আমি তিনটা বিষয়কে হাইলাইট করতে চাই। একটা হচ্ছে জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও ভাবনা। এর ভেতরে প্রথমত হলো যে, আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিশাল ফারাক। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিটা কী? সেই প্রত্যাশাটা আমরা রাষ্ট্রের কাছে চাই। রাষ্ট্র ব্যবস্থা করবে। সেই ব্যবস্থার ভেতরে কী কী প্রত্যাশা আমাদের রয়েছে? প্রথমত, যেটা আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ববৃন্দ, যারা আছেন, তাদের ভেতরে একটা জবাবদিহিতা। তার মানে জবাবদিহিতা না থাকলে কোনো ব্যবস্থাই কিন্তু সঠিকভাবে হবে না। একজন সরকারি কর্মচারি, সরকারি কর্মকর্তা, যিনি তিনি জনগণের সেবার জন্য কাজ করছেন, তার যদি জবাবদিহিতা না থাকে, তাহলে তার কাছ থেকে আমরা সেবা পাব না। একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, তার কাছে জবাবদিহিতা না থাকলে তার কাছ থেকে আমরা সেবা পাব না।

দ্বিতীয়ত হচ্ছে, সুশাসন। সুশাসনটা এখন আমরা যেটা দেখি, সেটা হচ্ছে আমাদের দেশে কোনো সমস্যা হলে সবাই কিন্তু রাজনীতির ওপরই দোষটা চাপিয়ে দেন। সব সমস্যার মূলে রাজনীতি। আমি মনে করি, যে রাজনীতি সব সমস্যার মূলে নয়। আসলে আমাদের যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সেখানে সুশাসনটা দরকার। মানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে কর্মকাণ্ড, সেখানে সুশাসনটা দরকার।
তৃতীয়ত হচ্ছে, মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। আমরা যেটা দেখি, যে আমরা বড় বড় ডিগ্রি নিয়েছি, কিন্তু আমাদের যে নৈতিকতা, সেই নৈতিকতার জায়গাটা কিন্তু আমরা হারিয়ে ফেলছি। কারণ নৈতিকতা, বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ ছাড়া সমাজে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
এই তিনটি বিষয় যদি আমরা আগামী দিনে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবেন, তারা যদি এই তিনটি বিষয়কে সঠিক করেন, তাহলে আমি মনে করি যে, আগামীর বাংলাদেশটা ভালো হবে এবং আমাদের যে একটা সুন্দর বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশের প্রত্যাশা আমরা দেখতে পাব।
আর সবশেষে একটি কথা বলতে চাই, এই যে আমাদের যে প্রত্যাশাগুলো, এই প্রত্যাশাগুলো যারা রাজনীতি করছেন, তাদের কাছে পৌঁছানোর দরকার। তাদের কাছে এই প্রত্যাশাগুলো যদি না পৌঁছায়, তাহলে তাদের কাছে কিন্তু এই প্রত্যাশাগুলো পূরণের উদ্যোগ দেখতে পাবো না। তাই আমি মনে করি, যে এই প্রত্যাশাগুলো তাদের কাছে পৌঁছানো দরকার এবং তারা যেন সেইভাবে কাজ করে, যাতে আগামীর বাংলাদেশটা একটা সুন্দর বাংলাদেশ উপহার পেতে পারি।
প্যানেল আলোচক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক বগুড়া