বি শে ষ সা ক্ষা ৎ কা র
শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়া রাজনৈতিক চেতনা ও আন্দোলনের উর্বর এক জনপদ। এই জেলার রাজপথে অসংখ্য নেতা জন্ম নিয়েছেন, যাঁরা জাতীয় রাজনীতিতে রেখেছেন গৌরবময় অবদান। সেই ধারাবাহিকতায় উঠে আসছেন একঝাঁক নতুন মুখ, যাঁরা দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক দক্ষতায় হয়ে উঠছেন ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় কাণ্ডারি।
তেমনই একজন মুখ আবু হাসান । বর্তমানে তিনি বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। এর আগে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজ শাখা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন ।
রাজনীতির প্রতিকূল সময়েও তিনি মাঠে থেকেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন কর্মীদের, গড়ে তুলেছেন বিশ্বাসের মঞ্চ। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি অবিচল আস্থা ও তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার চেষ্টায় তিনি হয়ে উঠেছেন তরুণ সমাজের অনুপ্রেরণা। ‘আলোচনা’ ম্যাগাজিন তার সঙ্গে কথা বলেছে বর্তমান রাজনীতি, তরুণদের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে।

‘আলোচনা’: তরুণ হিসেবে রাজনীতিতে জড়ানোর পেছনে মূল অনুপ্রেরণা কী ছিল?
আবু হাসান: বগুড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুণ্যভূমি। এই শহরের সন্তান হিসেবে তাঁর আদর্শ, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মত্যাগ সবসময় আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রতীক হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি জাতির স্বপ্নের পথনকশা।
নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখি। তখন থেকেই বিশ্বাস করেছি, রাজনীতি মানেই জনসেবা। সময়ের পরিক্রমায় ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা আমাকে আরো দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মূলমন্ত্র-দেশপ্রেম, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণমানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই আদর্শ আমার জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। মানুষের অধিকার আদায়ে রাজনীতি করতে গিয়ে যত বাধা এসেছে, আমি ততটাই শিখেছি-রাজনীতি এক সেবা ও আত্মত্যাগের পথ। সেখান থেকেই আজকের আমি।
‘আলোচনা’: আপনার দৃষ্টিতে রাজনীতির বর্তমান চিত্র তরুণদের জন্য কতটা ইতিবাচক?
আবু হাসান: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তরুণদের জন্য নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং। দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের সংকুচিত পরিসর এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বাস্তবতায় তরুণদের সরাসরি অংশগ্রহণ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি-এই প্রতিকূল পরিবেশই তরুণদের জাগরণের শ্রেষ্ঠ সময়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বিকশিত রাজনৈতিক সচেতনতার ফলে তরুণরা আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন, কৌতূহলী ও প্রশ্নবান। তাদের রাজনৈতিক ভাবনা এখন শুধু দলীয় সীমার মধ্যে নয়, বরং জাতীয় অগ্রগতি, মানবাধিকার ও সুশাসনের মতো মৌলিক বিষয় ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে।
আমি বিশ্বাস করি, তরুণদের উপযুক্ত সুযোগ, দিকনির্দেশনা ও সঠিক নেতৃত্ব পেলে তারা শুধু রাজনীতির গতি নয়-সমাজের মানচিত্রও পাল্টে দিতে পারে। রাজনীতিতে তরুণদের উপস্থিতি মানেই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্যম এবং স্বচ্ছতা। আর তাই আমি আশাবাদী-তরুণরাই হবে আগামীদিনের নেতৃত্বের চালিকাশক্তি।
‘আলোচনা’: আপনি নেতৃত্বে থাকলে কোন তিনটি সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার দেবেন?
আবু হাসান: যদি আমি নেতৃত্বে থাকার সুযোগ পাই, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা তরুণদের উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতির লক্ষ্যে তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেব-
১. যুবকদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান তৈরি: আজকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বেকারত্ব। দেশে প্রচুর মেধাবী তরুণ রয়েছে, কিন্তু তাদের যথাযথ সুযোগ নেই। তাই স্কিল ডেভেলপমেন্ট, উদ্যোক্তা সহায়তা ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল যুব সমাজ গঠনই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।
২. শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন: শুধু সার্টিফিকেট নয়-চাহিদাভিত্তিক ও নৈতিকতা-সমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির দিকে জোর দিতে হবে।
৩. রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা: বর্তমান রাজনীতিতে বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা মারাত্মকভাবে ঘাঁটি গেড়েছে। আমি বিশ্বাস করি-বিভিন্ন মত ও চিন্তার সহাবস্থান গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য। তাই রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে আমার অন্যতম লক্ষ্য। এই তিনটি খাতেই পরিবর্তন আনতে পারলে আমরা একটি উন্নত, মানবিক এবং প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।

‘আলোচনা’: রাজনৈতিক পরিবেশে তরুণদের সক্রিয়তা বাড়াতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন?
আবু হাসান: বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তরুণদের সক্রিয়তা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ, তারাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবে। এ জন্য প্রথমেই প্রয়োজন-তাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন, দক্ষ এবং নৈতিক মূল্যবোধে গঠিত করা।
তরুণদের রাজনৈতিক শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও রাজনৈতিক কর্মশালার আয়োজন করতে হবে, যেখানে তারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সহনশীলতা এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
সাথে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তরুণদের প্রতি আস্থা রাখা, দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। কেবল মুখে তরুণদের ভবিষ্যৎ বলা নয়-তাদের হাতে ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়ার বাস্তব উদ্যোগ নিতে হবে।
তরুণদের ওপর ভরসা করলে, রাজনীতিতে ইতিবাচক ও মূল্যবোধভিত্তিক পরিবর্তন আসবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।
‘আলোচনা’: জনগণের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা করতে কীভাবে কাজ করেন?
আবু হাসান: আমি সবসময় বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানে জনগণের হৃদয়ের পাশে থাকা। তাই আমি শুধু বক্তৃতা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সীমাবদ্ধ না থেকে, সরাসরি জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক কিংবা মানবিক যেকোনো সংকটে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে কথা বলি, পাশে দাঁড়াই।
নিয়মিত মাঠপর্যায়ে গিয়ে আমি চেষ্টা করি মানুষের বাস্তব সমস্যা ও চাহিদা বুঝতে। অনেক সময় দলের সহায়তার বাইরেও, ব্যক্তিগত উদ্যোগে কারো চিকিৎসা, পড়াশোনা বা দুর্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছি। আমার রাজনৈতিক দর্শন-জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে, তাদের সুখে-দুঃখে সঙ্গী হতে হয়।
এই জন্য আমার কাজের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে গণমানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের চেষ্টা। আমি মনে করি, মানুষের পাশে থাকলেই একজন নেতার প্রকৃত নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
‘আলোচনা’: বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আপনি কী কী পরিবর্তন চান?
আবু হাসান: আমি মনে করি, একটি উন্নত, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গড়ার জন্য আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোয় কিছু মৌলিক পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। প্রথমত, গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা ছাড়া জনগণের মতামতের যথার্থ প্রতিফলন সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন কমিশন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন বা জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। তৃতীয়ত, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে আইনের শাসন বিঘ্নিত হয় এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাড়ে।
আমার দৃষ্টিতে, রাজনীতিকে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা থেকে বের করে সত্যিকারের জনগণের সেবায় রূপান্তর করতে হবে। এই পরিবর্তনের জন্য তরুণ নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের আমূল পুনর্গঠন প্রয়োজন। রাজনীতিকে হতে হবে গণমানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্ল্যাটফর্ম-সেখানে দমন নয়, থাকবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
‘আলোচনা’: তরুণ রাজনীতিকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
আবু হাসান: বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণ রাজনীতিকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো-তাদের মতপ্রকাশ ও অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দলীয় পরিচয়ের কারণে হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নিরাপত্তাহীনতা তাদের পথচলাকে অনেকটাই বাধাগ্রস্ত করে।
এছাড়া রাজনৈতিক পরিসরে অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতৃত্ব অনেক সময় তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেয় না, বরং নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠতে দেয় না-এটিও একটি বড় বাধা। তাছাড়া রাজনৈতিক মূল্যবোধ, আদর্শ ও নৈতিক নেতৃত্ব গঠনের জন্য যে প্রশিক্ষণ, সুযোগ এবং সহানুভূতিশীল পরিবেশ দরকার-তা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।
তরুণদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রাখার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, নিরাপদ পরিসর, এবং সিনিয়র নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আন্তরিকতা। তাহলেই তারা ভবিষ্যতের নেতৃত্বে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।
‘আলোচনা’: শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আবু হাসান: আমি মনে করি, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো ডিগ্রিকেন্দ্রিক মানসিকতা বিরাজমান, যা তরুণদের চাকরি বা আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করে না।
আমি চাই, শিক্ষা ব্যবস্থাকে দক্ষতা-ভিত্তিক করা হোক-যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিং ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ যেন সহজলভ্য হয়।
এছাড়া প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে স্টার্টআপ ইনকিউবেশন সেন্টার, সফট স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। আমি চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ যেন তার শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারে, শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে চাকরিদাতা হয়ে উঠতে পারে।
‘আলোচনা’: একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আপনার নৈতিক অবস্থান ও মূল্যবোধ সম্পর্কে বলুন।
আবু হাসান: আমি সবসময় বিশ্বাস করি, রাজনীতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সততা, ন্যায়ের পক্ষে অটল অবস্থান এবং জনগণের প্রতি পূর্ণ জবাবদিহিতা। একজন রাজনৈতিক কর্মী বা নেতার প্রথম দায়িত্বই হলো জনগণের বিশ্বাসকে সম্মান জানানো এবং সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটানো প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কাজে।
আমার কাছে নেতৃত্ব মানে সুবিধা ভোগ করা নয়-বরং ত্যাগ, দায়িত্ববোধ এবং নীতির প্রশ্নে আপসহীন থাকা। আমি চেষ্টা করি নিজের চিন্তা, বক্তব্য ও কর্মে যেন নৈতিকতা বজায় থাকে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থ এবং দলীয় আদর্শকে সবসময় ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করি। একজন তরুণ রাজনীতিক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, নৈতিক অবস্থান ও মূল্যবোধ ছাড়া রাজনীতি একটি শূন্য খোলস-যা একসময় ধসে পড়ে।
আমার রাজনৈতিক পথচলায় এই বিশ্বাসই আমার চালিকাশক্তি-যেখানে মানুষের সেবা, ন্যায় বিচার ও গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
‘আলোচনা’: আপনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য ও স্বপ্ন কী?
আবু হাসান: যদিও বর্তমানে আমি জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, আমি নিজেকে সর্বাগ্রে একজন দলীয় কর্মী হিসেবে দেখি-যিনি দলীয় হাইকমান্ড, বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছি।
আমার রাজনৈতিক লক্ষ্য ও স্বপ্ন অত্যন্ত সুস্পষ্ট-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণ। আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, ভিন্নমতের প্রতি থাকবে শ্রদ্ধা, রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবে জবাবদিহিতা এবং আইন থাকবে সকলের জন্য সমান।
আমার স্বপ্নের বাংলাদেশে তরুণরা হবে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু, তাদের মেধা, উদ্ভাবন ও সাহস দিয়ে দেশ গড়বে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি রাষ্ট্র রেখে যাওয়া আমাদের দায়-যেখানে থাকবে স্বাধীনতা, মর্যাদা, ও ন্যায়বিচার। সেই লক্ষ্যেই আমি রাজনীতি করি এবং আজীবন করে যেতে চাই।
চমৎকার ও সময়োপযোগী লেখনী। ধন্যবাদ জেলা যুবদলের সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক আবু হাসানকে।