৭১-এ বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরি হওয়ার পিছনে মূল বিষয়ই ছিল বৈষম্য। এ বৈষম্যটা ছিল সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য, প্রশাসনিক বৈষম্য। বর্তমানে আমরা চাই এই ভূখণ্ডে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সবাই আমরা একসাথে বসবাস করব। স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা এখনো ঠিক হয়নি। আমাদের সংবিধান গণমানুষের কথা বলে না। স্বাধীনতার এই ৫৪ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল প্রায় ২৬ বছর। ২৬ বছরে তাদের ভারতপ্রীতি এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য বিদেশের সাথে যে নিগোসিয়েশন, এই নিগোসিয়েশনের বলি হয়েছে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণ। মুজিব স্বাধীন বাংলাদেশে আসলো ১০ জানুয়ারি ৭২।

একদিন স্বশরীরে স্বাধীন ভূখণ্ডের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি থাকলেন। পরের দিনই বিমানবন্দরে তাজউদ্দিনের কানে কানে বলা কথাটা বাস্তবায়ন ঘটালেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলেন, দেশকে উপহার দিলেন কারচুপির নির্বাচন। দেশকে দুর্ভিক্ষ উপহার দিলেন। ৫ লাখ লোক সেই দুর্ভিক্ষে মারা গেল। দুর্ভিক্ষে শুধু আমেরিকার দেওয়া অনুদান ১৮০ মিলিয়ন ডলার লোপাট করলেন। দেশকে ভারতের করত রাজ্যে পরিণত করেছিলেন। তাঁর এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কি হলো এগুলো সবকিছু আমরা জানি। মুজিব বাংলাদেশের সংবিধানকে তার মর্জি মোতাবেক চারবার সংশোধন করেছেন। পরবর্তীতে যে যখন হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুজিবের সেই ধারাকে অব্যাহত রেখেছেন। এখন পর্যন্ত আমাদের সংবিধান ১৭ বার সংশোধন হলো। অথচ বিশ্বের সবথেকে পুরাতন সংবিধান আমেরিকার, যা কার্যকর হয়েছিল ১৭৮৯ সালে। সেই সংবিধানটা এখন পর্যন্ত ২৭ বার সংশোধন হয়েছে। আমেরিকা ইউরোপ পরিবেশ নিয়ে চিন্তা করে। তারা তাদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা এতটাই উন্নত। অথচ আমরা সেই উন্নত ধারাবাহিকতায় যেতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। বর্তমান বাংলাদেশে মোট বেকার ৩০ লাখ। রাষ্ট্র বেকারদের নিয়ে চিন্তা করে না। এগুলো আমাদেরকে নিরাশ করে।
এখন বর্তমান বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা তাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি এই রাজনীতিকে একটা বৃহৎ সংখ্যক গোষ্ঠী তাদের জীবিকা হিসেবে কল্পনা করছে। জীবিকা হিসেবে ভাবছে। রাজনীতি তো আসলে জীবিকা না। রাজনীতি হচ্ছে দেশপ্রেমের অংশ। আমরা বর্তমানে জনগণকে রাজনৈতিক সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ করি। এখন এই ২৪ পরবর্তী আমার আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে কী চিন্তাভাবনা, সেটা একটু ব্যক্ত করব। আমার কাছে মনে হয় এবারের নির্বাচনে “দ্বিতীয় বাংলাদেশে” এই স্লোগানটার সার্থকতা বাস্তবায়িত হবে বলে মনে হচ্ছে। ‘আমার দেশ তোমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’। মনে হচ্ছে এবারের নির্বাচন উত্তরকালীন সংসদে ঝড় তুলবেন একদল বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা। মধ্যবিত্ত পরিবার মানে মানিয়ে নেওয়া স্বভাব যাদের। আমাদের যে চেতনা আমাদের যে ত্যাগ-তিতিক্ষা, ৭১-এ আমাদের যে অবস্থান সে সবকিছুর সম্মিলিত বাস্তবায়ন ঘটবে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে।