• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

প্রবাহমান প্রাণধারা : নদী সংরক্ষণে আমাদের নৈতিক কর্তব্য

Reporter Name / ৭৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

(অক্টবর -২০২৫, সংখ্যা-০৩)

সুদীপ্ত শামীম

বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই একটি নদীমাতৃক দেশ। ভ‚-প্রকৃতি, কৃষি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে এ দেশের নদ-নদীর যোগ অনস্বীকার্য। ভৌগোলিকভাবে দেখা যায়, প্রায় ১১০০ টিরও বেশি নদী কখনো স্থায়ী, কখনো ঋতুভিত্তিক প্রবাহে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে। তবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ইডউই) হিসাবে বর্তমানে সক্রিয় নদীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪০৫ টির মতো। এসব নদীর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার। অথচ দুঃখজনকভাবে গত কয়েক দশকে ২০০ টিরও বেশি নদী শুকিয়ে গেছে অথবা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীগুলোর প্রাণহানির প্রধান কারণ হচ্ছে- অবৈধ দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, শিল্পবর্জ্য ফেলা, পলিথিন ও প্লাস্টিকের পাহাড়, এবং নদীর তীরে গড়ে ওঠা স্থায়ী-অস্থায়ী অবৈধ স্থাপনা। নদী প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, প্রাকৃতিক প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটছে, পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর ২০২৩ সালের গবেষণায় দেখা যায়, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ নদী দখল ও দূষণের শিকার। অথচ বাংলাদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদীপাড় ও চরাঞ্চলে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বসবাস করছে, যারা প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনে বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। শুধু পদ্মা নদীর ভাঙনে গত ৫০ বছরে প্রায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমি বিলীন হয়েছে। অন্যদিকে, যমুনা নদীর ভাঙনে একই সময়ে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমি হারিয়ে গেছে। গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার পরিবার নদীভাঙনের কারণে গৃহহীন হয়ে পড়ে। ভাঙন শুধু জমি ও ঘরবাড়িই কেড়ে নেয় না, ফসলি জমি, স্কুল-কলেজ, বাজার, মসজিদ-মন্দির সবকিছুই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ে, মানুষকে বাধ্য হয়ে শহরমুখী হতে হয়। নদীর ভাঙন ও শুকিয়ে যাওয়া একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস করছে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য সম্পদকেও বিপন্ন করছে। দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনও কৃষি ও নদী-নির্ভর মৎস্য সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। অথচ নদী সংকটে পড়ায় কৃষিজমিতে সেচের পানি সংকট বাড়ছে, বর্ষায় নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা না থাকায় বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ফলে একদিকে কৃষক ফসল ফলাতে হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে জেলেরা নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাচ্ছে না।

তিস্তা নদী : মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি
তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রাণশক্তি। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৫ কিলোমিটার, যার মধ্যে ১৪০ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে প্রবাহিত। একসময় এই নদী ছিল ভরপুর পানি, ছিল জীবন-জীবিকার অফুরন্ত সম্ভার। কৃষক, জেলে, খেটে-খাওয়া মানুষ, সবার জীবন-জীবিকা এই নদীকে ঘিরেই চলত। কিন্তু আজ তিস্তা তার প্রাকৃতিক রূপ হারাচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে বুক, ভাঙনে ভিটেমাটি হারাচ্ছে মানুষ। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়ে, কৃষিজমি অনাবাদি থেকে যায়। আবার বর্ষায় ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়। শুধু তিস্তা অববাহিকাতেই প্রতিবছর নদীভাঙনে হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। অনেকে এক মৌসুমে দুই-তিনবারও বসতভিটা হারাচ্ছে। কৃষিজমি কমে যাওয়ায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, মানুষ দারিদ্র্যের গভীরে নিমজ্জিত হচ্ছে। অন্যদিকে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এখন তিস্তায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খনিজ সম্পদ লোপাটের পাশাপাশি নদীর গতিপথও পরিবর্তিত হচ্ছে। শুধু অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতিবছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, কৃষিজমি উর্বরতা হারাচ্ছে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

তিস্তা ইস্যু শুধু পানি সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন সামাজিক-অর্থনৈতিক টিকে থাকার প্রশ্ন। উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগ ও জীবিকা সরাসরি এই নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে সরকার গত কয়েক বছর ধরে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ গ্রহণ করেছে। মহাপরিকল্পনার আওতায় নদীর ড্রেজিং, আধুনিক ব্যারাজ নির্মাণ, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থার স¤প্রসারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এতদিনেও এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়নি। রাজনৈতিক টানাপড়েন, অর্থায়নের অনিশ্চয়তা এবং সীমান্তবর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়ায় এ প্রকল্প ঝুলে আছে। অথচ উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ তিস্তার ওপর নির্ভরশীল। এখন সময় এসেছে, কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার। তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রæত বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং পানিবণ্টন বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ক‚টনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে প্রশাসনিক কঠোরতা বাড়াতে হবে। তিস্তা বাঁচলে উত্তরবঙ্গ বাঁচবে। কৃষি, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, সবকিছুই আবার নতুন প্রাণ পাবে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু নদী নয়, গোটা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি পুনর্জাগরণের পথে এগিয়ে যাবে। তাই বলা যায়, ‘তিস্তা বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ এখন কেবল ¯েøাগান নয়, উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবনের দাবি।

যমুনা নদী : ভাঙন ও দখলমুক্ত রাখার জরুরি প্রয়োজন
যমুনা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নদী। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৬ কিলোমিটার। উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণে নেমে আসা এই নদী শুধু পানি নয়, বহন করে মানুষের আশা-আকাঙ্খা, জীবন-জীবিকার সম্ভাবনা। চরাঞ্চলের বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা যমুনা অববাহিকায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সরাসরি জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, সবকিছুই এই নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। বাস্তবতা হলো, যমুনা নদীর ভাঙন প্রতি বছর ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৭৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতভিটা হারিয়ে হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে গেছে। এক মৌসুমে বহুবার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা জীবনের তাগিদে বারবার নতুন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। শুধু কৃষিজমি নয়, রাস্তা, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য স্থাপনা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এছাড়া, যমুনায় অবৈধ বালু উত্তোলন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর তলদেশ অতি দ্রæত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পানির প্রবাহ পরিবর্তিত হচ্ছে, চরাঞ্চলের পরিবেশ ও কৃষি হুমকির মুখে পড়ছে। অন্যদিকে নদী দখলের কারণে প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যমুনা শুধু ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের মানুষের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। অথচ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে এই নদী আজ সংকটে। ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ, নদী খনন, দখল ও বালু উত্তোলনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, এবং নদী ব্যবস্থাপনার টেকসই পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি। যদি আজ কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে আগামী দিনে যমুনা অববাহিকার কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই যমুনাকে ভাঙন ও দখলমুক্ত রাখতে সরকার, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবাদী এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।

করতোয়া নদী : উত্তর-পশ্চিমের প্রাণনালী, সংকট ও সংরক্ষণের দাবি
করতোয়া নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি বগুড়া, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলের কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষ মূলত মাছ ধরা, কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। নদীর পানি সরাসরি ফসলের সেচ, মাছ চাষ এবং স্থানীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি, যা কোটি মানুষের জীবনকে ধারাবাহিক করে রাখে। করতোয়া নদী আজ দখল ও দূষণের কারণে মারাত্মক সংকটে পড়েছে। নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তলদেশ ভরাট হয়ে নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। বালু উত্তোলন, শিল্পকারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য দূষণ নদীর পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর ফলে নদীতে মাছের প্রজাতি কমছে, জলজ উদ্ভিদ হারাচ্ছে, তীরবর্তী কৃষিজমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং মানুষের জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়ছে। করতোয়া নদীকে বাঁচাতে প্রয়োজন সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, শিল্পবর্জ্য ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বালু উত্তোলনের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় জনগণকে নদী ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করা এবং নদী রক্ষার শিক্ষামূলক সচেতনতা বৃদ্ধিও প্রয়োজন। নদীকে কেবল পানি হিসেবে না দেখে এর পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বোঝাতে হবে। করতোয়া নদী বাঁচানো মানে কেবল একটি নদী সংরক্ষণ নয়; এটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের নিরাপদ জীবনধারার প্রতিশ্রুতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দ্রæত পদক্ষেপ ছাড়া নদীর সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর রূপ নেবে, যা স্থানীয় জনগণ ও দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করবে। তাই করতোয়া নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।

পদ্মা নদী : ভাঙন, সংকট ও রক্ষার জরুরি পদক্ষেপ
পদ্মা নদী বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী নদী এবং দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জীবদায়ী জলধারা। বাংলাদেশের অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার, কিন্তু এর গুরুত্ব দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক বেশি। পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া অঞ্চল বিশেষভাবে ভাঙনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর ভাঙন শুধু ভ‚মি ও বসতি হারাতে সাহায্য করে না, বরং কৃষিজমি, রাস্তা, স্কুল, বাজার, মসজিদ-মন্দির এবং জনজীবিকাও এতে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার মানুষ পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়। নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসন ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে এখনও সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব লক্ষ্য করা যায়। নদী শাসন ও নিয়ন্ত্রণে পদ্মা সেতু নির্মাণসহ নানা প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সেতু নির্মাণের ফলে নদীর প্রবাহ ও সংযোগে কিছু মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ এসেছে, তবে প্রকৃত অর্থে নদী সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ভাঙন রোধের জন্য এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পদ্মা নদীর প্রকৃতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। বৃষ্টির পানির প্রবাহ ও মৌসুমী পার্থক্যের কারণে নদী নিজের গতিপথ বদলাচ্ছে, যা ভাঙনের তীব্রতা বাড়াচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলন, নদীর তীর দখল, শিল্পবর্জ্য নিক্ষেপ, প্লাস্টিক ও অন্যান্য দূষণ পদ্মার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। নদীর এই অবস্থা শুধু স্থানীয় কৃষক, জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং দেশের বৃহত্তর কৃষি উৎপাদন, মৎস্য সম্পদ ও জনসংখ্যার জীবনযাত্রার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে।

পদ্মা নদী সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদীর তলদেশ খনন, নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা রোধ, দখল ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, এবং স্থানীয় জনগণকে নদী ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করা। এছাড়া নদীর শিক্ষামূলক ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে নদী রক্ষার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। পদ্মার সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ, কৃষি উৎপাদন, জনজীবিকা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া পদ্মার অবস্থা ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর হতে পারে। নদীর ভাঙন, শুকিয়ে যাওয়া ও দখলমুক্ত রাখার জন্য সরকার, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ এবং স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। পদ্মা নদী বাঁচানো মানে কেবল একটি নদী বাঁচানো নয়, এটি বাংলাদেশের শতাব্দী পূরণ জীবনধারা, সংস্কৃতি ও মানুষদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রতিশ্রুতি।

মেঘনা নদী : দূষণ ও সংকটে বৃহত্তম নদী
মেঘনা নদী বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবিকা, পরিবেশ ও অর্থনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬০ কিলোমিটার। এর তীরে বসবাসকারী মানুষ প্রধানত মাছ ধরা ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। নদীটির পানি না থাকলে বা দূষিত হলে এখানকার কৃষি জমি ও মৎস্যসম্পদ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত কয়েক দশকে মেঘনা নদী মারাত্মক সংকটে পড়েছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য, অপ্রতিসিদ্ধ জাহাজ চলাচল, প্লাস্টিক ও অন্যান্য দূষণ নদীর স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। এর ফলে নদীতে মাছের প্রজাতি কমে যাচ্ছে, জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে, এবং নদীর জলের গুণগত মান অবনতি হচ্ছে। নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও বালু উত্তোলনও নদীর প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং ভাঙন বাড়াচ্ছে। মেঘনা নদী শুধু পানি প্রবাহ নয়, এটি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং স্থানীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি। নদী সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিবেশ আইন প্রয়োগ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বালু উত্তোলন ও অবৈধ স্থাপনা রোধ, এবং স্থানীয় জনগণকে নদী ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করা। এছাড়া নদী রক্ষার বিষয়ে শিক্ষামূলক প্রচারণা চালিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি।

কর্ণফুলী নদী : পাহাড়ি নদীর ভাঙন ও দূষণ সংকট
কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি নদী এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলধারা। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২২০ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতি ও পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। নদীটির পানি চট্টগ্রামের বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা সরাসরি বাণিজ্য, পরিবহন ও মৎস্যসম্পদকে প্রভাবিত করে। কর্ণফুলী নদী আজ বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটে পড়েছে। নদীর দুই তীরে প্রায় ১২০০-এর বেশি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, যা নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। অবৈধ স্থাপনা ও দখলের কারণে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে, ফলে ভাঙন ও পানির ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া শিল্পকারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য দূষণ নদীর পানি ও পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। নদীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে এবং মাছ ধরার মতো স্থানীয় জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। কর্ণফুলী নদীকে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, শিল্পবর্জ্য ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বালু উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা এবং নদী ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা। এছাড়া নদীর শিক্ষামূলক সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষার নৈতিক দায়িত্ব মানুষকে বোঝানো অত্যন্ত জরুরি। কর্ণফুলী নদী বাঁচাতে পারলে চট্টগ্রামের বন্দর, স্থানীয় কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া নদীর সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর রূপ নেবে, যা অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে।

বালু উত্তোলন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি: নদী ও দেশীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। দেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ এবং জনজীবিকা প্রায়শই নদীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নদীগুলো আজ অভ‚তপূর্ব সংকটের মুখে, যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অবৈধ বালু উত্তোলন। বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে নদী থেকে বছরে প্রায় ২৩ কোটি ঘনমিটার বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। এই অব্যাহত চক্র শুধু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে না, বরং দেশের অর্থনীতিকেও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। নদীর স্বাভাবিক গভীরতা হ্রাস পায়, ফলে বর্ষার পানির চাপ বেড়ে যায় এবং ভাঙন তীব্রতর হয়। নদীর ভাঙনের কারণে তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষিজমি, বসতভিটা, স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তা এবং অন্যান্য অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি ডেকে আনছে। শুধু পদ্মা, যমুনা বা তিস্তা নয়, করতোয়া, কর্ণফুলী ও মেঘনার মতো নদীও এই সংকটের আওতায় রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রভাবও ভয়ংকর। নদী ক্ষয় ও ভাঙনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নদী-নির্ভর ব্যবসা, যেমন নৌপরিবহণ ও স্থানীয় বাণিজ্য, বিপর্যস্ত হচ্ছে। ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের কৃষক ও জেলেরা নদীর ওপর নির্ভরশীল। তাদের জীবনযাত্রা, খাদ্য নিরাপত্তা ও আয়ের উৎস এখন ভাঙনের ছায়ায় দিশাহীন হয়ে পড়ছে। পরিবেশগত দিক থেকেও অবৈধ বালু উত্তোলন মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। নদীর তলদেশ দুর্বল হলে জলের গতি পরিবর্তিত হয়, নদীর স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ভেঙে যায় এবং স্থানীয় জলজ জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায়। মাছ ও জলজ উদ্ভিদ, যা নদীর স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, তারা ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে। ফলে নদীর প্রাকৃতিক স্বাভাবিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য বিপন্ন হচ্ছে। নদী ও অর্থনীতিকে রক্ষা করতে প্রয়োজন অবৈধ বালু উত্তোলনের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে একযোগে নদী সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি নদী রক্ষার বিষয়ে শিক্ষামূলক সচেতনতা বৃদ্ধি করে জনগণকে দায়িত্বশীল করতে হবে।

সরকারের উদ্যোগ ও ব্যয় : নদী সংরক্ষণে পদক্ষেপ
বাংলাদেশে নদী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবে বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণে এখনও সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। ২০১৩ সালে গঠিত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করেছে এবং নদী রক্ষায় নীতি প্রণয়ন ও তদারকি করছে। নদী ড্রেজিং এবং নদীভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৪ কোটি ৫০০০ টাকা ব্যয় করছে। এর মধ্যে পদ্মা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ৫০০ কোটি টাকা এবং তিস্তা ব্যারাজ এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, ভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবিকা সংরক্ষণ করা। অন্যদিকে, কর্ণফুলী নদী দখলমুক্ত করতে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই অভিযান নিয়মিত ও সমন্বিতভাবে পরিচালিত না হওয়ায় নদী এখনও দখল ও দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ ও ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ফলাফল নিশ্চিত করতে নিরবিচ্ছিন্ন তদারকি, প্রযুক্তি-ভিত্তিক মনিটরিং, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান অপরিহার্য। নদীর সুরক্ষা ও দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এগুলো এখন সময়ের দাবি।

করণীয় : নদী সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ
নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখার জন্য নি¤œলিখিত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি :
অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ : নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হবে, যাতে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে এবং ভাঙন রোধ করা যায়
বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ : নদী থেকে বালু উত্তোলনের উপর নজরদারি ও মনিটরিংয়ের জন্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক সিস্টেম চালু করতে হবে। এটি নদীর তলদেশ ও প্রাকৃতিক প্রবাহ রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
শিল্পবর্জ্য ও দূষণ রোধ : নদীতে শিল্পকারখানা ও আবাসিক বর্জ্য ফেলার বিষয়টি কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে। দূষণ কমানো গেলে নদীর পানি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হবে।
স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা : নদী ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। তাদের অংশগ্রহণ নদী সংরক্ষণে স্থায়ী সাফল্য নিশ্চিত করবে এবং নদী রক্ষার সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াবে।
শিক্ষা ও সচেতনতা : স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নদী সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার শিক্ষা প্রচলন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা নদী রক্ষার গুরুত্ব বুঝলে ভবিষ্যতের সমাজে নদীকে সুরক্ষিত রাখার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ রক্ষিত হবে, ভাঙন ও দূষণ কমবে, এবং দেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবিকা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত থাকবে।

নদী রক্ষা, আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব
নদী কেবল পানি বা জলধারা নয়; এটি আমাদের জীবনধারা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশের মূল ভিত্তি। নদীর সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন হবে, কৃষি উৎপাদন কমে যাবে, মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং নদীভিত্তিক অর্থনীতি ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। নদী দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিটি বছরের নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক পরিবর্তন হাজার হাজার মানুষের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। নদী সংরক্ষণ মানে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা নয়; এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন, টেকসই উন্নয়ন এবং দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি। স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টা ছাড়া নদীকে স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যবান অবস্থায় রাখা সম্ভব নয়। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নদী রক্ষার শিক্ষামূলক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনগণকে ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করা এবং আইনগত পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করলে নদীকে দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব। সুতরাং নদী বাঁচানো মানে আমাদের প্রাকৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ জীবনধারা নিশ্চিত করার পথে অগ্রণী পদক্ষেপ নেওয়া। নদী রক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।

                                                                                                                                                                     লেখক : গণমাধ্যমকর্মী, কলামিস্ট ও সংগঠক।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category