• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

কৃষিকে অবলম্বন করে অর্থনৈতিক রূপান্তর

Reporter Name / ৬১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

(অক্টবর -২০২৫, সংখ্যা-০৩)

কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। আমাদের কৃষকরা জমিতে ফসল উৎপাদন করে। খাল, বিল, পুকুরে মৎস্য চাষ করে। গবাদি পশুর খামার, বনজ সম্পদ ও ওষুধি বৃক্ষ চাষ করে। তাদের এসব চাষাবাদেই আমাদের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ জীবনের টিকে থাকার মূল ভরসা। সা¤প্রতিক দশকগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নানা রকমের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছে কিন্তু তার কাক্সিক্ষত ফলন ও বাজার মূল্য পাচ্ছে না।
গবেষণা বলছে, মাঠ থেকে শুরু করে কৃষক ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত সার ও কীটনাশকের পিছনে খরচ হয় যায় প্রায় ২৫ শতাংশ। এরপর সেচ, বীজ, মাঠ তৈরি মাড়াই করা, সংরক্ষণ ইত্যাদিতে কৃষকের যে খরচ পড়ে তা এক জায়গায় করলে তার যে মূল্য দাঁড়ায় তাতে বেশির ভাগ সময় কৃষক কখনো লাভ হয় কখনো লোকসানের মুখে পড়ে।
আমাদের প্রতি একরে ফসলের যে উৎপাদনশীলতা তা পৃথিবীর কৃষি সমৃদ্ধ উন্নত দেশের সাথে তুলনা করলে আমাদের উৎপাদন অনেক সুযোগ আছে। ফলন বৃদ্ধির জন্য আমাদের জাতগত পরিবর্তন, ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উৎকর্ষতা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষককে অল্প সুদে অর্থ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিনিয়তই আমরা অর্থনীতি যে উদ্যোক্তা তৈরি করতে চাই অথচ আমাদের দেশের সর্বাধিক পরিমাণ উদ্যোক্তা রয়েছে কৃষি পেশায়। যার সংখ্যা দেড় কোটিও অধিক। এই দেড় কোটি উদ্যোক্তা উৎপাদনের জন্য বসে আছে। তাকে প্রযুক্তি, অর্থ এবং বাজার নিশ্চিত করতে হবে। এটা কৃষকের কাজ নয়। এটা রাষ্ট্রের কাজ।
এগুলোর সমন্বয় করা গেলে কৃষিতে একটি বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। আবার আমরা যদি অধিকতর ফলন বৃদ্ধি করি তাতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে যাবে ঠিক, কিন্তু কৃষিপণ্যগুলো যদি স্থানীয় বাজার ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজার অথবা আমাদের নিজস্ব শিল্প কলকারখানা কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা না যায় তাহলেও কৃষকার তাদের ফলন নিয়ে বিপাকে পরবে। আশানুরূপ দাম পাবে না।
উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের সমন্বয়ে একটি কার্যকরী কৃষি বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। এজন্য শুধু কৃষিকে ঘিরে একটি পঞ্চবার্ষিকী নিবিড় পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি। পঞ্চবার্ষিকীর প্রথম স্তর হবে কৃষির বর্তমান পরিস্থিতিকে পরিমাপ করা। অর্থাৎ বাংলাদেশের কৃষি কী ধরনের পরিস্থিতিতে আছে তা স্পষ্ট করা।
দ্বিতীয় হলো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় আমরা বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে চাই তা ঠিক করা। তৃতীয়ত সেই জায়গায় পৌঁছাতে আমাদের আইনগত বাধা কোথায় আছে তা শনাক্ত করা। আইনের বাইরে আরো যে-সব অসংগতি আছে এগুলোকে নিরূপণ করা।
পঞ্চবার্ষিকীর পরিকল্পনা প্রণয়নে যোগ্য কৃষিবিদ, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সম্প্রসারণবিদ, শিক্ষাবিদ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ীক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি চৌকস প্লাটফর্ম গঠন করতে হবে।
পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা ও গবেষণা করে একটি প্রতিবেদন বৃহৎ আঙ্গিকে সাজাতে হবে। সেই আলোচনা প্রতিবেদন অন্য কোন দিন লিখা যেতে পারে। আজকে কৃষির চলমান কিছু ভাবনার কথা দিয়ে শেষ করতে চাই।
যেমন খাদ্য নিরাপত্তায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কি ধরণের সামঞ্জস্য হওয়া দরকার, বেসরকারি খাতকে নিয়ে সরকারের করণীয় কি হতে পারে, ফসলের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের আমদানি ও উৎপাদন নিয়ে কোনো নীতি সংকট থাকলে তার সমাধান কি হতে পারে ইত্যাদি।

বাজার পর্যন্ত এই কীটনাশকের বিষাক্ত অবশিষ্টাংশ খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। কৃষকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সচেতন নন কোন ওষুধ কতটুকু ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে ব্যবহার করলে তা নিরাপদ হবে, কিংবা কোন রাসায়নিকের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
এই সংকট শুধু কৃষকের অজ্ঞতার কারণে নয়, এর পেছনে মূল কারণ হলো আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও কার্যকর নীতিমালার অভাব। বাজারে অবাধে নি¤œমানের ও ভেজাল কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য বিপদ ডেকে আনছে। তাই কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই হাত দিতে হবে আইন ও বিধিমালায়। সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন, শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা এবং আইনভঙ্গকারীদের কঠোর শাস্তি, এসবের মাধ্যমেই এ সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বিকল্প পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। নাহলে উৎপাদনের পেছনে দৌড়াতে গিয়ে আমরা খাদ্যের নিরাপত্তা হারাবো, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলবো কোটি মানুষকে এবং ধ্বংস করবো প্রাকৃতিক ভারসাম্য।
বাংলাদেশের এই কৃষি খাত এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। তবে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করার ব্যাপক সুযোগ আছে। আগামীতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কৃষিতে অধিক শ্রমশক্তি কাজ করলেও জিডিপি কন্ট্রিবিউশন খুবই কম। জিডিপি ও শ্রমশক্তির অনুপাত অসামঞ্জস্যপূর্ণ, অধিকসংখ্যক শ্রমশক্তি কৃষিতে নিয়োজিত, যার অধিকাংশ দরিদ্র। তাই কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপন করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। কৃষি প্রক্রিয়াকরণ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, ফসলের বিন্যাস পরিবর্তন, রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ সমাধানে নজর দিয়ে কৃষিকে অর্থনৈতিক রূপান্তরের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
১. কৃষি ফসল চাষাবাদের জন্য রাসায়নিক সার ও সেচ প্রদানের মতো কীটনাশকও একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। কীটনাশক ব্যতীত ষোলআনা ফসল ফলানো প্রায় অসম্ভব। তাই উন্নত-অনুন্নত সব দেশেই যেখানে কৃষি চাষাবাদ আছে, সেখানে বালাইনাশকের ব্যবহার হচ্ছে। যেমন আমেরিকা, ফ্রান্স ও জাপানের মতো উন্নত দেশে প্রতি হেক্টরে যে পরিমাণ বালাইনাশক ব্যবহার হয় তার চেয়ে আমাদের দেশে অনেক গুণ কম ব্যবহৃত হচ্ছে। ওইসব দেশের বালাইনাশক-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার সঙ্গে আমাদের দেশের আইন ও বিধিবিধানের পার্থক্য আছে। দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে ব্যবসায়ীবান্ধব পলিসি তৈরি করে এ শিল্পকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই আইন ও বিধিমালায় হাত দিতে হবে। বর্তমান আইন ও বিধির আলোকে কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আইন ও বিধি করতে হবে স্থানীয় শিল্পের বিকাশকে অগ্রাধিকার দিয়ে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হলে আমরা অতি সহজে মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারব এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত করে জনস্বার্থে সংরক্ষণ করা যাবে।
২. আইপিএম নিয়ে নতুন করে ভাবার কিছু নেই। পেস্ট ম্যানেজমেন্ট বলতে যতগুলো ব্যবস্থাপনা আছে তাদের মধ্যে একটি হলো আইপিএম, যা শুরু থেকেই ছিল, এখনো আছে। আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে আমরা ফসল ফলানোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় রাসায়নিক আর কতকাল আমদানি করে চালাব। আমাদের দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি নীতিনির্ধারকরা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে বালাইনাশক স্থানীয় উৎপাদনে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবিøউএইচও) বিষাক্ততার মানদÐ অনুযায়ী অপেক্ষাকৃত কম বিষাক্ত বালাইনাশকের ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বিধিবদ্ধ করা প্রয়োজন। গবেষণার মাধ্যমে আইপিএম ও জৈব বালাইনাশকের কার্যকারিতা নিরূপণ করে রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে। তা না হলে অকার্যকর বালাইনাশকে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
৩. সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রথমত সমঝোতা করে একসঙ্গে কাজ করা অতীব জরুরি। সরকার বাণিজ্যিক সংগঠন ও এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উন্নয়নের প্রতিক‚লতা শনাক্তকরণ এবং ওইসব বাধাবিপত্তি সমাধানের আইন বিধিমালা প্রণয়নে বেসরকারি খাতকে সহায়তা করা সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ।

সরকারের সক্ষমতা প্রদর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রাজস্ব আহরণে কতটুকু সক্ষম। করনীতির ত্রæটির কারণে বেসরকারি খাত পিছিয়ে থাকে। উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্প স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিয়ে করনীতি সাজাতে হলে সরকার ও বেসরকারি খাতে নেতাদের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।
৪. অন্তর্বর্তী সরকার দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে এমন কিছু পদক্ষেপ ও সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিতে পারে, যা বিগত কোনো সরকার নিতে পারেনি। প্রথমত, কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা দিয়ে একটি কৃষি কমিশন গঠন করতে পারে। কমিশনের সদস্য হবে সরকারি ও বেসরকারি খাতে যাদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী জ্ঞানের সফলতার ইতিহাস আছে। যাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে অসামান্য অবদান আছে। ওই কমিশন কৃষির প্রতিটি ক্ষেত্র একটা একটা করে ধরে ধরে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য কাজ করবে। কৃষি উৎপাদনে প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ স্থানীয় উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করবে। যে-সব উপকরণ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব তা প্রতিটি উপকরণ উৎপাদনের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকে এমনভাবে আকর্ষণীয় করে দেবে, যাতে দেশী ও বিদেশি বিনিয়োগকারী আমাদের দেশে আমদানি বিকল্প পণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও রফতানির উদ্যোগ নেয়। কৃষকের উৎপাদিত ফসল দ্বারা পরিচালিত হতে পারে এমন শিল্প-কারখানায় সম্ভাব্য যাচাই করে অগ্রাধিকার ও লাভজনক শিল্পকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করে দিতে হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের জোয়ার করে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হবে।

৫. বর্তমানে কীটনাশক আমদানি ও অনুমোদনে ব্যাপক সংস্কারের সুযোগ আছে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ’৪৭-এ বিভাজন হওয়ার পর শুধু বাংলাদেশ এ খাতে পিছিয়ে আছে। পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ পেস্টিসাইড আইন ও বিধিমালায় দেশীয় শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্প করার সরকারি উদ্যোগ প্রতিফলন প্রতীয়মান হয়নি। অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদনে বাধাগুলো দূরীকরণ অতীব জরুরি। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলা, মাননিয়ন্ত্রণ সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষকের ফসল সুরক্ষার স্বার্থে কীটনাশক স্থানীয় উৎপাদন করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের ভুলনীতির কারণে রাষ্ট্রের কল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান লাভবান হচ্ছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করলে পাকিস্তান, ভারত ও চায়নার মতো আমরাও কীটনাশক উৎপাদন ও রফতানি করতে পারি। আমাদের দেশে আমদানি বাণিজ্যকে আকর্ষণীয় করে রাখা হয়েছে। উৎপাদনের উদ্যোক্তাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে অস্বাভাবিক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে। অর্থাৎ আমদানি শুল্ক কম, উৎপাদনের শুল্ক অস্বাভাবিক বেশি। এসব শুল্ক বাধা ও অশুল্ক বাধা দূর করা গেলে বালাইনাশক উৎপাদনে বাংলাদেশ ভারত, পাকিস্তান ও চায়নার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহার পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তবে এর ব্যবহার অবশ্যই হতে হবে সচেতন, বৈজ্ঞানিক এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে। উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে যে, কার্যকর আইন, কঠোর তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো গেলে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বাংলাদেশে কৃষি খাতের অগ্রগতি টেকসই করতে হলে এখনই এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রথমত, কীটনাশকের নিবন্ধন, আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইপিএম ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের প্রসার ঘটাতে হবে। তৃতীয়ত, স্থানীয় শিল্পকে নীতি সহায়তা দিয়ে কীটনাশক উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমে এবং মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। একইসঙ্গে সরকার, বেসরকারি খাত ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে।
অবশেষে বলা যায়, কৃষিকে অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি যুগোপযোগী আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি। আজ সিদ্ধান্ত না নিলে ভবিষ্যতে এর মাশুল দিতে হবে আমাদের প্রজন্মকে। তাই এখনই সঠিক পথে এগোনোর বিকল্প নেই।

লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রæপ
সভাপতি, বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category