• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

সম্পাদকীয়

প্রতীক ওমর / ৮০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের উপর দিয়ে এখন নির্বাচনী হওয়া বয়ে যাচ্ছে। উৎকষ্ঠা উদবিগ্ন বাড়ছে দিন দিন। ভোট হবে কিনা সেই অনিশ্চয়তাও কাটেনি। কেউ ভোটের পক্ষে আবার কেউ জুলাই সদনের আইনি ভিত্তির পর নির্বাচন চাচ্ছে। হা না ভোট নিয়েও একটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ রাজনীতি বুঝতে শুরু করেছে। চায়ের আড্ডা, ফসলের মাঠ কিংবা রিক্সার প্যাডেল ঘুড়াতে ঘুড়াতেও আলোচনায় একিভূত হয়ে যাচ্ছেন প্যাসেঞ্জার এবং রিক্সা চালক।
নির্বাচনী এ হাওয়ায় এবার উৎসবের আমেজ নয়, বরং গভীর উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জনমনে সংশয় দানা বেঁধেছে, ভোট আদৌ হবে কিনা বা হলেও তা কতটা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ এবং এর আইনি ভিত্তি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ও দোটানা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে প্রণীত হয়েছিল এই সনদ, যার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার। কিন্তু বর্তমানে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, বিশেষ করে গণভোটের মাধ্যমে এর আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে কিনা, কিংবা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে প্রধান দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ সনদের পরিপূর্ণ আইনি বাস্তবায়ন ছাড়া নির্বাচন চাইছে না, অন্য পক্ষ দ্রæত নির্বাচনের পক্ষে।

এই রাজনৈতিক ডামাডোলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত এবং উদ্বিগ্ন। চায়ের দোকান থেকে ফসলের মাঠ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রাজনীতি। সবাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার অনৈক্য ও সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতবিরোধ দূর করে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে সংঘাতের পথ পরিহার করবে। এই দোটানা পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে একটি জনআস্থামূলক নির্বাচনই পারে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে। অন্যথায়, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ ও গণতন্ত্র আবারও কোনো অপশক্তির কাছে জিম্মি হওয়ার শঙ্কা থেকে যায়।

একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক বিকাশের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু এই নির্বাচনী পরিস্থিতি যেন উত্তেজনা ছাড়া কিছুই নয়। দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে নিরাপদে রাখতে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের প্রয়োজন। দীর্ঘ দিনের অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা আইনি দোলাচলে বিভ্রান্তির অবসান জরুরি। দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সংলাপের মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং আইন মানার জোরালো বার্তা আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
অতএব, সকলের উচিত আমাদের এই সংকটকালীন সময়কে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীলতা দেখানো। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে অবশ্যই শান্তি ও সহনশীলতার পথ বেছে নেয়া চাই। কারণ, একসাথে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category