• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

পার্বত্য চট্টগ্রাম যেভাবে বাংলাদেশের অংশ হলো?

Reporter Name / ১৫৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

জুবায়ের হাসান

খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলার মোট ক্ষেত্রফল পুরো বাংলাদেশের ক্ষেত্রফলের দশ ভাগের এক ভাগ। এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা বিশেষভাবে ভাবছি না। এ ব্যাপারে আমাদের রয়েছে যথেষ্ট উদাসীনতা। ভারতীয় ভ্রান্ত বয়ানের কারণে অনেকেই ভেবে বসেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বোধহয় এক অধিকৃত অঞ্চল। আর সেইসাথে অনেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি লোকজনকে মনে করছেন আদিবাসী হিসাবে। এসব থেকে কেউ কেউ মনে করেছেন, তিন পার্বত্য জেলার বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হবার যেন-বা ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে। তারা ভাবেছেন বাংলাদেশের মূল ইতিহাস থেকে পার্বত্য তিন জেলার ইতিহাস বিশেষভাবে ভিন্ন কিছু। কিন্তু ইতিহাসের আলোকে তাদের এ সকল ধারণা একেবারেই ভুল। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে ঐতিহাসিকভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর বাংলাদেশের রয়েছে অধিকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ এবং এর বাংলাভাষী মানুষ কখনো জোর করে দখল করেননি পার্বত্য চট্টগ্রাম। আর পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীও সেখানকার আদিবাসী নন, বরং অভিবাসী।

পাহাড়িদের বাংলাদেশে আগমনকাল:
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় মোট ১৩টি উপজাতির বসবাস। এসব উপজাতিদের কেউই পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নয়। এরা সবাই প্রধানত সাবেক বার্মা বা বর্তমান মায়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে এসেছেন। কেউ কেউ ভারতের সেভেন সিস্টার্স থেকেও এসেছেন। এসব উপজাতিদের কোনো গোষ্ঠীই সর্বোচ্চ চারশো বছরের বেশি সময় আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় আগমন করেননি। বস্তুত এই ১৩টি উপজাতি জনগোষ্ঠীর লোকজন পার্বত্য চট্টগ্রামে উপনিবিষ্ট হয়েছেন সপ্তদশ থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালে। তাই এরা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভ‚মিপুত্র নন কিম্বা আদিবাসীও নন। তাদের পিতৃপুরুষদের সবাই পার্বত্য চট্টগ্রামে অভিবাসী বা সেটলার হিসেবে এসেছিলেন।

সর্বপ্রথম সপ্তদশ শতকের দিকে কুকিরা বার্মার চিন প্রদেশ থেকে চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণ অঞ্চলে আসেন। এরই কাছাকাছি সময়ে মুরংরা আরাকান থেকে এ অঞ্চলে আসেন। এদের পর চাকমারা আরাকান থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আসেন। চাকমাদের আগমনকাল মুঘল আমলে, যা এখন থেকে মাত্র প্রায় তিন শত বছর আগে। চাকমারা এসে চট্টগ্রামের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে মুরং ও কুকিদের সরিয়ে দেয়। অতঃপর মুরং ও কুকিরা সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে উপনিবিষ্ট হয়েছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার উত্তর-পূর্ব ভাগে। চাকমাদের পর এদেশে আসেন মারমা বা মগরা। ১৭৮৫ সালে দক্ষিণ বার্মার রাজা বোদাপায়ার হাতে আরাকান রাজ্য আক্রান্ত হলে মারমারা আরাকান অঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আসেন। সেসময় চাকমারা ছিলেন চট্টগ্রামের দক্ষিণ অঞ্চলে। মারমারা এসে সেখান থেকে চাকমাদের ঠেলে দেয় রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অরণ্যে। তখন থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত মারমারা প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্ব দক্ষিণের জেলা বান্দরবানে বসবাস করেন। আর মারমাদের হাতে সেখান থেকে বিতাড়িত চাকমারা রাঙ্গামাটিতে বসবাস করতে থাকেন এবং বর্তমানে রাঙ্গামাটিতেই চাকমাদের প্রধানতম বসবাস। দক্ষিণ চট্টগ্রামে তাদের কোনো বসতি নেই। সুতরাং বাংলাভাষী মানুষরা চাকমাদেরকে রাঙ্গামাটির গহীন অরণ্যে যেতে বাধ্য করেননি। চাকমাদের আরণ্যক জীবনের জন্য দায়ী হলেন আরেক অভিবাসী উপজাতি মারমা জনগোষ্ঠী।

যা-ই হোক, পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজাতিদের মধ্যে ত্রিপুরীরা সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে ভারতের পার্বত্য ত্রিপুরা থেকে এদেশে আসেন, ওই একই সময়ে খুমিরা বার্মা থেকে আসেন, খিয়াং উপজাতি আরাকান পাহাড় থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর দিকে আসেন, বোম উপজাতির লোকেরা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে ১৮৩৮-৩৯ সালের দিকে আসেন, আর মিজোরাম থেকে লুসাইরা আসেন এখন থেকে মাত্র ১৫০ বছর আগে।
এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩ টি উপজাতিদের কেউই চারশো বছরের বেশি সময় আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগমন করেননি। তাই তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নন। তবে অনেকে অবশ্য বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীর আলোকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিদের আগমন ঘটেছিল আরো অনেক বছর আগে। কিন্তু সেসব পৌরাণিক কাহিনীর ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাস:
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রাচীন ও মধ্যযুগের রাজনৈতিক ইতিহাসের লিখিত রূপ খুবই সীমিত। বিভিন্ন রাজবংশের শিলালিপি, তাম্রলিপি আর লোককাহিনী থেকে ইতিহাসবিদরা কিছুটা ইতিহাস বের করেছেন। সেসব থেকে ধারণা করা হয় যে ষষ্ঠ শতকের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠিত আরাকানী রাজ্য এক সময় চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বর্তমান আসাম রাজ্যের কতক অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিলো। অতঃপর ৭ম শতকে ত্রিপুরা রাজারা আরাকানী রাজাদের হারিয়ে এই অঞ্চলের দখল নেয়। এরপর অষ্টম শতাব্দীতে বাংলার বৌদ্ধ পাল বংশের রাজা ধর্মপাল ত্রিপুরা রাজাদের কাছ থেকে চট্টগ্রাম দখল করে সেখানে পাল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রায় চারশো বছর পর ১৩৪০ সালে গৌড়ের সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাঁর শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। বস্তুত এই ফখরুদ্দীন মোবারক শাহের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকান অঞ্চল সম্পর্কে একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক ইতিহাস পাওয়া যায়। এর পূর্বের চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাস ভীষণ অস্পষ্ট।

যা-ই হোক, বাংলার গৌড়ের স্বাধীন সুলতানরা ১৩৪০ থেকে ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চল শাসন করেন। এরপর ১৫৩৮ থেকে ১৫৭৬ সাল পর্যন্ত আফগান শাসকরা চট্টগ্রাম অঞ্চল শাসন করেন। এরপর বারো ভ‚ঁইয়াদের যুগে আরাকানি শাসকরা চট্টগ্রাম দখল করে। আরাকানি শাসকরা ১৫৮১ থেকে ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম অঞ্চল শাসন করে। তবে আরাকান রাজাদের এই শাসনকাল সুদৃঢ় ছিল না। কেননা সেসময় চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্তুগিজ বণিকরা যথেষ্ট প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী হয়ে উঠেছিলো। আরাকানি শাসকরা চট্টগ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে পর্তুগিজ বণিকদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উল্লেখ্য, পর্তুগিজ বণিকরা ১৫১৭ সালের দিকে চট্টগ্রামে আসা শুরু করে। স্থানীয়ভাবে তাদেরকে ফিরিঙ্গি বলা হতো। এ থেকেই চট্টগ্রাম শহরের একটি স্থানের নাম হয়েছে ফিরিঙ্গি বাজার। যা-ই হোক, আরাকানি শাসকরা চট্টগ্রামে পর্তুগিজ বণিকদের যখন প্রতিরোধ করছিল সেসময় বাংলায় মুঘলদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর ১৬৬৬ সালে মুঘলরা চট্টগ্রাম থেকে আরাকানি শাসক ও পর্তুগিজ দস্যু উভয়কে হটিয়ে দিয়ে সেখানে তাদের শক্তিশালী শাসন প্রতিষ্ঠা করে। চট্টগ্রামে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ার এ সময়কালেই আরাকান থেকে চাকমারা চট্টগ্রাম অঞ্চলে আসা শুরু করেন। চাকমাদের সরদার শের মুস্ত খাঁ আরাকান থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে আসেন এবং মুঘল আনুগত্য গ্রহণ করেন। চাকমারা মুঘল শাসকদের খাজনা দিতেন পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎপন্ন তুলার মাধ্যমে। সকল চাকমা সরদাররা মুঘল শাসকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন আরবি-ফারসি ভাষার মাধ্যমে, বাংলা ভাষার মাধ্যমে নয়। কিন্তু চট্টগ্রামবাসীদের সঙ্গে হাট বাজারে চলতে গিয়ে চাকমা জনগোষ্ঠী ক্রমে বাংলা শিখতে বাধ্য হন। এর ফলে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বাংলা হয়ে ওঠে তাদের পরিচিত ভাষা। বর্তমানে চাকমারা যে ভাষায় কথা বলেন তা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বাংলা ভাষারই একটা বিশেষ রূপ।

এক সময় চাকমা সর্দাররা নিজেদের মুসলিম নাম রাখতেন। যেমন জামুল খাঁ, শের মুস্ত খাঁ, শের দৌলত খাঁ, জানবক্স খাঁ, টব্বর খাঁ ধর্মবক্স খাঁ প্রভৃতি। চাকমা সর্দারদের এ ধরনের মুসলমানি নাম রাখার ব্যাপারে ধারণা করা হয় যে এক সময় আরাকানের রাজারা যেভাবে মুসলমানি নাম রাখতেন, সেই ঐতিহ্যের প্রভাবেই চাকমা সর্দাররাও মুসলমানি নাম ধারণ করেছিলেন। আর ওই একই ঐতিহ্য ধারণ করেই চাকমা সর্দারদের স্ত্রীরা তাদের নামের আগে বিবি সম্বোধন যোগ করতেন। চাকমারা দুঃখ বা বিস্ময়ের আবেগ প্রকাশের সময় বলতেন খোদা! একে অপরের সাথে দেখা হলে দিতেন সালাম। (উদ্ধৃত: চাকমা জাতি, শ্রী সতীশ চন্দ্র ঘোষ, প্রকাশকাল: ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা:৬)। যা-ই হোক, ১৭০৭ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম অঞ্চল নবাবী শাসনের অধীন হয়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় নবাবী শাসনের অবসান ঘটে। অতঃপর ১৭৬০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার বিদ্রোহী নবাব মীর কাশিমের কাছ থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইজারার বন্দোবস্ত জোর করে আদায় করে নেয়। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ৪০০ বছরের মুসলিম শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে, শুরু হয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন। এই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকালে খাজনা আদায় নিয়ে চাকমাদের সাথে ইংরেজদের দ্ব›দ্ব-সংঘাত হয়। অবশ্য পরবর্তীতে তা নিরসন হয় এবং ইংরেজ শাসকদের সাথে চাকমাদের গড়ে ওঠে সখ্যতা।

১৮৫৮ সালে ভারতবর্ষ মহারানী ভিক্টোরিয়ার আমলে সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের শাসনের অধীনে যায়। তখন সে সময়কালে চাকমা সরদাররা ইংরেজ শাসকদের কাছ থেকে লাভ করেন রাজা উপাধি এবং সামান্য কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা। তবে ওই ১৮৫৮ সাল থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ শাসনামলে চাকমা রাজারা কোনোভাবেই সার্বভৌম শাসক ছিলেন না। বাংলায় যেমন ইংরেজরা ভ‚মির মালিকানায় হিন্দু জমিদার শ্রেণী সৃষ্টি করেছিলো, তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামের ভ‚মি মালিকানায় চাকমা রাজা শ্রেণী সৃষ্টি করেছিলো।
পার্বত্য চট্টগ্রাম কখন কিভাবে জেলা হলো?

১৭৬০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন নবাব মীর কাশিমের কাছ থেকে সমগ্র চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইজারা লাভ করেছিল তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে কোনো আলাদা জেলা ছিলো না। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল জেলা হয় এর আরও একশো বছর পর মহারানী ভিক্টোরিয়ার শাসনামলে। সেসময় ১৮৬০ সালে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা বা ঈযরঃঃধমড়হম ঐরষষ ঞৎধপঃ. তখন জেলাকে বলা হতো মহল। অতঃপর সেই পার্বত্য চট্টগ্রাম মহল তথা ঈযরঃঃধমড়হম ঐরষষ ঞৎধপঃ ১৮৬০ সাল থেকে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ছেড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ৮৭ বছর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি বা বাংলা প্রদেশেরই একটা মহল বা জেলা হিসেবে থেকেছে। ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক এই পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা বা ঈযরঃঃধমড়হম ঐরষষ ঞৎধপঃ গঠনের একটি পটভ‚মি রয়েছে। তা হলো: ১৮২২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে দশ নম্বর রেগুলেশন এ্যাক্ট তৈরি করা হয়। যাতে বলা হয় বাংলা প্রদেশের সব জেলার মানুষ যথেষ্ট সভ্য ও উন্নত নয়। যেসব জেলার মানুষ যথেষ্ট সভ্য ও উন্নত নয়, তাদের শাসন ও সংরক্ষণ প্রণালী হবে বাংলা প্রদেশের অন্যসব অগ্রসর জেলা থেকে ভিন্ন। অর্থাৎ অনগ্রসর জেলার মানুষের জন্য থাকবে আলাদাভাবে বিশেষ সুযোগ সুবিধা। অতঃপর এই আইনের আলোকেই ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ সুবিধা দিতে একে অনগ্রসর অঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত করে চট্টগ্রাম থেকে পৃথক একটি জেলা ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য সেসময় রংপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংকেও অনগ্রসর অঞ্চল গণ্য করে প্রত্যেককে আলাদা আলাদা জেলা হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এসব জেলা বা মহলকে বলা হত নন রেগুলেশন জেলা। এসব জেলার শাসনভার ন্যস্ত ছিলো একজন করে ডেপুটি কমিশনারের ওপর। তারা এসব জেলাকে শাসন করতেন বাংলা প্রদেশের অন্য জেলাগুলো থেকে পৃথক আইন অনুসরণ করে। তবে পরবর্তীকালে রংপুর, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির অনগ্রসর স্ট্যাটাস বাতিল করে তাদেরকে অন্যান্য অগ্রসর জেলার মতোই সাধারণ জেলায় ফিরিয়ে নেয়া হয়। ফলে তারা শাসিত হতে থাকে বাংলার অন্যান্য অগ্রসর জেলার মতোই সাধারণ আইনে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে যায় নন রেগুলেশন জেলা হিসাবে এবং শাসিত হতে থাকে বিশেষ সুবিধা আইনে। তবে আসলে এরকম করার আড়ালে ছিলো পাহাড়ি উপজাতিদের মধ্যে খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের সুযোগ তৈরি করে দেয়া। বস্তুত ১৮৬০ সালে যতগুলো কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা গঠন করা হয় তার মধ্যে খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচার করা ছিলো অন্যতম এক কারণ ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কিভাবে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হলো?
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৯২, ১৮৯৬ ও ১৯০১ সালে এই তিনবার পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলা প্রদেশ বা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি থেকে পৃথক করে একে তখনকার আসাম প্রদেশের সাথে জুড়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামবাসী এর বিরোধিতা করেন এবং থাকতে চান বাংলা প্রদেশ ও চট্টগ্রাম বিভাগেরই অংশ হয়ে। এই ইতিহাস বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। কেননা সেসময় তারা আসামের সাথে যুক্ত থাকতে রাজি হলে ১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতো না। বস্তুত ১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম তদানীন্তন পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয় তা বাংলা প্রদেশ ও চট্টগ্রাম বিভাগের অংশ হবার কারণে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার ভারতবর্ষ ত্যাগের পূর্বে ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্তে¡র ভিত্তিতে গঠন করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব ও পশ্চিম এই দুইয়ে মিলে এক পাকিস্তান। ব্রিটিশ বাংলা প্রদেশের পূর্ব অংশ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান। ব্রিটিশ বাংলা প্রদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল। তাই দ্বি-জাতি তত্তে¡র ভিত্তিতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তা পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলার ভাগে পড়ে। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য চট্টগ্রাম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা ছিলো না। তাই তা হতে পারতো ভারতের অংশ। কিন্তু বিশেষ বিবেচনায় পার্বত্য চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করা হয় পাকিস্তানের সঙ্গে। আর ভারতের কংগ্রেসের হিন্দু নেতারা এই সংযুক্তির কোনো প্রতিবাদ করেন না। কারণ এর পেছনে রয়েছে এক তাৎপর্যপূর্ণ ছোট্ট ইতিহাস। তা এই যে, ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশ ও বাংলা প্রদেশকে বিভাজন করে ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণকারী রেখা টানা হয়। এভাবে ভারত ও পাকিস্তানের সীমানার ভাগ বাটোয়ারাকে ইতিহাসে র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ বা ভাগ বাটোয়ারা বলা হয়।

র্যাডক্লিফের রোয়েদাদ অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর কারণ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ র্যাডক্লিফের রোয়েদাদের সময় পাঞ্জাবের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল গুরুদাসপুর জেলাকে ভারতের অধীন ছেড়ে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর এ নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি নেহরু কোনো আপত্তি তোলেননি। কারণ পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর পেয়ে নেহেরু বেশ খুশি ছিলেন। কেননা পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর এলাকা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত থাকলে কাশ্মীরে ভৌগলিক কৌশলগত দিক দিয়ে পাকিস্তান ভারতের চাইতে এগিয়ে থাকতো। তখন ভারত আর কিছুতেই কাশ্মীরের ওপর দখল নিতে পারত না। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান প্রজন্মের পাকিস্তানিরা মনে করে থাকেন পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর ছেড়ে দেয়া ছিলো জিন্নাহর এক ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু জিন্নাহ সেসময় বুঝেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্তানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা না গেলে চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আর তার ফলে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তাই তিনি পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর ছেড়ে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখনকার দিনে বিষয়টি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবেই নিষ্পন্ন হতে পেরেছিলো।

১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে কি হয়েছিল?
১৯৪৭ সালে বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের সময় হয়েছিলো ব্যাপক খুনোখুনি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করার সময় সৃষ্টি হয়নি কোনো দ্ব›দ্ব-সংঘাত দাঙ্গা। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমারা চাইছিলেন পাকিস্তান নয়, বরং ভারতের সাথে অন্তর্ভুক্ত হতে। এ কারণে ১৯৪৭ সালের ১৪ ই আগস্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দিনে চাকমা নেতা স্নেহ কুমারের নেতৃত্বে তাঁরা রাঙ্গামাটিতে উড়িয়েছিলেন ভারতের পতাকা। তাঁদেরকে থামিয়ে দিতে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারকে পাঠাতে হয়েছিলো সৈন্য। তাঁরা ভারতীয় পতাকা নামাতে চাইছিলেন না। বালুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা গিয়ে নামিয়ে ফেলেন ভারতীয় পতাকা এবং তদস্থলে ওড়ানো হয় পাকিস্তানের পতাকা। ওদিকে, বান্দরবানে মারমারা উড়িয়েছিলেন বার্মার দোবামা পার্টির পতাকা। মারমারা চেয়েছিলেন বান্দরবান এলাকাকে বার্মার সাথে যুক্ত করতে। কিন্তু সেটাও ব্যর্থ হয়। সুতরাং ১৯৪৭ সালে চাকমা কিংবা মারমারা স্বাধীনতা চাননি। চাকমারা ভারত আর মারমারা বার্মার সাথে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন। বস্তুত প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ কিংবা আধুনিক যুগের ইতিহাসের কালপ্রবাহ প্রমাণ করে যে পার্বত্য চট্টগ্রাম কখনোই একটি স্বাধীন অঞ্চল ছিলো না। এ অঞ্চলের পাহাড়ি উপজাতি জনগোষ্ঠীর ছিলো না কোনো একক রাজ্য ও রাজার শাসন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পূর্বে কিম্বা ব্রিটিশ আমলে অথবা মুঘল যুগে চাকমা ও মারমারা কখনোই স্বাধীনতার দাবি তোলেননি কিম্বা এমনকি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরেও করেননি। কেবলমাত্র ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পরপরই তারা স্বাধীনতার নামে মূলত ভারতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে নানান বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা শুরু করে। এখানে একটি বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো চাকমা জনগোষ্ঠীর রাজা ত্রিদিব রায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করে তিনি নিয়েছিলেন পাকিস্তানের পক্ষ। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তিনি পাকিস্তানে চলে যান এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োজিত থাকেন। পাকিস্তানেই তার মৃত্যু ও সমাধি হয়। ওদিকে মিজো বা লুসাই জনগোষ্ঠীর সশস্ত্র যোদ্ধারাও পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে প্রায় দুই হাজার মিজো সৈন্য ছিলো রাঙ্গামাটিতে। তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অংশ বলে নিজেদের পরিচয় দিয়ে ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৭২ সালে সিমলা চুক্তির পর পাক বাহিনীর অন্য সেনাদের সাথে মুক্তি পেয়ে তারা চলে যান করাচিতে।

কিভাবে বাংলাদেশের আয়তন আরও বড় হতে পারতো?
১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দিনে পূর্ব বাংলার সীমান্তবর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা ও অঞ্চলের জনগণ উত্তোলন করেছিলেন পাকিস্তানের চাঁদ-তারা পতাকা। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসব অঞ্চলের জনগণ ভেবেছিলেন যে তাদের অঞ্চলটি পাকিস্তানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু তিন-চার দিন পর তারা র্যাডক্লিফের রোয়েদাদ মানতে বাধ্য হন। এদিকে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট সিলেট অঞ্চলের জকিগঞ্জ সীমান্তে লাগোয়া বর্তমান আসামের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা করিমগঞ্জের অধিবাসীরাও পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাদেরকে বাধ্য হয়েই আসাম তথা ভারতের অধীনতা মেনে নিতে হয়। অথচ ১৯৪৭ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সিলেটের গণভোটের ফলাফল মোতাবেক করিমগঞ্জ পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু র্যাডক্লিফ ইচ্ছাকৃতভাবেই হোক আর অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেই হোক করিমগঞ্জকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে সীমারেখা টেনেছিলেন। ফলে পূর্ব পাকিস্তান বঞ্চিত হয় করিমগঞ্জ পাওয়া থেকে, যা আয়তনে গাজীপুর জেলার চেয়েও বড় একটি এলাকা। বস্তুত ভারতের কংগ্রেস দলের হিন্দু নেতারা ও ভারতে নিযুক্ত শেষ ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন খুব করে চাইছিলেন নবগঠিত পাকিস্তানকে আয়তনগত দিক দিয়ে যতোটুকু সম্ভব ছোট করে রাখা যায়। এ কারণেই বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে গণভোটের আয়োজন করা হয়। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশেও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। অথচ এ অঞ্চল দুটিতে গণভোটের কোনোই প্রয়োজন ছিলো না। কেননা দ্বিজাতি তত্ত¡ অনুযায়ী এসব অঞ্চল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সেগুলো এমনিতেই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিলো।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পুরো পাঞ্জাব ও বাংলা প্রদেশ এবং সমগ্র আসামের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অঞ্চলগুলো পাকিস্তানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ছিলো। কলকাতা বন্দরও পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এসবে ভারতীয় কংগ্রেস কোনোভাবেই রাজি ছিলো না। কংগ্রেস কেবলমাত্র তখনই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছিলো যখন পাঞ্জাব ও বাংলাকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। আর অবশেষে পাকিস্তানকে পাঞ্জাব ও বাংলার খÐিত অংশ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

শেষ কথা:
যা ছিল সাবেক পূর্ব পাকিস্তান সেই সীমারেখাই আজকের বাংলাদেশের সীমানা। পার্বত্য চট্টগ্রাম পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হওয়ার মাধ্যমেই তা বর্তমান বাংলাদেশের অংশ হয়েছে। উল্লেখ্য বর্তমানে কাশ্মীর অঞ্চল ছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের বাদবাকি পুরো এলাকার সীমারেখা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই তা ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট মেনে নিয়েছিল। আর ১৯৪৭ সালের পূর্ব পাকিস্তানের সীমারেখা অনুযায়ী অধুনা বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। সুতরাং এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ও ভারত কেউই নতুন কোনো অঞ্চল বা সীমারেখা দাবি করতে পারে না। আসলে উভয় দেশকেই মেনে চলতে হবে আন্তর্জাতিক রীতি নীতি।

                   লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category