• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন

গোলটেবিল বৈঠক: ‘এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে অর্থনীতি হবে শক্তিশালী, সমাজ হবে মানবিক, আর রাজনীতি হবে জনমুখী;- আব্দুল জলিল

Reporter Name / ১২৮ Time View
Update : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫

সম্মানিত, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্যবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানুরাগী সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম।
আজকের এই পবিত্র প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে, আমি আপনাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আপনারা, যারা এ জাতির জ্ঞানালোকের ধারক ও বাহক আপনাদের উপস্থিতিতে এই মঞ্চ সত্যি আলোকিত। আগামী বাংলাদেশ আমাদের পথরেখা ও গন্তব্য সম্মানিত সুধী, আমরা আমাদের ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলন নিয়ে গর্ব করি, কিন্তু আমাদের চোখ স্থির করে রাখতে হবে ভবিষ্যতের দিগন্তে। আমরা কেবল চ্যালেঞ্জ জয় করা একটি দেশ নই, আমরা সেই জাতি, যারা ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্মার্ট, স্থিতিশীল এবং মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এই ‘আগামী বাংলাদেশ’ হবে চারটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত।


এক. জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও স্মার্ট অর্থনীতি: ১৭আমাদের লক্ষ্য শুধু দ্রুত প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা। উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং গবেষণাই হবে এই নতুন অর্থনীতির প্রাণশক্তি। আপনাদের মতো শিক্ষাবিদ ও তরুণরাই এই স্মার্ট বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে আমরা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মেধা ও সক্ষমতাকে তুলে ধরব।
দুই. জনমুখী উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ: ২১উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব। আমরা এমন এক সুন্দর দেশ চাই, যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমে আসবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা থাকবে সর্বজনীন। আমাদের উন্নয়ন হবে মানুষের জন্য,
প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে।

 

তিন. শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও সুশাসন: আগামী প্রজন্মের জন্য প্রয়োজন এমন একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হবে অলঙ্ঘনীয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হবে দলমতনির্বিশেষে শক্তিশালী, নিরপেক্ষ এবং জনগণের আস্থার প্রতীক।
চার. বৈশ্বিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সক্ষমতা: আগামী বাংলাদেশ শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক শান্তি ও সমৃদ্ধির মডেল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরবে। আমরা বিশ্বশান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করব। একটি সুন্দর দেশ মানে শুধু উঁচু দালান বা মসৃণ রাস্তা নয়। একটি সুন্দর দেশ মানে সুশাসন ও ন্যায়বিচার যেখানে আইন সবার জন্য সমান এবং দ্রুত ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সুনিশ্চিত। মানবিক মূল্যবোধ যেখানে শিক্ষাঙ্গন ও সমাজ হবে দুর্নীতিমুক্ত, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে উজ্জ্বল। শিক্ষার মানন্নয়নঃ যেখানে শিক্ষার গুণগত মান বৈশ্বিক চাহিদা পূরণ করবে এবং আমাদের তরুণদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করবে।

 

এই কলেজ প্রাঙ্গণের তারুণ্যই আমাদের শিখিয়েছে যে, জ্ঞানই শক্তি এবং সততাই উন্নয়নের মূল ভিত্তি। এই মূল্যবোধগুলো ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্মানিত সুধী, আমরা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পর আজ আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের ভিত্তি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া তখনই অর্থবহ হয় যখন ভোটাধিকার হয় নির্ভীক ও স্বাধীন। রাজনৈতিক পরিবেশ হয় সহনশীল ও গঠনমূলক। নাগরিক সমাজ তাদের ভূমিকা রাখতে পারে অবাধে। আমাদের দায়িত্ব হলো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করা। আমরা চাই এমন একটি নির্বাচন, যা আমাদের গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করবে এবং আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথকে আরও সুগম করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ একে অপরের পরিপূরক।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আমাদের অর্থনীতি হবে শক্তিশালী, সমাজ হবে মানবিক, আর রাজনীতি হবে জনমুখী। আসুন, আমরা সকলে মিলে সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের বীজ বপন করি, যেখানে আমাদের তরুণ প্রজন্ম, দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধাররা, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। আপনাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে, এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category