বর্তমানে দেশের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। নির্বাচন হবে কি হবে না, এই প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মনে ‘মূলোর মতো’ ঝুলছে। তবে উচ্চশিক্ষিত মহলের মতো বড় ধরনের রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক পরিবর্তন সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করে না। তাদের প্রত্যাশা অত্যন্ত সরল ও জীবনমুখী। সাধারণ মানুষের মূল চাওয়া হলো: সামাজিক নিরাপত্তা, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য এবং নৈরাজ্যকর ‘মব কালচার’ থেকে মুক্তি।
সাধারণ মানুষ কেবল দু’বেলা ঠিকমতো খেয়ে বাঁচার নিরাপত্তা চায় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- তারা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে। এই মৌলিক প্রত্যাশাটি আজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত।

বগুড়ার উদাহরণ ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আজ চোখে পড়ার মতো। উদাহরণস্বরূপ, বগুড়া শহরের সাতমাথা মোড় সন্ধ্যা নামার পর আর চেনা যায় না। বিশৃঙ্খল দোকানপাট, মানুষের ভিড় এবং যত্রতত্র যানবাহনের কারণে এই চিত্র তৈরি হয়েছে। এক সময় যেখানে পৌরসভা নির্দিষ্ট স্থানে রিকশা দাঁড়ানোর নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করাতো, এখন থানার সামনে থেকেও রিকশাগুলো নিয়ম ভেঙে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। এই বিশৃঙ্খলার অবসান চায় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
আমাদের বিশ্বাস, বাস্তবভিত্তিক এই চাওয়াগুলো পূরণ করা গেলে এবং আইন-শৃঙ্খলার এই অবনতি রোধ করা গেলে আগামী নির্বাচন এমনিতেই সুস্থ ও স্বাভাবিক হবে। নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ‘লবিং’ বা ব্যক্তিগত সুবিধা চাওয়ার চেয়ে জনগণের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল চাওয়া হওয়া উচিত।
প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও নৈতিক অবক্ষয়:
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত ১৭ বছরে আমাদের দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তাতে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আইনগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। বিগত স্বৈরশাসনের মতো বর্তমান সময়েও প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আজ দুর্বল বা ধ্বংসের মুখে।
আমাদের শিক্ষিত মহলের দেশত্যাগের প্রবণতা উদ্বেগজনক। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমেরিকা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে রাজনীতিবিদদের চেয়ে শিক্ষিত এবং উচ্চপদস্থ আমলাদেরই বাড়ি-সম্পত্তি বেশি। প্রশ্ন জাগে, একজন আমলার একাধিক বাড়ি কেন থাকবে? এই ধরনের নৈতিক অবক্ষয় কীভাবে রোধ করা যাবে?
চাওয়া: সততা ও জবাবদিহিতা:
অবশ্যই একজন অপরাধী বা কসাই রাজনৈতিক দলের আশ্রয় পেলে তাকে যেমন প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। যেমন লিটন পোদ্দারের মতো কেউ। আমরা চাই, আগামী নির্বাচনের পর যে সরকারই আসুক না কেন, তারা যেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সচিব এবং দেশের নীতি নির্ধারকদের সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন। উচ্চ স্তর থেকে সততার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা গেলে, তবেই সমাজের নিচ স্তরের ঘুষ এবং অন্যান্য অনিয়মগুলো আপনা-আপনি কমতে শুরু করবে। জনগণের মৌলিক প্রত্যাশা পূরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই হবে নতুন সরকারের কাছে আমাদের মূল দাবি।