• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

বিশেষ সাক্ষাৎকার: তৃণমূলের ধূলিকণা থেকে রাজনীতির শিখরে; এক ত্যাগী যোদ্ধা মীর শাহে আলমের গল্প

Reporter Name / ৭৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

ফেব্রুয়ারি -২০২৬ সংখ্যা

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক উর্বর ভূমির নাম বগুড়ার রাজনীতি। আর সেই উর্বর ভূমির তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক লড়াকু বিপ্লবী সৈনিকের নাম মীর শাহে আলম এমপি। যিনি কেবল পৈতৃক সূত্রে বা হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসেননি, বরং ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে রাজপথের প্রতিটি ধূলিকণায় নিজের ঘাম ও শ্রম মিশিয়ে আজ হয়ে উঠেছেন বগুড়া জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এবং শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি। বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই তরুণ নেতা শিবগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থার নাম। জেল, জুলুম আর প্রতিকূলতার পাহাড় সত্ত্বেও যিনি কখনো আদর্শচ্যুত হননি, বরং জাতীয়তাবাদী আদর্শের পতাকা ধরে রেখেছেন অটুট সাহস আর বিশ্বাসে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭ বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে তিনি ধানের শীষের কাণ্ডারি হয়ে লড়ছেন এবং বিপুল ভোটে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। শিবগঞ্জের কৃষি, শিক্ষা আর তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁর রয়েছে এক আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত রূপরেখা। শিবগঞ্জের উন্নয়ন এবং আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর চিন্তাগুলো জানতেই ‘আলোচনা’ ম্যাগাজিনের আজকের এই বিশেষ আয়োজন।

আলোচনা: আপনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন। তৃণমূলের একজন কর্মী থেকে আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে আপনার মূল অনুপ্রেরণা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছু বলুন।

মীর শাহে আলম: ধন্যবাদ ‘আলোচনা’ ম্যাগাজিনকে। আসলে আমার রাজনৈতিক পথচলা কোনো মসৃণ রাজপথ ছিল না। আমি রাজনীতিতে এসেছি শখ করে নয়, বরং মানুষের অধিকার আদায়ের এক তীব্র তাগিদ থেকে। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বই ছিল আমার রাজনীতির মূল অনুপ্রেরণা।
আমি মনে করি, একজন রাজনীতিবিদের আসল পরিচয় তৈরি হয় তৃণমূলের মানুষের ভালোবাসায়। আমি যখন ছাত্ররাজনীতি শুরু করি, তখন থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছানো। শিবগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন, প্রতিটি গ্রাম এবং প্রতিটি পাড়ায় আমি যখন ঘুরেছি, তখন শুনেছি মানুষের কষ্টের কথা, বঞ্চনার কথা। তাদের সেই ভালোবাসা এবং বিশ্বাসই আমাকে বারবার সাহস জুগিয়েছে। তৃণমূলের কর্মীরাই আমার শক্তির উৎস; তাদের সঙ্গে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে, বিপদে-আপদে পাশে থেকে আজ আমি এই অবস্থানে আসতে পেরেছি।
আমার রাজনৈতিক সংগ্রাম মূলত ত্যাগের এক মহান ইতিহাস। বিশেষ করে গত দেড় দশকে আমরা যে দুঃসহ সময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি তা বর্ণনা করার ভাষা নেই। বারবার মিথ্যা মামলা, কারাবরণ এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছি। কিন্তু প্রতিবারই যখন জেল থেকে বেরিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছি, তখন দেখেছি আমার পাশে হাজার নেতাকর্মী অটল বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের এই অটুট মনোবল আমাকে শিখিয়েছে আদর্শের পথে থাকলে জীবনে কোনো বাধাই স্থায়ী হয় না। বিশেষভাবে বলতে হয় আমাদের প্রিয় নেতা বিএনপি’র চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কথা। তাঁর আধুনিক রাজনৈতিক ভাবনা এবং “টেকব্যাক বাংলাদেশ” গড়ার যে ডাক, তা আমাকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর দিকনির্দেশনায় আমরা শিবগঞ্জ বিএনপিকে একটি শক্তিশালী দুর্গে পরিণত করেছি।
আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় বুঝেছি, রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, রাজনীতি মানে মানুষের জন্য নিজেকে একান্তভাবে বিলিয়ে দেওয়া। শিবগঞ্জের মাটি ও মানুষের সাথে আমার যে আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়েছে, সেই বন্ধনই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি বলেই আমি সাধারণ মানুষের চোখের ভাষা বুঝি। ইনশাআল্লাহ, তাদের দোয়া ও সমর্থন আমাকে এবার এমপি নির্বাচিত করেছে। আমি তাদের এই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে শিবগঞ্জকে উন্নয়নের এক আধুনিক মডেলে রূপান্তর করতে চাই; যা হবে সারা দেশের মধ্যে এক অনন্য উদাহরণ। আমার এই সংগ্রাম ব্যক্তি লাভের জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং শিবগঞ্জের গণমানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।

আলোচনা: রাজনৈতিক মহলে আপনি দেশনায়ক তারেক রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তাঁর আধুনিক ও সুশৃঙ্খল রাজনীতির দর্শন আপনি শিবগঞ্জের মানুষের মাঝে কীভাবে বাস্তবায়ন করতে চান?

মীর শাহে আলম: ধন্যবাদ। দেশনায়ক তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়াটা আমার কাছে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয় নয়, এটি আমার জন্য এক বিশাল দায়িত্ব ও অনুপ্রেরণা। আধুনিক ও সুশৃঙ্খল রাজনীতি বলতে তারেক রহমান এমন রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথা বলছেন, যেখানে মেধা থাকবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এবং নেতা নির্বাচিত হবে তৃণমূলের ভোটে। তিনি কেবল গতানুগতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের কথা বলেন না, বরং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার বা ‘স্টেট রিফর্মস’ এর কথা বলেন। শিবগঞ্জের মাটিতে আমি তাঁর এই দর্শনকে তিনটি প্রধান ধাপে বাস্তবায়ন করতে চাই।
প্রথমত: জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব। জনাব তারেক রহমানের দর্শন হলো, জনপ্রতিনিধি হবেন জনগণের সেবক। শিবগঞ্জে আমি এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলছি যেখানে তৃণমূলের কর্মীরা সরাসরি নেতাদের প্রশ্ন করতে পারবে। আমরা একটি ‘মেধাভিত্তিক রাজনৈতিক সেল’ গঠন করব, যারা এলাকার শিক্ষিত তরুণদের মতামত নিয়ে উন্নয়নের মডেল তৈরি করবে। এখানে ব্যক্তি মীর শাহে আলমের চেয়ে দলীয় শৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা বড় হবে।
দ্বিতীয়ত: প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক উন্নয়ন। জনাব তারেক রহমান ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রকৃত রূপকার হিসেবে আইটি সেক্টরে বিপ্লব ঘটানোর স্বপ্ন দেখেন। শিবগঞ্জের কৃষি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে আমি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনতে চাই। শিবগঞ্জের তরুণরা যেন ঘরে বসেই বিশ্ববাজারের সাথে যুক্ত হতে পারে, সেজন্য প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও আইটি হাব গড়ে তোলা আমার অন্যতম লক্ষ্য। যা হবে তারেক রহমানের আধুনিক রাজনীতির বাস্তব প্রতিফলন।
তৃতীয়ত: বৈষম্যহীন সমাজ ও রাজনৈতিক সহাবস্থান। তাঁর ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতির ধারণা অনুযায়ী, আমি শিবগঞ্জে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সম্প্রীতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে সরকারি সেবা পায় এবং কোনো বিভাজন না থাকে, সেই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলব। ‘ইনশাআল্লাহ’, আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান যে ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা মূলত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা। শিবগঞ্জের সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে সেই সংস্কারের সুফল পৌঁছে দেওয়া এবং একটি সুশৃঙ্খল, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করাই হবে আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, জনাব তারেক রহমানের এই আধুনিক দর্শনই পারে আমাদের শিবগঞ্জকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করতে।

আলোচনা: আপনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এখন শিবগঞ্জ উপজেলার উন্নয়নে আপনার শীর্ষ তিনটি অগ্রাধিকার কি কি হবে?

মীর শাহে আলম: শিবগঞ্জ আমার প্রাণের জনপদ। শিবগঞ্জের মানুষ আমার আত্মার আত্মীয়। তারা আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। এখন আমার প্রথম অগ্রাধিকার হবে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও সংরক্ষণ। শিবগঞ্জ দেশের অন্যতম সবজি ভান্ডার, কিন্তু হিমাগার ও সঠিক বিপণন ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমি এখানে আধুনিক সরকারি হিমাগার ও কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ার উদ্যোগ নেব। দ্বিতীয়ত, যোগাযোগ ও অবকাঠামো: শিবগঞ্জের প্রতিটি গ্রামীণ রাস্তাকে টেকসই ও প্রশস্ত করা হবে যাতে কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন করা যায়। তৃতীয়ত, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিকায়ন করে সকল সেবার মান বাড়ানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক ল্যাব ও পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।

আলোচনা: একজন তরুণ নেতা হিসেবে আপনি এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানের তরুণ ভোটারদের চাওয়া-পাওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

মীর শাহে আলম: তরুণরাই শক্তির আধার। বর্তমানে তরুণরা শুধু চাকরির পেছনে ছুটতে চায় না, তারা উদ্যোক্তা হতে চায়। শিবগঞ্জের বেকারত্ব দূর করতে আমি “উপজেলা আইটি পার্ক” ও “ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার” স্থাপনের পরিকল্পনা করেছি। ফ্রিল্যান্সিং এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের তরুণরা যেন বিশ্ববাজারের জন্য উপযোগী হতে পারে, সেই পরিবেশ আমি তৈরি করব। খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে উন্নত খেলার মাঠ ও পাঠাগার নির্মাণ করা হবে, যাতে তারুণ্যের শক্তি বিপথে (মাদক) না গিয়ে সৃষ্টিশীল কাজে নিয়োজিত থাকে এবং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে ওঠে।

আলোচনা: শিবগঞ্জ মূলত একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে আপনার ভাবনা কী?

মীর শাহে আলম: বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনটি মূলত কৃষিনির্ভর। এখানকার উৎপাদিত আলুর খ্যাতি দেশজোড়া। আমি শিবগঞ্জে একটি ‘এগ্রো-প্রসেসিং জোন’ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আলু থেকে চিপস এবং স্টার্চ তৈরির কারখানা গড়ে উঠবে। ফলে কেবল কৃষক লাভবান হবে না, এলাকার হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এ ছাড়া প্রাচীন বাংলার রাজধানী মহাস্থানগড়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো আমার আরেকটি বিশেষ লক্ষ্য। আশা করি সঠিক পরিকল্পনা থাকলে শিবগঞ্জ হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের প্রাণকেন্দ্র।

আলোচনা: বিগত বছরগুলোতে নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক মামলার মধ্য দিয়ে আপনি দলের হাল ধরে রেখেছেন। এই কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার পেছনের শক্তিটি কী ছিল?

মীর শাহে আলম: বিগত দেড় দশকে আমাদের ওপর নির্যাতনের যে স্টিমরোলার চালানো হয়েছে, তা অবর্ণনীয়। শিবগঞ্জ বিএনপি পরিবারের অসংখ্য নিরীহ নেতাকর্মী হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। সেই কঠিন দুঃসময়ে আমি কখনো নিজের কথা ভাবিনি, বরং নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়া এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকেই আমি পবিত্র দায়িত্ব মনে করেছি। নেতাকর্মীদের সাথে আমার সম্পর্ক নেতা-কর্মীর নয়, আত্মার সম্পর্ক, আপন ভাইয়ের মতো। আমাদের ঐক্যের মূল শক্তি হলো ‘জিয়া পরিবারের প্রতি অবিচল আস্থা’। কর্মীরা দেখেছেন তাদের বিপদে আমি মাঠে অবস্থান করেছি অবিচল ভাবে, তাদের ছেড়ে যাইনি; এই বিশ্বাসই আমাদের রাজপথে অবিচল রেখেছে।

আলোচনা: শিবগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে ধানের শীষের গণজোয়ারের পিছনে মূল কারণ কি বলে আপনি মনে করেন?

মীর শাহে আলম: শিবগঞ্জের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনি। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিবগঞ্জের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য অধীর আগ্রহে উন্মুখ হয়ে ছিল। আমি আমার নির্বাচনী বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে যে গণজোয়ার দেখছি, তার প্রতিফলই হচ্ছে ধানের শীষের এই ভূমিধস বিজয়। অপেক্ষার সেই ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ দুঃশাসন ও লুটপাটের অবসান ঘটিয়েছে। আমি সব সময় সাধারণ মানুষের ভোটের পবিত্রতা রক্ষা করবে।

আলোচনা: কেবল এলাকার উন্নয়নই নয়, জাতীয় সংসদে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপনার ভূমিকা কেমন হবে?

মীর শাহে আলম: আমি কেবল শিবগঞ্জের মানুষের জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার একজন অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করতে চাই। আল্লাহর রহমতে সংসদে গিয়ে আমি অবহেলিত উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রাণের দাবিগুলো তুলে ধরব। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের অধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আমি জনাব তারেক রহমানের সিপাহসালার হিসেবে রাজপথ এবং সংসদ, উভয় জায়গাতেই সর্বদা সোচ্চার থাকব। রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা বিএনপি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে আমি অগ্রণী ভূমিকা পালন করব।

আলোচনা: সাধারণ মানুষের মধ্যে আপনার যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা, সেটিকে আপনি ভোটে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন?

মীর শাহে আলম: জনপ্রিয়তা এমনিতেই আসে না, এটি অর্জন করতে হয়। বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে আমি সবসময় শিবগঞ্জের মানুষের পাশে ছায়ার মতো থাকার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি একজন নেতার সবচেয়ে বড় সার্টিফিকেট হলো তাঁর ব্যবহার এবং সততা। শিবগঞ্জের মানুষ জানেন মীর শাহে আলম তাদেরই সন্তান। এই আত্মিক সম্পর্ক এবং জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শই এই নির্বাচনে গণজোয়ারে রূপা নিয়েছিল।

“ব্যস্ত সময়ের মাঝে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য মীর শাহে আলম এমপি মহোদয়কে ‘আলোচক’ ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভকামনা।”

(উল্লেখ্য, মীর শাহে আলম কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নয়, তিনি শিবগঞ্জের সাধারণ মানুষের আবেগ ও আস্থার প্রতিচ্ছবি। সাক্ষাৎকারের প্রতিটি উত্তরে ফুটে উঠেছে তাঁর দূরদর্শী চিন্তা, দলের প্রতি গভীর আনুগত্য এবং এলাকার মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। তরুণ এই নেতার হাত ধরে শিবগঞ্জ উপজেলা একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তরিত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। রাজপথের লড়াই থেকে শুরু করে জনসেবার ময়দান, মীর শাহে আলম প্রমাণ করেছেন যে, ত্যাগ আর সততা থাকলে জনগণের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেওয়া সম্ভব। নির্বাচনে শিবগঞ্জের মানুষ তাদের প্রিয় এই নেতাকে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আগামীতে তার সোনালী স্বপ্নগুলো ফুল হয়ে ফুটবে।)

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category