রয়োজনীয় অস্ত্র, কিন্তু কৃষক যদি তা দিয়ে শস্য না কেটে কারও গলা কেটে ফেলে, তবে সে দোষ কাস্তের নয়, ঐ কৃষকের। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও এই কথাটি প্রযোজ্য।
একথা ঠিক যে কিছু সংখ্যক প্রতারক আছে, যারা বিজ্ঞাপনের সাহায্যে ক্রেতাদের ভুল বুঝিয়ে পয়সা উপার্জন করে; বা পণ্য সম্পর্কে মিথ্যা বিবরণ তুলে ধরে। আবার এমন কিছু লোক আছে যারা পণ্যের প্রতিযোগিতায় সাফল্য লাভের আশায় তাদের পণ্য সম্পর্কে অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচার করে। এধরনের বিজ্ঞাপনকে বন্ধ করার জন্য অনেক দেশেই আইন আছে। অর্থাৎ এমন ভাবে আইন করা হয়েছে যে, কোন পণ্য সম্পর্কে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করার চেষ্টা করলে তাদের শাস্তি দেবার ব্যবস্থা করা যায়। বিজ্ঞাপনদাতাকে তার প্রচার যাতে কার্যকর হয়, তার জন্য নানা উপায় অবলম্বন করতে হয়। শুধু কথাই নয়, ছবি ব্যবহার করতে হয়, বেতারে বা টেলিভিশনে অভিনয়ের ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু এই ছবি ব্যবহার বা অভিনয়ের দৃশ্যে যৌন আবেদন বা অশ্লীল ছবি প্রদর্শনী কোন ভাবেই নৈতিক নয়। বিজ্ঞাপনকে অবশ্যই রুচিসম্মত হতে হবে। বিজ্ঞাপন দাতাদের প্রচারকার্যের অবশ্যই স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু তার অপব্যবহার মটেই নৈতিক নয়। মোট কথা বিজ্ঞাপন তখনই নীতি সম্মত হবে, যখন এর মধ্যে থাকবে কোন উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার একটা সৎ প্রচেষ্টা। মানুষ কে ঠকিয়ে বিত্ত সঞ্চয়ের বাসনাই একে করে তোলে অনৈতিক।