• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

গোলটেবিল বৈঠক: ‘পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটির সাথে আমাদের ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি দরকার’- একে আজাদ

Reporter Name / ৭৩ Time View
Update : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫

এই প্রত্যাশা কথাটা বলতে গেলেই প্রথমেই প্রত্যাশার বিভিন্ন সেক্টরের বিষয় আসে। প্রত্যাশা একেক মানুষের কাছে একেক রকম, একেক সময়ে একেক রকম। যেই ছেলেটা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে, তার কাছে একটা প্রত্যাশা। যেই ছেলেটা ক্লাস থ্রিতে ভর্তি হওয়ার জন্য যুদ্ধ করছে, তার কাছে এক রকমের প্রত্যাশা। যেই বিজনেস ম্যাগনেট পাজেরো গাড়ি নিয়ে ঘুরে কিন্তু তার সময়ের অভাবে দূরবর্তী জায়গায় যেতে পারে না, তার জন্য একটা হেলিকপ্টার দরকার, সেটা তার একটি প্রত্যাশা। তার মানে পরিবেশ, পরিস্থিতি এবং সময়ের প্রেক্ষিতে প্রত্যাশা পরিবর্তিত হয়।


আমরা এখন এই প্রত্যাশার কথা কেন বলছি? আজকে আমরা বারবার গলা ফাটিয়ে একটা কথা বলি যে, আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, যুদ্ধ করেছি। এরপর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি, করে আমরা একটা পর্যায়ে এসেছি। এই পর্যায়ে এসে, তার মানে একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের প্রত্যাশা। তাহলে বুঝতে হবে যে, আমরা কোথায় ছিলাম? কি কি প্রবলেম ছিল? হোয়াট ওয়্যার দ্যা প্রবলেমস উইথ দি পাস্ট গভর্নমেন্ট?
একটা দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজনীতিকে এবং প্রশাসনকে ঢেলে সাজাবার জন্য রাজনৈতিক দলের কোনো বিকল্প নাই গণতান্ত্রিক পন্থায়। সুতরাং আমাদের বিশ্বাস যে, রাজনৈতিক পন্থাতেই আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে, এই বিষয়টা আজকের মূল প্রতিপাদ্য। যেহেতু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা আসছে, তার মানে গণতান্ত্রিক পন্থায় যে নির্বাচনের কথা আসে, সেই নির্বাচনে সামনে কারা আসছে, কি ধরনের কাজ করছে, তাদের ওপরে আমাদের প্রত্যাশার কথা। আজকে ভালো হতো যদি বিভিন্ন পলিটিক্যাল পার্টির লিডাররা এখানে থাকতেন, যারা স্টেকহোল্ডার এবং যারা সিদ্ধান্ত নেন, তারা যদি থাকতেন তাহলে আমাদের এই কথাগুলো আজকে তাদের কানে আমরা সহজে পৌঁছাতে পারতাম।

 


বিভিন্ন পর্যায়ের লোকদের কথা আমাদের সম্মানিত প্রবন্ধকার তুলে নিয়ে আসছেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেস স্টাডি উনি উপস্থাপন করেছেন, তাদের প্রত্যাশার কথা বলেছেন। তবে একটা কথা বারবার এসেছে, সেটা হচ্ছে যে, আমরা কোনো দুর্নীতি চাই না, আমরা কোনো রিপিট জুলাই রিভোলিউশন চাই না। তার মানে আকণ্ঠ দুর্নীতি আমাদের সমাজ, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের রাজনীতি, আমাদের সবকিছুকে নষ্ট করে দিচ্ছে। এই বিষয়টা আমাদের খেয়াল করতে হবে।
আমাদের সাধারণ জনগণ এখানে চায় ন্যায় বিচার, ল এনফোর্সমেন্ট। তারা চায় এখানে সঠিক আইনের প্রয়োগ। তার মানে বোঝা যাচ্ছে এখানে সঠিক আইনের প্রয়োগ হয় না, সঠিক বিচার হয় না। তাহলে আমাদের প্রত্যাশা এখানে পরিষ্কার যে, আমরা এখানে কিভাবে ল এনফোর্সমেন্ট চাই, কিভাবে আমরা জাস্টিস চাই।

 

সর্বশেষ যে কথাগুলো আমি বলতে চাই, সেটা হচ্ছে যে, আমাদের সম্মানিত সভাপতি মহোদয় তার স্বাগত ভাষণে আমাদের ইতিহাসের কথা বলেছেন। যেকোনো জাতির ইতিহাস, যেকোনো জাতির একটি উন্নয়নের পথে, অগ্রগতির পথে প্রধান যে ভিত্তি, সেটা হলো ইতিহাস। সেই ইতিহাস সুনির্দিষ্ট, নিরপেক্ষ এবং সঠিক হওয়া উচিত।

আমরা বুঝতে পারছি, সেটা হচ্ছে সবথেকে বড় সমস্যা, যারা এই দেশকে পরিচালনা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের ভেতরে যদি অনেস্টি থাকে, তাহলে এই অনেস্টি দিয়ে, এই সততা দিয়ে আমি আমার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারি। তাহলে আমি অবৈধ ক্ষমতা চাইব না, আমি অবৈধভাবে সন্ত্রাস করব না, আমি অবৈধভাবে জবরদখল করব না, এই বিষয়টা হওয়া দরকার।
আমাদের সততার দরকার এবং আমাদের টেকনোলজির দরকার। আমরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে, বিভিন্ন সরকারি অফিসে গেলে বা বিভিন্ন জায়গায় গেলে আমরা বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে আমাদের ঘুষ দিতে হয়। এটা একটা বড় দুর্নীতির একটি অংশ। আমাদের কাজগুলো গতিশীল নয়। বছরের পর বছর, দিনের পর দিন ফাইলগুলো পড়ে থাকে। যদি অটোমেশন হতো, তাহলে অটোমেটিক এখানে কাজ হতো। সুতরাং আমাদের টেকনোলজির সঠিক ব্যবহার যদি আমরা করতে পারি আমাদের বিভিন্ন সেক্টরগুলোতে, এটা কাজ হয়।

এবং আমাদের পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটির সাথে আমাদের ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি দরকার। আমাদের অর্থনৈতিক যদি স্থিতিশীলতা না থাকে, তাহলে এটা সম্ভব না। ছোট্ট একটা দেশ, যেটুকু আয় হয় সেই আয় পুরোটাই খেয়ে যায় আমাদের শকুনেরা। এই শকুনদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
আমাদের যুব সমাজ, যারা গত দিনে বুক চিতিয়ে রক্ত দিয়েছে, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ বলেন, আমাদের ভাষা আন্দোলন বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বলেন, যেখানেই বলেন না কেন, সেখানে যে যুব সমাজ বুক চিতিয়ে রক্ত দেয়, এই যুব সমাজকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে।
সুতরাং আগামী নির্বাচনে যে সমস্ত রাজনীতিবিদরা নির্বাচিত হবেন, তারা যেন দুর্নীতিমুক্ত হন, তারা নিজেদের ভেতরে সকল প্রকার অন্যায় অবিচার থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখেন। এবং যাদেরকে দল বরখাস্ত করেছে বিভিন্ন জায়গায় অপকর্ম করার কারণে, তাদেরকে ডেকে নিয়ে এসে আবার যদি আমরা নমিনেশন দেই, আবার নির্বাচন দেই, তাহলে কিন্তু আবারও এই ধরনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। আমরা সকলেই সুন্দর একটি আগামীর স্বপ্ন দেখি, সুন্দরভাবে যে যার জায়গা থেকে বাংলাদেশকে গড়ার ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা পালন করি।

 

             প্যানেল আলোচক, কবি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category