• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন

গোলটেবিল বৈঠক: ‘‘প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে নেতার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত’- প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন

Reporter Name / ২৩৩ Time View
Update : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫

আমি মনে করি যে আজকের এই আলোচনার সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এইটা একেবারে মফস্বলের মতন একটা জায়গায় এই গোলটেবিল বৈঠক হচ্ছে, কিন্তু তারপরেও মফস্বলের হলেও এইটা যদি নিউজ আকারে জাতীয় পর্যায়ে অথবা যে ডিজিটাল প্লাটফর্ম আছে, সেগুলোতে যদি এটা প্রচার পায়, আমার মনে হয় যে আমাদের জনগণের বা তৃণমূল পর্যায়ের যে ভাবনা আছে, এই ভাবনাগুলো অন্ততপক্ষে উচ্চ পর্যায়ে যারা আছেন তাদের দৃষ্টিতে আসবে।
সরকার যায়, সরকার আসে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এই গত ৫৪ বছরে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। রাষ্ট্রের মৌলিক বিষয়গুলোতেও পরিবর্তন হয়নি, কিছুই হয়নি। একটা রাষ্ট্রের জন্ম হলো যে রক্তের মধ্য দিয়ে, সেই রক্তের যে ইতিহাস সেই ইতিহাসটাও আমরা সঠিক পাইনি। একটা মিথ্যা মিথ দিয়ে একটা জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছে, মিথ্যা দিয়ে। কত রাজনৈতিক দল আসলো, গেলো, তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেছে। এই মিথটা নিয়ে কেউ কোনোদিন কাজ করেনি, প্রশ্ন উত্থাপন করেনি।


তো সেই মিথটা কী? যে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছে। ৩০ লাখ লোক যদি শহীদ হয়ে থাকে, তাহলে তার একটা তালিকা থাকবে। একটা রাষ্ট্রীয় তালিকা থাকবে তার। যেই দেশে প্রতি ১০ বছর পর পর জনশুমারি হয়, এই দেশে কয়টা গরু-মুরগি আছে, হাঁস-মুরগি আছে তারও তালিকা আছে কৃষি বিভাগে আছে, পরিসংখ্যান বিভাগে আছে। আর সেই দেশে কয়জন লোক শহীদ হয়েছে তার তালিকা থাকবে না? যে ৭৪ সালে তো সেন্সাস রিপোর্ট হয়েছে, তারপর ৮১ সালে হয়েছে, কোনোটাতেই সেই তালিকা নেই। ইন্ডিয়া যে তথ্য সরবরাহ করেছে, সেইখানে বলা আছে যে সহিহ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৯৮ হাজার। সহিহ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৯৮ হাজার, ১ লাখও না। আর সেখানে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই ২০২৫ সালেও এসে আমরা দেখলাম যে এখনো বেঁচে আছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মুক্তিযোদ্ধা। মানে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সাড়ে তিন লাখ মুক্তিযোদ্ধা। আর যে ইন্ডিয়া প্রশিক্ষণ দিয়েছে, তাদের তালিকায় হলো ৯৮ হাজার।
এইরকম মিথ্যা দিয়ে একটা জাতির ইতিহাস দিনের পর দিন চলেছে। আমরা তরুণ প্রজন্মরা সেই ইতিহাসই গরু যেরকম জাবর কাটে, ঐরকম জাবর কেটে এসেছি।


আমরা পরিবর্তন চাই। একটা দেশের রাষ্ট্রের ইতিহাস মিথ্যা দিয়ে চলতে পারে না। আমরা চাই যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোর এমন একটা পরিবর্তন হবে, সেখানে জনগণের চাওয়া-পাওয়াটা প্রাধান্য পাবে। রাজনৈতিক দল যারা ভোটে আসে, জনগণকে এত প্রতিশ্রুতি দেয় যে সে প্রতিশ্রুতির শেষ নাই। এবং জনগণও একটা বিড়ি পেয়ে, একটা সিগারেট পেয়ে, এক মুট মুড়ি পেয়ে সেই নেতার পিছনে ছোটে। আমরা এরকম নেতাকেও বক্তৃতা দিতে শুনেছি যে আমি তোমাদের সাততলা পুকুর দিয়ে দেব। জনগণ বিশ্বাস করেছে যে সাততলা পুকুর? একতলা পুকুরই চোখে দেখি নাই, সেখানে আমার নেতা সাততলা পুকুর দিয়ে দেবে, তা তো ভালো কথা, এই নেতাকেই ভোট দেব। আমি নিজের কানে শুনেছি। সেই নেতার পিছনে জনগণ ছুটেছে, তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এই যে এরকম মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া, যে নেতাগুলো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবে, আমার মনে হয় এরকম মাঠ পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় যদি আমরা করতে পারতাম যে কোনো নেতা যদি মাঠ পর্যায়ে মানে জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়, এই প্রতিশ্রুতির দেওয়ার অভিযোগে বা তিনি যদি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারেন, তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। জনগণ তার বিরুদ্ধে মামলা করবে যে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন, জনগণের সঙ্গে মিথ্যা প্রতারণা করেছেন।

আগামী যে নির্বাচন আসছে, এই নির্বাচনে যারা জনগণের প্রতিনিধি হবেন, তারা যেন জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি না দেন। তিনি যা করতে পারবেন সেইটুকুই বলবেন। এবং সৎ, দক্ষ, যোগ্য লোককে আমরা নির্বাচন করতে চাই। জনগণ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে এই পরিবেশ চাই। তো এই কারণেই আজকে আমাদের এই গোলটেবিল বৈঠক, এখানে আপনারা কথা বলবেন। প্রাণ খুলেই আমরা কথা বলব, এখানে কোনো বাধা নেই। রাষ্ট্রীয় কোনো বাধা নেই, সামাজিক কোনো বাধা নেই, সাংস্কৃতিক কোনো বাধা নেই। এখানে আমরা প্রাণ খুলেই ইনশাআল্লাহ আমাদের মতামত দেব। এবং এইগুলো আশা করি প্রতীক ওমর তার সম্পাদিত মাসিক ‘আলোচনা’ম্যাগাজিনে আপনাদের কথাগুলো লিখিত আকাড়ে ছাপবে। এইটা আশা করি যে এই বৈঠক কিছুটা হলেও ফল বয়ে নিয়ে আসবে ভবিষ্যতে। আপনাদের সকলের জন্য শুভ কামনা। ধন্যবাদ সবাইকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category