আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা একটি অঞ্চলকে তুলেধরে অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছে। আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট নিয়ে আঞ্চলিক ভাষা তার ভীত দৃঢ় করে। মায়ের কোল থেকে শিশু যে ভাষা শেখে সেটি মায়ের ভাষা বলে থাকি আমরা। আর এই মায়ের ভাষাই মূলত আঞ্চলিক ভাষা। এই ভাষার গুরুত্ব অনেক। একটি অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালাচারের সাথে মিশে থাকে অঞ্চলিক ভাষা। আমাদের দেশে প্রায় প্রত্যেক জেলার ভাষার আলাদা আলাদা রুপ আছে। একজন অপরিচিত মানুষের কথা বলার টোন তার এলাকাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। পরিস্কার বোঝা যায় মানুষটি কোন এলাকার। যুগে যুগে ভাষার পরিবর্তন পরিবর্ধন যোজন বিয়োজন হয়েছে। এটি প্রকৃতিকভাবেই হয়ে থাকে। প্রত্যেক এলাকার মানুষের নিজস্ব ভাষা চর্চার মাধ্যমেই আঞ্চলিক ভাষা টিকে থাকে যুগের পর যুগ। এজন্য আমাদের দেশের কথা সাহিত্যে, কবিতায় নাটক গানে উঠে এসেছে আঞ্চলিক ভাষা।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বগুড়া একটি উল্লেখযোগ্য অঞ্চল। এই অঞ্চলেরও একটি আলাদা ভাষা আছে। সেই ভাষা দেশের অন্য যেকোন প্রান্তের মানুষের কাছে পরিচিত। কারণ এই বগুড়ার ভাষা নিয়ে সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহু কাজ হয়েছে। এই এলাকার ভাষাকে শুধু দেশ নয় বরং বিশ্বের নানা প্রান্তের বাংলা ভাষাভাষি মানুষের কাছেও বেশ পরিচিত। আর এই পরিচিত এনে দিতে বগুড়ায় যে কয়জন গুলি মানুষের নাম এসেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন তৌফিকুল আলম টিপু। তিনি বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় হাজারের উপরে গান লিখেছেন। আঞ্চলিক ভাষাকে চর্চায় রাখতে ১৯৭৬ সালে গড়েতোলেন ইয়্যূথ কয়্যার নামে একটি সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমেই গান নাটকের চর্চা শুরু হয় বগুড়ার ভাষাতে। এক সময় তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই এলাকার গান। তখন বগুড়ার গন্ডি পেরিয়ে পুরো দেশ ছড়িয়ে পড়ে বগুড়ার ভাষায় রচিত গান এবং নাটক। বিশেষ করে ‘হামরা বগড়্যার ছোল্/পুঁটিমাছ মারব্যার যাইয়া, ম্যার্যা আনি বোল্’॥ অথবা ‘ঐকালা ছুড়িডা হামাক পাগলা করিচে/ তার কালো চোখের তিলডা হামার কলজাত ঠেকিচে’। এই গানগুলো টিপুকে আলাদাভাবে উপস্থান করেছে দেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তের মানুষের কাছে। দেশব্যাপি আলোড়ণ সৃষ্টি হয়। তৌফিকুল আলম টিপু তখন দেশ সেরা তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন। হয়ে ওঠেন ‘বগড়ার ছোল’।
১৯৬০ এর দশকে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তৌফিকুল আলম টিপু। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উদীচীতে যোগ দেন। দল বেঁধে গ্রামে গ্রামে গাইতেন গণসংগীত। পরে জীবন যৌবনের পুরোটা সময় তিনি বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করেছেন। সত্তর বছর পার হওয়ার পরও তিনি বসে নেই। এখনো তিনি রীতিমত তরুণদের মত মঞ্চে ওঠেন। গান করেন। বগুড়ার ভাষাকে প্রতিনিধিত্ব করেন।
কয়েক দিন আগে তৌফিকুল আলম টিপুর সংগঠনের কার্যালয়ে গিয়ে কথা হয়। কেন তিনি গান-নাটক চর্চায় আঞ্চলিক ভাষাকে বেছে নিলেন এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে শুদ্ধ ভাষায় অনেক গান হছে। রবীন্দ্র-নজরুল, আধুনিক বহু গান হছে। কিন্তু হামরা যাকেরে জন্যে এই গানগুলে গাই তারাইতো কথা বোঝে না। অর্থাৎ তৃণমূল মানুষরা সুদ্ধভাষার সব কিছুই সহজে বুঝে উটপের পারে না। এজন্য হামি চিন্তা করলাম হামার গান হবে খেটে খাওয়া মানষের জন্যে। তৃণমূল মানষের জন্যে। সেই চিন্তা থেকেই হামি আঞ্চলিক ভাষায় গান লেখা এবং গাওয়া শুরু করি। আঞ্চলিক গানের মধ্য দিয়ে হামি যা কবার চাচ্ছি তা ওরা সহজেই বোঝে। এতে প্রান্তিক মানুষগুলের উপকার হয়। তিনি আরো বলেন, রবীন্দ্র-নজরুল, আধুনিক, গণসংগীত এগুলে গান খুবই ভালো। কিন্তু ওই গানগুলো আগ্রসর মানষের জন্যে। সাধারণ মানষের জন্যে নয়। আর হামার গানগুলো অতিসাধারণ মানষের জন্য। হামার ইচ্ছে হামি এরগেরোক (অতিসাধারণ মানুষ) নিয়ে কাজ করমু। ওই মানুষগুলেক যদি জাগান না যায় তাহলে এই দ্যাশ জাগবে না’।
তিনি আরো বলেন, ‘হামার গানের ভাষাগুলে আঞ্চলিক হলেও বিষয়বস্তু কিন্তু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকমানের। এমন একটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে- ‘ও ফিলিস্তান ও ফিলিস্তান ও ফিলিস্তানী ভাই/অ্যাসো বাংলাদেশী আমরা তোমার সাথে কাঁদ মিলাই ।।
ও বসনিয়া ও চেচনিয়া ওব্রাদার অফ প্যালেস্টাইন;/ উই উইল ফাইট সোলডার টুসোলডার ও ব্রাদার মাইন।
মুক্তিযুদ্দ কর্যা হামরা এদ্যাশ স্বাদীন করছি,/তোমাকেরে মুক্তিযুদ্দোত হামরাও যামো ভাবচি।
এই যে তার চিন্ত চেতনা যুদ্ধবির্ধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের নিয়ে। তাদের হয়ে যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ। তাদের ব্যথায় ব্যথিত হয়ে সহানুভূতি প্রকাশ এই গানের মধ্যে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। ভাষা বগুড়ার কিন্তু চিন্তা আন্তর্জাতিক।
সেই ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। সব আন্দলোনেই বগুড়ার মানুষ সাহসের সাথে বুক পেতে দিয়েছিলো। বাংলা আর বাঙালীর অধিকার আদায়ের এই অঞ্চলের মানুষ ছিলো সদা জাগ্রত। সেই লড়াই সংগ্রামের ফসল আজকের প্রান্তিক জনগোষ্টির ভাষা। টিপুর গানের কথা আর বাস্তবতা মিলেই হাজার বছর আগেকার পুরান সভ্যতা, বেহুলা লখিন্দর আর অলি আউলিয়ার ইতিহাস ধারণ করে বগুড়া দাঁড়িয়ে আছে উচ্চ আসনে। শুধু বেহুলা লখিন্দর নয়, অনেক রাজা-জমিদারের ইতিহাসে ভরা এই অঞ্চল। সাধক সন্ন্যাসীর পূণ্যভূমি, এই বগুড়া। আড়াই হাজার বছর আগে যেটি ছিলো পুন্ড্রনগরের রাজধানী। ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করেই এখানকার মানুষ মায়ের মুখের ভাষা চর্চা করেই বেঁচে আছেন।
তৌফিকুল আলম টিপু বগুড়ার মানুষের মানষিক অবস্থার প্রতিফল তুলেধরেছেন ঠিক এই ভাবেই-‘ ফুল বাগিচার ফুল হয়্যা হামরা ফুটি রে/সেই ফুলেরই বাস্নাত বগড়্যা ম্যাতা রাখিরে ॥
মানষের দুঃকু দেখলে হামরা হানাব্যাজ্যা দেই/ তাতেও যদি না হয়, হামাকেরে বুক প্যাত্যা দেই,
ঐ মানষের মুকোত হাঁসি দেখলে, হামরা বাজাই ঢোল ॥/ হামরা বগড়্যার ছোল্
বগুড়ার মানুষের সামাজিকতা, উদারতা এবং একে অপরের দু:খ ভাগ করে নেয়ার যে সংস্কৃতি আছে তা তিনি সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাতেই গানের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। সমাজের নানা অসঙ্গতি অন্যায়ের প্রতিবাদ সব কিছুই টিপু বগুড়ার ভাষার মাধ্যমেই জাতির কাছে তুলেধরেছেন। সেই সত্তরের দশকে বগুড়ার শেরপুরের বিখ্যাত দইয়ের দাম ১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে এক লাফে ৫ টাকায় ওঠে। টিপু বললেন, এই দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে টিপু লিখলেন “গোবরা খ্যায়া যা শেরপুরের দই, পাঁচ শিকা আচল এখন পাঁচটেকায় লই।” এ গানের মধ্যে দিয়েই তিনি শুরু করেছিলেন তার সংগঠন ইয়্যূথ কয়্যার।
ইয়্যুথ কয়্যারের শুরু সময় সাদা-কালো টেলিভিশনে বাংলাদেশ টেলিভিশন আর বাংলাদেশ বেতারই দেশের মানুষের বিনোদনের মাধ্যম ছিলো। এই বিটিভিতে অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই ইয়্যুথ কয়্যার তখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিলো। টিপুর আঞ্চলিক ভাষায় লেখা এবং গাওয়া গানগুলোর মধ্যে মানুষ নিজেদের চারপাশের অস্তিত্ব খুঁজে পেতেন। যেমন দরিদ্র ও অসহায় নারীকে নিয়ে ‘হামি বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতাত এডা কেনডিডেট পাঠামু, নাম শুকিমন’, বহুবিবাহের বিরুদ্ধে ‘ক্যারে বড় বউ তুই ঘুমত থ্যাকে উঠিস না ক্যারে’, শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত ‘দেবদাস’ এর কৌতুকপূর্ণ উপস্থাপন, ঢাকার যৌনপল্লি কান্দুপট্টির যৌনকর্মীদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ‘ভালো হছে কান্দুপট্টির মানুষগুলাক খেদা দিয়া ভাই’ গানগুলো সেই সময় থেকেই ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয় হয়ে ওঠে। এক সময় আলোচিত সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’ পত্রিকাও বগুড়া ইয়্যুথ কয়্যার নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছিলো।
টিপুর সাথে কথপোকথনে আরো জানাযায়, বগুড়া মহিলা ক্লাবে ১৯৭৮ সালে একটি গানের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সেই সময়কার তথ্যসচিব। সেখানে টিপু তার দলবল নিয়ে গান করেন। সেখানে পরিবেশন করা হয় “হামরা বগুড়ার ছল, পুঁটি মাছ মারবার য্যায়া মারে আনি বোল”, “ক্যারে বড় বউ তুই ঘুমত থ্যাকে উঠিস না ক্যারে”সহ বেশ কয়েকটি গান। অনুষ্ঠান শেষে তৎকালীন তথ্যসচিব টিপুকে নিয়ে গেলেন ঢাকায়। সেময়কার বিটিভির একজন প্রযোজককে ডেকে ইয়্যুথ কয়্যারের গান ধারণ করতে বললেন। কয়েক মাস পর ডাক পড়ল বিটিভি থেকে। কিন্তু গান ধারণ করতে গিয়ে “ওই কালো ছুড়িডা” গানে আপত্তি তুললেন প্রযোজক মহাসয়। কিন্তু টিপু নাছোরবান্দা। গানের কথা পরিবর্তন করবেন না। আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহারেই গান রেকর্ড করবেন। শেষ পর্যন্ত গানের কথা ঠিক রেখেই গান রেকর্ড হয়। তারপর প্রচার হয় গানগুলো। প্রচারের পর সারাদেশে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। প্রসংশায় ভাসে বিটিবি এবং ইয়্যুথ কয়্যার। এরপর থেকেই ইয়্যুথ কয়্যারের গান মানুষের মুখে মুখে। আশির দশকে বের হলো প্রথম অডিও অ্যালবাম ‘গ্যাঞ্জাম’। এ অ্যালবামের গানের মধ্যে “গ্যাঞ্জাম লাগিসে খালি গ্যাঞ্জাম”, “ওই কালো ছুড়িডা হামাক”, “হামি বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতাত এডা কেনডিডেট পাঠামু, নাম শুকিমন”, “অস্ত্রডা জমা দিচি টেরলিং ডা না, তুই ক্যামা মিছামিছি ভয় করিস মা”, “ক্যারে বড় বউ তুই ঘুমত থ্যাকে উঠিস না ক্যারে”—এসব গান বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।’
তৌফিকুল আলম টিপুর দু:খ তার কাজে তিনি এখন পর্যন্ত জাতীয় কোনো স্বীকৃতি পাননি। অনেকেই একে দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করেন। তবে জাতীয় পর্যায়ের কোনো স্বীকৃতি না পেয়েও শুধু মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় টিকে আছে বগুড়া ইয়্যুথ কয়্যার।
তবে শুধু আঞ্চলিক ভাষায় গান গেয়ে একটি সংগঠন টিকে রাখা যায় ইয়্যুথ কয়্যার তার অন্যতম উদাহরণ। যদিও একটা সময় খোদ বগুড়ার অনেকেই ইয়্যুথ কয়্যার টিকে থাকা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। অনেকে সমালোচনাও করতেন। বরাবরেই ‘সমালোচকদের কথা ছিল, হামি-তুমি, কুটি এসব “অমার্জিত” ভাষায় আবার গান হয় নাকি। এসব নাকি মানুষ পছন্দ করবে না। অথচ এসব শব্দের ব্যবহারের কারণেই টিপু এবং ইয়্যুথ কয়্যার আজো টিকে আছে। এখানেই সমালোকদের ধারণা ভুল প্রমাণ হয়। আজও বগুড়ার কোনো মানুষ অন্য জেলায় গেলে শুনতে হয় আপনি তো ‘বোগড়্যার ছোল’। তখন গর্বে অবশ্য বুকটা হালকা ফুলেই ওঠে।
বগুড়া ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি ভাষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন। বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষা চর্চা, ইয়্যুথ কয়্যার এবং তৌফিকুল আলম টিপু সম্পর্কে ওই গবেষক বলেন, বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষাকে কথা সাহিত্যের মাধ্যমে আখতারুজ্জামন ইলিয়াস পুরো দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাসে তিনি ব্যপকভাবে বগুড়ার উপভাষাকে ব্যবহার করেছেন। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের পরে তৌফিকুল আলম টিপুই বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষাকে বিশ্বদরবারে পৌছে দিয়েছেন। বিশেষ করে তার পরিবেশনায় তৎকালীন বিটিবির অনুষ্ঠানগুলো খুব প্রিয় হয়ে সাধারণ দর্শকদের কাছে। বর্তমান নেট দুনিয়ার বদৌলতে টিপুর আঞ্চলিক গানগুলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তার এই অবদান ইতিহাস হয়ে থাকবে। টিপুকে বাদ দিয়ে বগুড়া অঞ্চলিক ভাষার কোন কিছুই সম্ভব নায়।
ওই ভাষা গবেষক ড. বেলাল হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করে আরো বলেন, আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে। টিপুদের মত যোগ্য মানুষ তৈরি হচ্ছে না। চর্চার অভাবে হয়তো এই ভাষা এক সময় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
হামি, তুমি, মুই হামরা। গান-গল্প-কবিতা আর উপন্যাসে এখন তেমন ঠাঁই নেই। শুদ্ধ ভাষার চর্চা করতে গিয়ে দিনকে দিন প্রমিত ভাষা কেড়ে নিচ্ছে মায়ের মুখ থেকে শেখা এসব শব্দ। আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র রক্ষায় এই ভাষাগুলো বাঁচাতে দরকার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।
আঞ্চলিক ভাষায় গান করে গানকে ভিন্নমাত্রার কোরিওগ্রাফিও দিয়েছেন তৌফিকুল আলম টিপু। আজো তিনি সন্ধ্যা নামলে হেলে দুলে চলে আসেন নবাববাড়ী রোডে। সেখানেই তার ছোট্ট কার্যালয়। নানান বয়সী ছেলে মেয়ে এবং দীর্ঘ দিন ধরে পাশে থাকা শিষ্যদের নিয়ে মেতে ওঠেন বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষার গান চর্চায়। গান নিয়েই তিনি শেষ সময় পর্যন্ত কাটাতে চান। পাওয়া না পাওয়ার বেদনা তাকে আশাহত করলেও গান থেকে তিনি কখনোই সড়ে যাননি। সড়ে পড়েননি।