বগুড়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘বগুড়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ’ প্রাঙ্গণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিনোদন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে নবনির্মিত আধুনিক শিশুপার্ক বা ‘কিডস জোন’ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ১৮ মে সোমবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই পার্কের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই শিশুপার্কটির উন্নয়ন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বগুড়া জেলা পরিষদ।
এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে এই আধুনিক শিশুপার্ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির সার্বিক অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল বগুড়া জেলা পরিষদ। এই আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রটি গড়ে তুলতে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ২০,০০,০০০ টাকা (বিশ লক্ষ টাকা)। সম্পূর্ণ আধুনিক, আকর্ষণীয় ও গুণগত মানসম্পন্ন রাইড দিয়ে পার্কটিকে সাজানো হয়েছে, যা শিশুদের খেলার জন্য অত্যন্ত নিরাপদ।

এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন এই কিডস জোনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ. কে. এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির। তিনি ফলক উন্মোচন করে এবং ফিতা কেটে পার্কটির আনুষ্ঠানিক দ্বার উদ্ঘাটন করেন। এ সময় তাঁর সাথে প্রতিষ্ঠান ও জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক এ. কে. এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের মূল চালিকাশক্তি। শিশুদের যদি আমরা শুধু চার দেয়ালের মাঝে বন্দি রেখে যান্ত্রিক শিক্ষায় অভ্যস্ত করে তুলি, তবে তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটবে না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের মানসিক প্রফুল্লতা এবং শারীরিক গঠনের জন্য খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই। বগুড়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের এই কিডস জোনটি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন ক্লাসের ক্লান্তি দূর করতে এবং বিদ্যালয়ে আসার প্রতি এক দারুণ আকর্ষণ তৈরি করতে সাহায্য করবে।”
তিনি জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা তুলে ধরে আরও বলেন, “বগুড়া জেলা পরিষদ সব সময়ই ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে এবং একটি সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই শিশুপার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা যেন আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষা লাভ করতে পারে। এই পার্কে যে সমস্ত রাইড স্থাপন করা হয়েছে, তা শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বগুড়া জেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এই ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ এবং প্রশাসক মহোদয়কে এই যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়। শিক্ষকরা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের একটি আধুনিক পার্কের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হচ্ছিল, যা আজ পূর্ণতা পেল।
সরেজমিনে দেখা যায়, নবনির্মিত এই পার্কে শিশুদের জন্য রঙিন ও বৈচিত্র্যময় স্লাইডার, দোলনা, ক্লাইম্বিং মইসহ নানাবিধ রাইড যুক্ত করা হয়েছে। উদ্বোধন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশুদের মুখের চিলতে হাসি এবং আনন্দোচ্ছ্বাস পুরো স্কুল প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরাও বাচ্চাদের জন্য এমন সুন্দর ও নিরাপদ খেলার ব্যবস্থা করায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। মোনাজাত শেষে প্রধান অতিথি শিশুদের সাথে কিছু সময় কাটান এবং তাদের সাথে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেন। সামগ্রিকভাবে এই আধুনিক শিশুপার্কের উদ্বোধন বগুড়ার শিক্ষা ও শিশু বিনোদনের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।