• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

OCPASS এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু

Reporter Name / ২০০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

বাপ্পা আজিজুল

OCPASS (Osmani Centre for Peace and Security Studies) এর আত্মপ্রকাশ এবছরের মে মাসে। জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সেনা সদর দপ্তর থেকেই একদল চৌকষ মিলিটারি একডেমিসিয়ানদের উদ্যোগে OCPASS এর যাত্রা শুরু (the initiative was launched by the Army Headquarters distinguished panel of experts from military and academic spheres was appointed to lead the Institution. OCPASS operates with full autonomy, guided Solely by the overarching principles of national interest.)|

এটি একটি রেজিস্টার্ড প্রতিষ্ঠান

(registered under the societies Registration Act of 1860 -Act XXI of 1860-, OCPASS is a self-governing organisation recognised by the office of the registrar of joint stock companies and firms (RJSC))

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশপন্থী চেতনার অন্যতম রূপকার, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর আপোষহীন নীতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেই প্রতিষ্ঠানটি নামকরণ করা হয়েছে, যা হয়ে ওঠেছে দল নিরপেক্ষ এবং সার্বজনীন। OCPASS ভ‚-রাজনীতি, ভূ‚-অর্থনীতি, শান্তি প্রতিষ্ঠা, দ্ব›দ্ব নিরসন, জাতীয় প্রতিরক্ষা, প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক বিষয়াদি অধ্যয়ন, সাইবার ও তথ্য যুদ্ধ, আইন, সামুদ্রিক ও বøæ ইকোনমি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জেন্ডার ও মানবাধিকার, মহাকাশ গবেষণা ও বায়ুশক্তি অর্জন নিয়ে অধ্যয়ন, নীতি নির্ধারণী ভ‚মিকা এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়।

OCPASS perspectives, OCPASS এর অফিসিয়াল বুলেটিন যার সূচনা সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে আগস্ট ২০২৫ এ। এতে OCPASS ও জেনারেল ওসমানীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং সম্পাদকীয় ছাড়াও ১১টি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। আর্টিকেলগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক নীতি, ক‚টনীতি, ভ‚-রাজনীতি, এতদঞ্চলের আঞ্চলিক সংকট ও সম্ভাবনা, সীমান্ত অস্থিরতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের উপস্থিতি ইত্যাদি নিয়ে গবেষণাধর্মী, ইনসাইটফুল আলোচনা ও বিশ্লেষণ হাজির করা হয়েছে। OCPASS এর মূলমন্ত্র ÔPeace & Security Through Wisdom‘ (শান্তি ও প্রতিরক্ষায় প্রজ্ঞা)

Security and Defense in the Foreign Policy and Diplomacy of Bangladesh শিরোনামে লিড আর্টিকেলে বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কুয়ালালামপুর ভিত্তিক থিংক ট্যাংক Muslim World Research Center (MWRC) এর প্রেসিডেন্ট ড. ইশারফ হোসেন বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন,

Recognizing its strategic importance, many advanced Nations, including the United States, United Kingdom, Russia, China and several NATO members have established dedicated defense diplomatic cadres. This cadres consist of officers and official from mid to senior level positions within the armed forces or security services, who then undergo specialized training in foreign policy, military strategy, International Law, intelligence cooperation and cross-cultural communication. once trained, they are systematically deployed to Embassies, multilateral missions, strategic think tanks, and security forums, both domestically and internationally. In many countries, intelligence coordination is integrated into this framework to enhance Information sharing and strategic foresight. Bangladesh can learn from them for same purpose Ó.

”Ind Bangladesh border insecurity: fresh perspectives” শিরোনামে সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত একটি প্রবন্ধে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ আমিন আকবর পরামর্শ দিয়েছেন, সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমন এবং নির্বিচারে হত্যা প্রতিরোধে বাংলাদেশকে তার বয়ান, মানসিকতা ও আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে (reframing the narrative, mindset and attitude)| ভারতীয় রাজনৈতিক দল, সরকারি পলিসি এবং মিডিয়ার একতরফা, বিকৃত বয়ানকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। অবৈধ ‘পুশ ইন’ রোধে প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে কৌশলগত ইতিবাচক সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে (positive strategic resilence)| এছাড়া সীমান্তে অপরাধ দমনে আগ বাড়িয়ে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে যেমন- সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, পুরো কৌশলগত পরিকল্পনার সাথে সীমান্তের জনগণকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা, বাহিনীর আধুনিকায়ন, সুপ্রতিবেশীর ন্যায় আচার-ভঙ্গী প্রদর্শন করা ইত্যাদি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা সম্পর্কে কিঞ্চিৎ উল্লেখ না করে পারছি না। লে. জেনারেল (অব:) ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ’Bay of Bengal Geopolitics and Options for Bangladesh’ নামক প্রবন্ধে আমাদের সমুদ্রসীমা, জল নিরাপত্তা, সমুদ্র সম্পদ ও অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বেশ কিছু কৌশল বাতলে দিয়েছেন। তিনি লিখছেন, ১৮শ সালের দিকে যখন বিশ্ব অর্থনীতির ২৪ শতাংশ ভারত এবং ৩৬ শতাংশ চায়না নিয়ন্ত্রণ করত (অর্থাৎ এই দুইটি সভ্যতা মিলে বিশ্ব অর্থনীতির ৬০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করত), তখন বাংলা ছিল এশিয়ার পাওয়ার হাউস এবং ভারত মহাসাগর বিশেষত বঙ্গোপসাগর ছিল শান্তিপূর্ণ ও উন্মুক্ত অঞ্চল। সুতরাং উপনিবেশ-পূর্ব সময়ের মতো বাংলাদেশ আবারও অর্থনীতিতে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে যদি বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের এই অঞ্চলটিকে পুনরায় উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সক্রিয় করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের ন্যায় ‘বিষাক্ত চিংড়ি নীতি’ ((poisonous shrimp strategy) মডেল অনুসরণ করতে পারে। এজন্য বাংলাদেশকে মেধাতন্ত্রতে (meritocracy) ফেরত যেতে হবে। নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকতে হবে। ‘ঘড় এড়’ অঞ্চলে চলাচল পরিহার করতে হবে। এসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এবং মন্ত্রণালয় ভারত ও চায়না বিষয়ক ডেস্ক খুলতে হবে যা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ফলোআপ করতে হবে, তাহলে তা নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যাপক ভ‚মিকা রাখতে পারবে।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা নিশ্চিতকরণে টেকসই গণতন্ত্র এবং সংসদে কার্যকরী বিরোধী দল প্রয়োজন। জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা আজকাল শুধুই “সেনা” বা “আইনশৃঙ্খলা” নয়, এটি সমাজের ওপর একেকটি নীতি, অর্থনীতি, তথ্য-পরিবেশ ও মানবিক ব্যবস্থার সংমিশ্রণ। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আমাদের যা দরকার তা হলো—স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তি, মানবাধিকার-বান্ধব নিরাপত্তা নীতি, এবং জাতীয় নীতিতে স্বাধীন গবেষণা ও বিতর্কের জোর। উপরোক্ত নীতিগত ও কার্যকরী পদক্ষেপগুলো যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা কেবল শারীরিক হুমকি প্রতিহত করবে না, বরং সামাজিক সুস্থতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। নীতিনির্ধারণে স্বাধীন গবেষণা, উন্মুক্ত পাবলিক ডিবেট ও অন-ফিল্টারড একাডেমিক বিশ্লেষণকে উৎসাহিত করতে হবে; বুদ্ধিজীবীর অপপ্রযুক্তি বা কুপথে ব্যবহার হওয়া বন্ধ রাখতে পিয়ার-রিভিউ ও নৈতিক কোড প্রয়োজন। গুজব ও মিথ্যা তথ্য (misinformation) মোকাবিলা কিন্তু বাক-স্বাধীনতা রক্ষায় fact-checking  প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছ সোর্সিং ও গণমাধ্যমের ফেক্সিবিলিটি বাড়িয়ে misinformation কে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না; একই সময়ে সরকারিহস্তক্ষেপ সীমাবদ্ধ করা জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category