ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষের ভাবনা ও প্রত্যাশা আজ দুইটি ভিন্ন ধারায় বিভক্ত।
এক. সাধারণ মানুষের মৌলিক চাওয়া: খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের চাওয়া বা ভাবনা অত্যন্ত সীমিত এবং মৌলিক। তাদের খুব বেশি কিছু প্রত্যাশা নেই। তারা শুধু চায়: তারা যেন দুবেলা পেট ভরে খেতে পারে এবং একটু ভালো থাকতে পারে। সারাদিনের কাজ শেষে একজন শ্রমিক বা কৃষক যেন নিরাপদে ও সুন্দরভাবে নিজ গৃহে ফিরতে পারে। তারা যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।
এই মৌলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাই সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।

দুই. উচ্চবিত্তের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জের জায়গা: অন্যদিকে, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তবে এই প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো—আমরা যাদের কাছে প্রত্যাশা করছি, সেই জায়গাটি আসলে কতখানি সঠিক?
গত ১৭ বছর ধরে যে পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, সেখানে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। যেমন, সম্প্রতি সারাদেশে এসপিদের পোস্টিং লটারির মাধ্যমে হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। যে কর্মকর্তা বগুড়া থেকে দিনাজপুরে বা দিনাজপুর থেকে সিরাজগঞ্জে বদলি হচ্ছেন, মানুষ তো সেই একই থাকছে। এই পরিস্থিতিতে, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে আমাদের প্রত্যাশা কতখানি পূরণ হতে পারে, সেই প্রশ্নটি থেকেই যায়। এটিই আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জিং বিষয়।
চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন ও রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের চিন্তা: নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে, অতীতের সব নির্বাচনকে ছাপিয়ে এবারের নির্বাচনটি হবে একটি চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন। যদিও একটা সময় অনেকে মনে করেননি যে ২৪-এর জুলাই-আগস্টের মতো কোনো ঘটনা ঘটবে, তবুও নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্ট। এই কঠিন পরিস্থিতিতে, আমাদের প্রিয় নেতা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, দূরদর্শী চিন্তা করেছিলেন। সেই চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি ২০২৩ সালেই একটি রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি করেছিলেন, যা দেখায় যে বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রকে কীভাবে পরিচালনা করবে। নির্বাচনকালীন সময়ের আগস্ট মাসের পরেই তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের নির্বাচন যত নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন।’ আমরাও তা অনুধাবন করতে পারছি। নির্বাচনের তফসিল হবে, তারিখ ঘোষণা হবে, এসব চিন্তা করলেও এই নির্বাচনটি কিন্তু অত সহজ নয়; এটি অবশ্যই একটি চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন।

আহ্বান: আমি তাই সকলের কাছে আহ্বান জানাই, বিশেষ করে যারা উচ্চপর্যায়ে আছেন এবং কথা বলার সুযোগ পান, এই আলোচনাকে শুধুমাত্র গোলটেবিল বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আমাদের এই আলোচনাকে আরও বৃহত্তর আকারে, রুট লেভেলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমি বিশ্বাস করি, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা নতুন বাংলাদেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত চাহিদার যে নির্বাচন, সেই নির্বাচনটি দেখতে পাব।
প্যানেল আলোচক,
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদল, বগুড়া জেলা শাখা