মূল যে জিনিসটা, সেটা হলো কি ত্রয়োদশ নির্বাচন। আমি আজকে এখানেই, আজকে এই মুহূর্তেও যে জিনিসটা বলতেছি যে, ত্রয়োদশ নির্বাচন আজ হোক কাল হোক হবে। কিন্তু ত্রয়োদশ নির্বাচনটা কি আসলে সঠিক সময়ে হবে? এটা আমার নিজের মনের জিজ্ঞাসা। এটা আমার জিজ্ঞাসা। আপনি বলতে পারেন যে কেন? ঐ যে, ঐ প্রশ্নের মতো, চাই, চাই, চাই। কিন্তু আমি কি চাই না, সেটা তো তিনি জানেন।
গত তিন দিন আগে একটা পোস্ট করেছিলাম। সেটা হলো: যে আমরা বৈধ অস্ত্র জমা দিলাম, কিন্তু অবৈধগুলো মাঠে রয়ে গেল। তাহলে নির্বাচন আর কত দেরি পাঁজরি? তাহলে আমরা কোথায় আছি? গতকালকেও দেখলাম অস্ত্রের ঝনঝনানি। এটা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। কিন্তু এই যে উদ্ধার করবার জন্য যে উদ্ধারকারীরা, যার নির্দেশ প্রয়োজন, তিনি কি সঠিক নির্দেশটা দিচ্ছে না? এটা আমার একটা প্রশ্নের জায়গা তৈরি হয়। আমরা সবকিছুই করছি, দুর্নীতির জায়গা আপনি দুর্নীতি মুক্ত করবেন। কাকে দিয়ে দুর্নীতি মুক্ত করবেন? তিনি তো নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত।

আজকে যে সরকারের অধীনে আমরা অবস্থান করছি, সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে আজকে সভাপতিত্ব যিনি করছেন, তার কাছে আমি প্রশ্ন রাখলাম, “সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের সংস্কার আপনি কি করেছেন?” এই ব্যাখ্যাটা যদি উনি দিতে পারেন, তাহলে বুঝব যে, রাষ্ট্রের সংস্কারের পাশাপাশি এই কলেজের সংস্কার হয়েছে। আজকে আমার অত্যন্ত কাছের ভাই বলেন, বন্ধু বলেন, উপাচার্য হয়েছেন। তিনি টেলিভিশন টকশোতে সবকিছুই বলেন। কিন্তু আসলে বাস্তব সত্যিটা কতটুকু? ঐ যে পাঁজরি, সেটা কি আজকে আলোচনা করা যেতে পারে?
নির্বাচন তো হবেই। ত্রয়োদশ, পরে চতুর্দশটা আসতে অনেক দেরি। তার মাঝে ত্রয়োদশ, সেটা কবে হবে, কীভাবে হবে? আমরা এর মধ্যে যে জিনিসটা লক্ষ্য করেছি, আমার কাছে প্রশ্ন নিজের কাছেই নিজে জাগে। তার কারণ, আমি চাইলাম দুটি নির্বাচন এক দিনে, আমাকে দিয়ে দিলেন। কোনো অসুবিধা নাই। আমি চাইলাম লটারিতে হতে হবে, আমার আবদার পুরণ করলেন। দুটো দল দুটি আবদার কয়েছে। তাহলে এভাবেই তো আমরা চাচ্ছি। তাহলে আবার আপনার চাওয়া? আমরা সাধারণ জনগণ, পাবলিক, আমার কতটুকু চাওয়া পাওয়া আছে? তারা তো সেখান থেকেই চাচ্ছে। দুটো নির্বাচন এক দিনে হবে, খুব ভালো কথা, দিয়ে দিলেন।
লটারির মাধ্যমে আমরা ডিসি-এসপির বদলি চাই, দিয়ে দিলেন। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নাজির আহমেদ খান নামে এক সার্কেল এসপি বগুড়ায় ছিলেন। তিনি বগুড়াকে সাইদীর চাঁদ দেখাকে কেন্দ্র করে বগুড়াকে তছনছ করে দিয়েছেন। আমি সাইদীর চাঁদ দেখাকে কেন্দ্র করে দৈনিক আমার দেশে একাধিক রিপোর্ট করেছি। একজন জামায়াত ইসলামের কর্মী, নেতা বুকে সাহস নিয়ে বলতে পারেননি, “আমি মামলা করব।” তাহলে কোন বাংলাদেশ আমি চাই? কোন উন্নয়ন চাই? এই প্রশ্নের জবাবটা আমি আপনাদের কাছে রেখে গেলাম। আমরা সংবাদপত্রে কাজ করি, সব কিছু উঠিয়ে আনবার জন্য। আমরা পারি না। এ নাজির হোসেন ঐ সময় মাসুদ কমিশনারের পায়ে গুলি করেছিল, ঐ দিন রাত্রে আমি উপস্থিত ছিলাম। সে আমাকে নিয়ে এসে বলে যে, “আপনি কেন এখানে উপস্থিত?” “মাসুদ কমিশনারকে গুলি করলাম, কী হইছে আপনার? ঘোড়ার ডিম করবেন?” আমি তার ফিরিস্তি দিয়া কোথায়, কোন সালে, কতদিন ছিল, আমি আমার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি, হয়তো নিউজটা দু’এক দিন পরে হতে পারে। এই হলো আমার বাংলাদেশ।
আমি তো বললাম, আজকে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি, সমস্ত শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ, কবি, প্রাবন্ধিক, নতুন রাজনীতি করে যারা, তাদের কাছে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই যে, কেমন বাংলাদেশ চাই? আমি বাংলাদেশ একটা চাই, সত্যিকারের অর্থে সোনার বাংলাদেশ নয়, আমি একটা বাংলাদেশ চাই, যখন যে ঘটনাটা ঘটেছে তার তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা চাই এই রাষ্ট্রের কাছে। একজন দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে আমি নিউজ করলাম, সেটা পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে কিছু সংখ্যক লোক আমাকে ম্যানেজ করবার জন্য চেষ্টা করছেন। তাহলে আমি তো অন্তত সঠিকটা লিখবার চেষ্টা করলাম, তাহলে আমাকে সেখানে বাধাগ্রস্ত করা হলো একটা জায়গায়, আমাকে প্রশাসন থেকে ভীতি সঞ্চার করা হলো। আমার সহকর্মীরা সুযোগ সুবিধা নিয়ে তারা আমাকে প্রতিঘাত তৈরি করবার ব্যবস্থা করলো। এই জায়গাগুলো যদি বন্ধ হয়, তাহলে নির্বাচন সঠিক হবে। নির্বাচন কোথায় হবে, কীভাবে হবে? অনেক প্রশ্ন সামনে এসে যায়। যে সমস্ত লোকজনদেরকে সিলেকশন দেওয়া হচ্ছে, এখন পর্যন্ত আমরা সেই জায়গায় অর্থের বিনিয়োগ দেখি। যেখানের অর্থ নাই, সেখানে সবকিছুই অর্থহীন।
যার জন্য আমি শুরুতেই বলেছিলাম, যে আমরা এত চাই, চাই না কোন জিনিসটা? এইটা আগে নির্ধারণ করেন। আগামী দিনের যে প্রত্যাশা মানুষের, সে প্রত্যাশা মানে সুখী-সমৃদ্ধিশালী একটা বাংলাদেশ। আমরা সুখী হতে গেলে কী দরকার? চাদাবাজি করে সুখী হওয়া যায়? বড় বড় বাকোয়াজ করে সুখী হওয়া যায়? অঢেল অর্থ কামাই করে সুখী হওয়া যায়? আমি যতটুকু ভালোবাসি তার চেয়ে বেশি ভালোবাসা পাইবার অপেক্ষা করি। আমি যতটুকু প্রত্যাশা করি, তার চেয়েতে বেশি কিছু আমরা দিতে না পারি, সেই প্রত্যাশাগুলো দাবি করতে পারি না।
আমি আমার বগুড়ার এই ক্ষুদ্র আলোচনা বৈঠক থেকে একটি জিনিস চাই: যে আমার বগুড়াতে যে সমস্ত কর্মকাণ্ডগুলো এ পর্যন্ত হয়েছে, তার বিচার করবার জন্য কে কে আপনারা এগিয়ে এসেছেন? আর আগামী দিনের সেই কর্মকাণ্ডগুলোর যদি সঠিক বিচার না হয়, অসংখ্য অপকর্ম বৃদ্ধি পাবে, সেটার প্রতিকারের ব্যবস্থাটা কী আপনারা করবেন?
প্যানেল আলোচক, সম্পাদক, দুরন্ত সংবাদ