• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন

যেভাবে সৃষ্টি হলো ‘‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’’ শ্লোগান সঙ্গীত

বিনোদন প্রতিবেদক / ১০৯ Time View
Update : শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

এখন ছাত্র-জনতার সমাবেশ বা যেকোনো রাজনৈতিক দলের মিছিলের অপরিহার্য শ্লোগান হলো ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’। অনেকেই জানেন না, এই শ্লোগানটি কীভাবে তৈরি হলো। আর কীভাবেই বা ছড়িয়ে গেলো সবখানে। মূলত লাইন দু’টি সঙ্গীতশিল্পী, সাংবাদিক ও লেখক আমিরুল মোমেনীন মানিকের একটি গান থেকে নেয়া। এর একটি চমৎকার প্রেক্ষাপটও আছে।

এ প্রসঙ্গে আমিরুল মোমেনীন মানিক বলেন, ২০২৪ এর শ্রাবণের বৃষ্টিমগ্ন সময়ে অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমে আসে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা। বহু মানুষের রক্ত, অঙ্গহানি, পঙ্গুত্বের বিনিময়ে ওই বছরের ৫ই আগস্ট ঘটে বিরল এক গণঅভ্যুত্থান। কিন্তু অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করতে নানামুখী আন্দোলনের নামে চলতে থাকে ফ্যাসিবাদী চক্রান্ত । সুতরাং জুলাইয়ের আন্দোলন যে শেষ হয়নি, সেটা উপলব্ধি করেই প্রথমে লিখে ফেলি ‘‘তিতুমীর থেকে মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’’। পরে মনে হলো, লাইন দুটোতে একটু পরিবর্তন আনলে সময়ের সঙ্গে আরও প্রাসঙ্গিক হবে। ফলে একটু পরিবর্তন করে লিখি ‘‘ ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ । এই দুই লাইনকে সামনে রেখে পুরো একটি গান তৈরি করে ফেলি। কথার সঙ্গে সুরও প্রস্তুত হয়ে যায়।
এ সময় হঠাৎ মাথায় আরেকটি আইডিয়া আসে। ভাবলাম, শুধু গান নয়, শ্লোগান আকারে লাইন দুটোকে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক তসলিম ইসলাম অভি এবং বিক্ষুব্ধ কবি লেখক সমাজের আহ্বায়ক আবিদ আজমকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানাই। তারা দারুণ উচ্ছ্বাস দেখান। এরপর তসলিম ইসলাম অভি বিভিন্ন মিছিলে দুটি লাইনকে শ্লোগান হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। ধীরে ধীরে এটি ছড়িয়ে পড়ে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো। এভাবেই মূলত জনপ্রিয় হয়ে উঠে দুটো অনুপ্রেরণাদায়ী লাইন ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’।

এই শ্লোগানটি কীভাবে গান হিসেবেও জনপ্রিয় হয়ে উঠলো ? এ প্রসঙ্গে আমিরুল মোমেনীন মানিক বলেন, গানটি প্রথম পরিবেশন করি ঢাকা কলেজের অডিটোরিয়ামে ‘কালের ধ্বনি’ আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত কবি লেখকদের গল্প’ শিরোনামের অনুষ্ঠান। বিপুল সাড়া পড়ে যায়। কবি ও সাংবাদিক ইমরান মাহফুজের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড.আলী রীয়াজ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, নজরুল ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী, কবি ও সংবিধান গবেষক শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, লেখক ও সাংবাদিক ড. কাজল রশীদ শাহীন, আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজসহ অনেক বিশিষ্টজন। তারা গানটি শুনে আপ্লুত হন। গান শেষ হবার পর শিক্ষার্থীরা গানের শুরুর দুটি লাইনকে শ্লোগান হিসেবে লুফে নেয়। এরপর, খুব দ্রুত লাইন দুটো মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৩ সালে আমিরুল মোমেনীন মানিক মূলত জীবনমুখী গান দিয়ে আলোচনায় আসেন। প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তীর সঙ্গে তার গাওয়া ‘আয় ভোর’, ‘নীল পরকীয়া’, ‘সকাল হবে কি’ শিরোনামের গানগুলো জনপ্রিয়তা পায়। লেখক হিসেবে ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি’র একুশে বইমেলায় তাঁর লেখা ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় স্টুপিড শিক্ষক’ বইটি বেস্টসেলার হয়। সাংবাদিকতায় আমিরুল মোমেনীন মানিক ২০১১ সালে পেয়েছেন সম্মানজনক ‘ইউনেস্কো ক্লাব জার্নালিজম এ্যাওয়ার্ড’। ইউটিউব জার্নালিজমের ধারণা দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘চেঞ্জটিভি. প্রেস’। বর্তমানে মানিক হামদর্দ বাংলাদেশের পরিচালক তথ্য ও গণসংযোগ হিসেবে কর্মরত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category