আমাদের কোনো দিন স্কুল-কলেজে পড়ানো হয়নি, রাস্তার কোন পাশ দিয়ে হাঁটতে হবে। আমাদের কি কোনোদিনই শেখানো হয়নি যে রাস্তায় হর্ন বাজালে ক্ষতি হবে? আমরা শুধু ওদেরকে দোষ দিচ্ছি কেন? আমাদেরকে প্রাইমারিতে কখনো বলা হয়েছে যে তুমি হর্ন বাজালে তোমার কানের ক্ষতি হবে? তুমি যে হর্ন বাজাও এটা হাইড্রোলিক হর্ন। এটা বনে-জঙ্গলের পশু তাড়ানোর জন্য করা হয়। তো এই মানসিকতা তৈরির জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার একটা আমূল পরিবর্তন প্রত্যাশা করছি এবং সবচেয়ে বড় যেটা মনে করছি সেটা হলো যে রাজনৈতিক দখলদারিত্বের পরিবর্তন চাই। আমাদের দেশে কিছু অরাজনৈতিক সংগঠন আছে। যেমন আমি একজন নিজে স্কাউটার। বাংলাদেশ স্কাউটস একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ইদানীং দেখছি যে এগুলোতেও রাজনীতি করণ হয়ে যাচ্ছে এবং সেটা খুব নির্লজ্জ রাজনীতিকরণ। এটার একটি পরিবর্তন প্রয়োজন আমরা প্রত্যাশা করি।

আমরা চাচ্ছি যে আমরা হেঁটে যেতে পারি এমন একটি ফুটপাথ চাই। কিন্তু ফুটপাতে যে লোকটি দোকান দিচ্ছে, ওই লোকটি যে এটা বুঝেই না যে রাস্তা বন্ধ করলে ঈমান ভঙ্গ হয়। আল্লাহর রাসূল সা. বললেন যে, ঈমানের ৭০টি শাখা। তার সর্বশেষ শাখাটি হচ্ছে রাস্তা থেকে একটি কষ্টদায়ক বস্তুকে সরিয়ে রাখা। তাহলে যদি কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে রাখলে ঈমান পূর্ণ হয়, রাস্তার ভেতরে আটকে দিলে সেটা কি ঈমান পূর্ণ হবে না ক্ষুণ্ণ হবে, এই জিনিসটা কিন্তু আমাদের মধ্যে সচেতনতা নেই।
আর সবচেয়ে বড় কথা হলো যে কথাটি বারবারই এসেছে, আমাদের এমপিদের কাজের যে পরিধি এটা জনগণের মধ্যে জানানো। যে তার কাজটি আসলে গান শোনানো নয়। তার কাজটি এলাকার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়া নয়, একটি প্রাইমারি স্কুলের সভাপতিকে হবে এটার ডিও লেটার দেওয়া নয়। রাষ্ট্রের জন্য আইন প্রণয়ন করা এবং এই উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো লোকাল গভর্নমেন্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা। এটা যদি জনগণ বুঝতে পারে, আমার মনে হয় যে এই জানানোর যে জনসচেতনতা, এটি আগামী নির্বাচনে সাধারণ জনগণের প্রত্যাশাকে আরও পরিষ্কার করবে। ধন্যবাদ।
প্যানেল আলোচক, সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
সরকারি শাহ সুলতান কলেজ বগুড়া