পি আর এর সাথে পীরিত না পীড়ন হবে এ নিয়েই চলছে আগামীদিনের রাজনীতি। মূলতঃ প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যার বিপরীতে আনুপাতিক আসন পদ্ধতিকেই পি আর বলা হয়। এ পদ্ধতিতে কোন ভোটারের ভোট বৃথা যায় না। নির্বাচনী দলগুলো ভোটের আগেই তাদের দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। এসব প্রার্থীদের যোগ্যতা সততা দেখে ভোটারগণ ভোট দেবেন। এখানে ব্যালটে প্রার্থীর নাম থাকবে না, দলীয় প্রতীকে সবাইকে ভোট দিতে হবে। বাংলাদেশে পরোক্ষভাবে পি আর পদ্ধতি বহু আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। এই যে একেকজন প্রার্থী একাধিক আসনে প্রার্থী হয়ে জিতে আসতো, যদিও সব আসনে তিনি ভোটার ছিলেন না এটাই পি আর পদ্ধতির উদাহরণ। যেমন, বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা।
এখন এ পি আর পদ্ধতি নিয়ে এত তর্ক কেন? এ তর্কের মূল বিরোধ ক্ষমতা। ৯৬ সালে বি এন পি ১৫ ফেব্রæয়ারি নির্বাচন করে ১৫ দিন টিকতে পারেনি। সে নির্বাচন ত পি আর পদ্ধতিতে ছিল না। মূলত: জন অসন্তোষের কারণে কোন সরকারই টিকতে পারে না, সেটা পি আর হোক, বা গতানুগতিক পদ্ধতি হোক।
এখন বিএনপি র সাথে পি আর নিয়ে যে দ্বন্ধ শুরু হয়েছে তা নিরসনের উপায় কী এ নিয়েও আলোচনা করা উচিত। বিএনপি এখানে দুটো ভয় পাচ্ছে সম্ভবত। আনুপাতিক নির্বাচনে বিএনপি হয়তো ৪০% ভোট পেতে পারে। সেখানে তার প্রাপ্ত আসন সংখ্যা হতে পারে ১২০টি। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের ভোট যদি কমেও যায় ২ কোটি সংখ্যালঘু ভোট হিসেব করে তাদের ভোট হতে পারে ২৫%। এতে আওয়ামী লীগ ৭৫টি আসন পেতে পারে। যেহেতু আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না তাই তারা কি জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে ফিরবে না জামায়াতের দাঁড়িপাল্লায় ফিরবে এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ জটিল হিসেবের মীমাংসা করতে গিয়ে বিএনপি আছে দোদুল্যমান অবস্থায়। বিএনপি নিতে পারছে না জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্ত অবস্থান। বিএনপিও চাচ্ছে আওয়ামী লীগের ভোট তারা পাক। অপরদিকে জামায়াত যদি ২০% ভোট পায় তাহলে তাদের আসন সংখ্যা হতে পারে ৬০ টি। বাকি ৩০০-( ১২০+৭৫+৬০)=৪৫টি আসন জোটভুক্ত ছোট ছোট দলগুলো পেতে পারে। এ সংখ্যা কম বেশি হতে পারে।
বিএনপি তখন এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাদের সহায়তা নিতে হবে জামায়াত বা জাতীয় পার্টির। বিএনপির একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব হলে ভবিষ্যতে তারা সরকারের মেয়াদ নিয়ে একটা হুমকির মধ্যে থাকবে, এটাই বিএনপির আশংকা।
বিএনপির আশংকা খুব বেশি অমূলক নয়। বিএনপি যদি শরীক দলের সাথে সমঝোতায় না আসে তবে লাঙলে বা দাঁড়িপাল্লায় চড়ে আসা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেবে। সরকারের বাইরে থাকা অশরীক জামায়াত বা জাতীয় পার্টি যদি এ অনাস্থায় ঘি দেয় তবে সরকারের মেয়াদ ৬ মাসও স্থায়ী হবে না। এতে দ্রæত ফিরে আসতে পারে খুনি হাসিনার দল। বিএনপির ভয় এখানে।
বিএনপি ভুল করেছে জাতীয় সরকারের ফর্মুলা না মানায়। এখনও সে পথ খোলা আছে। আমি মনে করি, আগামী ১০ বছর এদেশে নির্বাচন হওয়ার দরকার নাই। বিএনপিকে সামনে রেখে একটা জাতীয় সরকার হওয়া প্রয়োজন। সামনের জাতীয় নির্বাচন ফ্যাসিস্ট বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি বাড়াবে। নির্বাচনে প্রার্থীরা তাদের জয়ের জন্য কোন না কোনভাবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার ছায়া খুঁজবে। কোন দল আওয়ামী লীগকে বেশি নিরাপত্তা দেবে সে শ্লোগানও ফিরবে এদের মুখে। তাই স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ বন্ধ করতে এখনও সময় আছে। এ মুহূর্তে একটা জাতীয় সরকার গঠন করে ফ্যাসিস্ট ফেরার মুখ চিরতরে বন্ধ করা হোক।
লেখক : ছড়াকার ও কলামিস্ট