আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় জনগণের মধ্যে সম্পর্ক, ঐকমত্য এবং সৃষ্টিশীলতাকে আরো শক্তিশালী করে। জনগণের জীবনযাত্রা, তাদের পরিবারিক সম্পর্ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সম্পৃক্ত করে। অপরপক্ষে মানুষের বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির বিকাশ ও পরিবর্তনের কাহিনি তুলে ধরে সংস্কৃতি। বিভিন্ন সভ্যতার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো মানুষের চিন্তাভাবনা, বিশ্বাস এবং আচার-অনুষ্ঠানের পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং আধুনিক সমাজের ভিত্তি নির্ণয় করে। সত্যিকার অর্থে, সংস্কৃতি মানুষের জীবনধারার চিত্র তুলে ধরে। এটি তাদের ঐতিহ্য, বিশ্বাস এবং মূল্যবোধকে পরিচিতি করে, সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলে। শিক্ষা-সংস্কৃতির স্বীকৃতি মানুষের আত্মবিশ্বাসে বিনিয়োগ করে এবং তাদেরকে নতুন কিছু তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করে। একটি উন্নত সমাজ গঠনের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতির উন্নয়ন একান্তভাবে জরুরি।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষা-সংস্কৃতি
মানুষের ভাষা বা ভাব আদান প্রদানের মাধ্যম, পোশাক-পরিচ্ছদ বা অন্যান্য পরিধেয়, বাসনপত্র, চিত্রকলা, সঙ্গীত, লোকায়িত জ্ঞান, লোকসংস্কৃতি, প্রযুক্তি, বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান, সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা-প্রতিষ্ঠান, আচার আচরণ, মূল্যবোধ, পারিবারিক ও সামাজিক ব্যবস্থা, সম্পত্তির মালিকানার ধরন এবং উত্তরাধিকার, কৃষিকাজ, সরকার, গৃহনির্মাণ, শিল্পউৎপাদন, চারুকলা, আচার-অনুষ্ঠান, প্রথা-পদ্ধতি, রন্ধন, রাষ্ট্র, আইন, আদর্শ, আমলাতন্ত্র, সামাজিক চেতনা, সাহিত্য, শিল্পকলা, ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি সবই সংস্কৃতির অংশ; সংস্কৃতির প্রামাণ্য দলিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন জনপদে চাকমা, মারমা, গারো, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, মণিপুরি, রাখাইনসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। তাদের সংস্কৃতি এদেশের লোকায়ত সংস্কৃতি হতে আলাদা হলেও তারাও বাংলাদেশী সংস্কৃতির অংশ।
উনিশ শতকের শেষের দিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নকে যুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং উন্নয়ন বিষয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বিংশ শতকের প্রথমদিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গটিও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আইএলও বলেছে, ‘একটি দেশের সকল মানুষের জন্য খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, গৃহায়ন ইত্যাদি সুবিধাপ্রাপ্তির নামই হলো উন্নয়ন।’ অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন, ‘মানুষের স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করার প্রক্রিয়ার নাম হলো উন্নয়ন।’ তিনি আরও বলেন, কোনো জাতি যদি নির্দিষ্ট কোনো সময়ের জন্য উন্নত জীবনযাপন করে, তাকে উন্নয়ন বলা যাবে না। উন্নয়নের নিগূঢ় অর্থ হলো, দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর ইতিবাচক উন্নতি।
মূলত উন্নয়ন হলো একটি দেশের আয় বৃদ্ধির এক সহায়ক প্রক্রিয়া। আর এ প্রক্রিয়াটি অব্যাহত পরিবর্তনশীল, যা ওই দেশের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সঞ্চয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সম্পদের সুষম বণ্টন প্রক্রিয়া সহজতর করে। দেশের সামাজিক নিরাপত্তা সুসংহত করে। দেশের সব স্তরে ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদাগুলো অপেক্ষাকৃত স্থায়ীভাবে পূরণ করা সম্ভব হয় ইত্যাদি। সাধারণত যে-সব দেশের অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির ওপর রচিত হয়, টেকসই সামাজিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়, স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নতির সূচক ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়, সেসব দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়। একটি উন্নয়নশীল দেশ ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে ধাবিত হতে থাকে। দেশকে আস্তে আস্তে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু উন্নয়নশীল রাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত রাষ্ট্র গঠনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো গণতন্ত্রহীনতা। কোনো দেশে যখন সুষ্ঠু গণতন্ত্রচর্চা ব্যাহত হয়, যদি গণতন্ত্রের জায়গায় সেখানে একনায়কতন্ত্র স্থান পায় এবং এ অবস্থা থেকে রাষ্ট্র বেরিয়ে আসতে আন্তরিক না হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্রটি আর উন্নত রাষ্ট্র হতে পারে না। দেশের উন্নয়ন টেকসই করতে রাষ্ট্রের বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু রাষ্ট্রপ্রধানের একার পক্ষে এটির বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
সামাজিক উন্নয়ন একটি দেশের সব মানুষের কল্যাণ, সমতার সুযোগ, এবং মানবিক মর্যাদা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া। এটি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফল নয়, বরং এর সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, এবং সামাজিক বিচার্য বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পায়। একটি দেশের মানুষের শিক্ষা ও সংস্কৃতি যে কীভাবে সেই দেশটির সামাজিক উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়, তা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা-সংস্কৃতি কেবলমাত্র জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং একটি সমাজের সাধারণ মর্যাদা, সামাজিক দায়িত্ব ও সম্প্রীতির ভিত্তিও শক্তিশালী করে। একটি শিক্ষিত জনগণ সামাজিক ন্যায় এবং নৈতিকতার মূল্যবোধ নিয়ে সচেতন হয় এবং তারা সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা মানুষের চিন্তন ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। যখন জনগণ শিক্ষিত হয়, তারা বৈজ্ঞানিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জ্ঞানে বৃদ্ধি পায়, যা সামাজিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। শিক্ষার মাধ্যমে জনগণ তাদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। ফলে, জনগণের মধ্যে সামাজিক অস্থিতিশীলতা কমে যায় এবং উন্নয়ন প্রচেষ্টা সফল হয়।
প্রথমত, সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্য হলো সমাজের সকলের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি সাধন, শোষণ ও বৈষম্যের মাত্রা কমানো বা অবসান করা, জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে মানব কল্যাণে কাজে লাগানো। আবার যেহেতু মানুষের জীবনযাত্রার প্রণালি হচ্ছে সংস্কৃতি, তাই জ্ঞানবিজ্ঞান, প্রযুক্তি প্রভৃতির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকেই নির্দেশ করে। এজন্য অনেক সময় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নকে সমার্থক মনে হয়।
দ্বিতীয়ত, বস্তুগত সংস্কৃতি যত দ্রুতগতিতে পরিবর্তন হয় অবস্তুগত সংস্কৃতি তত দ্রুত পরিবর্তন হয় না। ফলে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের এই অসমতা সমাজে সমস্যা তৈরি করে যা সমাজে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সংস্কৃতির পরিবর্তনের এই গতি বা পার্থক্য সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য। আর উন্নয়নের দ্রুতগতি বা ধীরগতির উপর নির্ভর করে সংস্কৃতির বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের মাত্রা হচ্ছে উন্নয়নের বৈশিষ্ট্য।
তৃতীয়ত, উন্নয়ন মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের অগ্রাধিকার দেয়। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হলে সমাজের অগ্রগতি ঘটে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। ফলে সমাজে নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়; যা সামাজিক পরিবর্তন হিসাবে গণ্য করা হয়। আর সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটে।
চতুর্থত, সংস্কৃতির উন্নয়ন হলো সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন। আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের সংস্কৃতির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের পরিবর্তনই ঘটছে। ইতিবাচক পরিবর্তনটি হলো সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন দুটোই সময়ের মাত্রার মধ্যে সংগঠিত হয়। এটিও পরিবর্তনের একটি বৈশিষ্ট্য। অনেকক্ষেত্রে এই পরিবর্তন পরবর্তী সময়েও ধারাবাহিকভাবে ঘটে থাকে।
পঞ্চমত, ইতিবাচক সংস্কৃতি রাষ্ট্রকে বিভিন্ন স্তরকে উন্নত করতে সক্ষম হতে পারে। এটি রাষ্ট্রের অন্যতম অংশ হিসেবে রাষ্ট্রের সম্প্রতির বা ঐতিহাসিক পরিচয় এবং ভূগোলের একটি বিশেষ অংশ প্রকাশ করে। ইতিবাচক সংস্কৃতি রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক সম্পদগুলি বেছে নেওয়া, সংরক্ষণ করা এবং উন্নত করা সম্পর্কে কাজ করে। এটি সাহিত্য, ভাষা, কলা, সৃজনশীলতা, সমাজসেবা, ধর্ম, সাংগঠনিক পদ্ধতি এবং ঐতিহাসিক স্থানসমূহের মধ্যে পরিচালিত হতে পারে। ইতিবাচক সংস্কৃতি একটি প্রভাবশালী উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে, যা পরিণতি, মেরুদণ্ড ও সামাজিক ন্যায়ের মাধ্যমে ন্যায়, ন্যায়াধীশ ও আইনগত পদার্থের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে উন্নত করতে পারে। রাষ্ট্র উপাদানগুলির সুপরিমাণ শিক্ষাদান, অধ্যয়ন বিধিনিষেধের মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং উন্নতি বিশ্বস্ত করে। এটি শিক্ষা, গবেষণা, পর্যটন, আর্থিক উন্নয়ন এবং সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সক্ষম করতে পারে।
ষষ্ঠত, বর্তমানে অপসংস্কৃতি তরুণ প্রজন্মের সুন্দর ও স্বাভাবিক বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক অবক্ষয়, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের করাল গ্রাসে তরুণ সমাজ আজ নিমজ্জিত। এটা নিঃসন্দেহে তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতেরই প্রতিচ্ছবি। অপসংস্কৃতির ছোঁয়ায় দেশীয় সংস্কৃতি এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে অপছন্দনীয়। পোশাক-আশাকে, কথাবার্তায়, আচার-আচরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব লক্ষণীয়। ফলে দিন দিন আমরা হাজার বছরের দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে হারাতে বসেছি। মূলত বিদেশি কিংবা ভিন্ন সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ এবং দেশীয় সংস্কৃতি চর্চা না করার কারণে আজকে আমাদের এই দশা। বিদেশি সংস্কৃতির ব্যাপক প্রসার ও চর্চার কারণে আমাদের সংস্কৃতি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। জাতীয় জীবনে অপসংস্কৃতির প্রবল প্রতাপ লক্ষণীয়। চলছে অসুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যক্তিগত লোভ-লালসা চরিতার্থ করার এক উদ্ভট জোয়ার। দেশের তরুণ সমাজ আজ দিকভ্রান্ত, দিশেহারা। তাদের বেঁচে থাকার সঙ্গে নীতির কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত এই বোধ থেকেই অপসংস্কৃতির জন্ম হয়। সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা এখন হাস্যকর ব্যাপার। দুর্নীতি যেন সামাজিকভাবে স্বীকৃত। আর অনৈতিকতার সূত্রপাত হচ্ছে মানুষের অসৎ জীবিকার্জনের হাত ধরে। প্রতিদিনের সংবাদপত্র আমাদের সামনে যে চালচিত্র তুলে ধরে, তাতে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন অতি স্পষ্ট। ধর্ষণ, অশ্লীলতা, ঘুষ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, নোংরামি, খুন, ছিনতাই, প্রতারণা সবই অপসংস্কৃতির ভিন্ন ভিন্ন নাম।
সপ্তমত, মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের জন্য এবং আলোকিত মানুষ গড়ার জন্য সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। সুস্থ ও শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমেই সব প্রকার অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করা যায়। তাই সব প্রকার অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশীয় তথা নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। সর্বোপরি, বিদেশি অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য দেশীয় সংস্কৃতির জন্য এখন হুমকি স্বরূপ। এর উত্তরণ ঘটাতে হলে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে বর্তমান প্রজন্মদের ফিরিয়ে এনে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতিচর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণ সমাজকে সাংস্কৃতিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশীয় ও বিশ্বাসের সংস্কৃতিকে লালন করতে হবে। বিদেশি সংস্কৃতির মোকাবিলায় টিকে থাকার জন্য দেশীয় সংস্কৃতিকে আরো যুগোপযোগী করে তুলতে হবে।
সর্বোপরি, একবিংশ শতকে সমাজ-সংস্কৃতি ভিন্ন মাত্রায় এসে যুক্ত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সহজলভ্যতা নতুন এক সমাজ কাঠামো বিনির্মাণের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া তরুণদের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে তারা সহজেই বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারে। তাদের ফ্যাশন, জীবনধারা এবং আচরণগত অভ্যাস পরিবর্তন করছে। তরুণদের মধ্যে নতুন মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রভাবিত করছে। তারা অনলাইনে বিভিন্ন সমাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন হতে পারে। ইতিবাচক বিভিন্ন শিক্ষামূলক কনটেন্ট, টিউটোরিয়াল এবং অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে তরুণরা তাদের শিক্ষাগত দক্ষতা বাড়াতে পারছে। অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। তরুণরা অনেক সময় অনলাইনে তাদের জীবনকে অন্যদের সাথে তুলনা করে, যা আত্মবিশ্বাসের হ্রাস এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে। অনলাইন সাইবার বুলিং এবং ট্রলিং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, সামাজিক মাধ্যম যুব সংস্কৃতির উপর একটি গভীর প্রভাব ফেলছে, যা ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় দিকেই হতে পারে। সতর্ক এবং সুপরিকল্পিত ব্যবহার এই প্রভাবগুলোকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারে।
উন্নয়ন সহায়ক হিসেবে বেসরকারি সংস্থাসমূহ
বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থাসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নারীর ক্ষমতায়ন, স্বনির্ভরতা, এবং উদ্যোক্তা তৈরি করতে ক্ষুদ্রঋণ অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়েছে। অনেক দরিদ্র পরিবার ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেছে এবং তাদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা, যেমন গবাদি পশু পালন, কৃষি, ক্ষুদ্র হস্তশিল্প এবং পোলট্রি খামার ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বিকাশ লাভ করেছে। এই ঋণ সুবিধা পেয়ে গ্রামীণ জনগণ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। দরিদ্র ও অতিদরিদ্র শ্রেণীর জনগণের সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অনেক বেসরকারি সংস্থা স্বাস্থ্যসেবা, সুরক্ষাসামগ্রী, সাশ্রয়ী মূল্যে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। অতিদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা সৃষ্টিতে সহায়তা করে গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে সঙ্গে এনজিগুলোর ভূমিকাও প্রশংসাযোগ্য।
বাংলাদেশে প্রায় আড়াই হাজারের অধিক এনজিও কাজ করছে। অধিকাংশ বেসরকারি সংস্থার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। উচ্চ সুদের হার অনেক সময় ঋণগ্রহীতাদের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে ঋণের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার না হওয়ায় ঋণগ্রহীতারা আর্থিক সংকটে পড়ে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে চড়া সুদে ঋণের টাকা পেয়ে অনেক পরিবারের সাময়িক আর্থিক উন্নয়ন ঘটলেও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে, আয় খাতে ওই টাকা ব্যবহারের অজ্ঞতার কারণে অথবা ঋণের টাকা ব্যবহারে প্রয়োজনের অগ্রাধিকার সম্পর্কে না জানার কারণে আগের অবস্থার চেয়ে ভবিষ্যৎ আর্থিক অবস্থার আরো অবনতি হয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে যাচ্ছে। এতে পারিবারিক ভাঙনেরও সৃষ্টি হচ্ছে। সুদসহ ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য একই সঙ্গে কয়েকটি এনজিওর সঙ্গে লেনদেন শুরু করে। ফলে ঋণের পরিমাণ শুধু বাড়তেই থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে টাকার জোগান দিতে ঋণগ্রহীতা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন। চড়া সুদের কারণে জনগণ এনজিওবিমুখ হচ্ছে। এ হারকে কমিয়ে এনে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ঋণ নিয়ে নিজেদের আয় সংস্থান করার সুযোগ করে দিতে হবে। তাই বিদেশি সংস্থার তহবিলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেদের আয়ব্যয় সামঞ্জস্যকরণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যেতে হবে। দেশের এনজিও কর্মকাণ্ডের অবদান বিবেচনায় নিয়ে এনজিও সেক্টরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ প্রদানের পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখতে হবে।
গ্রামীণ উন্নয়নে রেমিট্যান্স
গ্রামীণ অঞ্চলে রেমিট্যান্স অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। গ্রামীণ অনেক পরিবারই প্রবাসে কর্মরত সদস্যদের পাঠানো অর্থের উপর নির্ভরশীল। এই অর্থের মাধ্যমে তারা নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে, সন্তানের শিক্ষা নিশ্চিত করে এবং স্বাস্থ্যসেবা পায়। প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে গ্রামের মানুষজন তাদের বাসস্থান উন্নত করতে পেরেছে, কৃষিতে বিনিয়োগ করতে পেরেছে এবং ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করতে পেরেছে। ফলে, গ্রামের অর্থনৈতিক কাঠামো দৃঢ় হয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার কমেছে। রেমিট্যান্সের মাধ্যমে গ্রামের স্কুল, মসজিদ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র উন্নত করা সম্ভব হয়েছে। রেমিট্যান্সের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনও ঘটেছে। প্রবাসী আয়ের ফলে গ্রামের মানুষের মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। অনেক পরিবারই প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। রেমিট্যান্সের ফলে নারীর ক্ষমতায়নও বেড়েছে। অনেক প্রবাসী পুরুষ তাদের স্ত্রীদের জন্য ব্যাংক একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেছে এবং তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে নারীরা আরও স্বাধীন এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
রেমিট্যান্সের কারণে কিছু নেতিবাচক প্রভাবও দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসী আয়ের উপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা হ্রাস করে। প্রবাসী আয়ে কোনো সমস্যা হলে গ্রামীণ পরিবারগুলো আর্থিক সমস্যায় পড়ে যায়। প্রবাসে কর্মরত সদস্যদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি পরিবারে মানসিক চাপ এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় প্রিয়জনদের অনুপস্থিতিতে একাকিত্ব এবং হতাশায় ভোগে। মূলত, রেমিট্যান্সের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, প্রবাসী আয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগের জন্য গ্রামীণ জনগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা উচিত। দ্বিতীয়ত, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো এবং সামাজিক সেবাগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা এবং তাদের পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
গ্রামীণ উন্নয়নে গার্মেন্টস
গ্রামীণ অর্থনীতিতে গার্মেন্টস শিল্পের একটি বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। এই শিল্প গ্রামীণ মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। গ্রামীণ এলাকার অনেক নারী ও পুরুষ শহরে এসে এই শিল্পে কর্মসংস্থান পেয়েছে। ফলে, গ্রামীণ মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা এসেছে। গার্মেন্টস শিল্প নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গার্মেন্টস শিল্পে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তারা নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পেরেছে। ফলে, নারীরা পরিবারে এবং সমাজে আরও বেশি সম্মান ও মর্যাদা পাচ্ছে। তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা পরিবারের খরচে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। গার্মেন্টস শিল্পের মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবারও উন্নয়ন ঘটেছে।
তবে নিম্নমানের কর্মপরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং কম বেতন তাদের জীবনে কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। অনেক সময় তারা শহরের উচ্চ ব্যয়বহুল জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না, ফলে আর্থিক সংকটে পড়ে। অন্যদিকে পরিবার থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকার কারণে মানসিক চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দেখা দেয়, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া, গ্রামীণ এলাকায় গার্মেন্টস শিল্পের প্রসারের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত দুর্বলতা একটি বড় সমস্যা। অনেক গ্রামীণ এলাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, পানি, এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে, যা শিল্পের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া, স্থানীয় জনগণের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতার অভাবও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গার্মেন্টস শিল্পের ইতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ানোর জন্য গ্রামীণ এলাকায় গার্মেন্টস কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা উচিত। শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও বেতন কাঠামো উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং স্থানীয় জনগণের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা উচিত। এছাড়া, গ্রামীণ এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, মানুষের বেঁচে থাকা, সমাজচেতনা, বিশ্বাস, ভাবনা, মূল্যবোধ ইত্যাদিসহ তার সামগ্রিক জীবনচেতনা প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতির মধ্যদিয়ে। প্রতিফলিত সংস্কৃতির স্পর্শেই ব্যক্তিমানুষ অন্য সব মানুষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে। এভাবে ব্যক্তির ভাবনা সমগ্রের ভাবনা হয়ে ওঠে। একটি জাতি গঠনে যা নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। সংস্কৃতি শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে শেখায়। সংস্কৃতির বাহন প্রযুক্তি। এর উপাদান জাতীয়তা ও স্বকীয়তা, যা একই সঙ্গে স্থানীয়, আঞ্চলিক, স্বাদেশিকতার সঙ্গে বিশ্বময়তার ভবিষ্যৎমুখী জাতীয়তাবোধ ও আন্তর্জাতিকতা আলিঙ্গন করে দেশকে বিকশিত করে, সৃজনমুখর করে। হতদরিদ্র মানুষগুলো কৃষিকাজ, কলা, পান চাষ, জুম চাষ করে জীবন ধারণ করে। তারা তাদের মানবাধিকার সম্বন্ধে সচেতন নয়। নিশ্চিত করতে হবে তাদের জানমালের নিরাপত্তা, ভূ-সম্পদ ও জীবিকার অধিকার। অথচ গ্রামীণ সমাজেও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে অসহিষ্ণু হওয়ার প্রতিযোগিতা। দুর্নীতি, দখল, লুটপাট, হত্যা স্বাভাবিকভাবে ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সমাজকে সহনশীল করে তুলতে সরকার ও সব শ্রেণি পেশার মানুষ, নতুন তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয়, দৃঢ় পরিকল্পিত সুদৃঢ় ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে সংস্কৃতির ঐতিহাসিক দায়িত্ব হলো সুস্থ, সংগতিপূর্ণ ও সুখময় সমাজ গড়ে তোলার সংগ্রামের সঙ্গে একাত্ম হওয়া। সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জগতের মানুষদের যাবতীয় সামাজিক অসংগতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সামগ্রিক প্রগতির পক্ষে থাকা একটা নৈতিক দায়। এই দায় থেকেই চলমান সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে।
[লেখক: সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ; প্রফেসর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।]