বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়ায় এক উৎসবমুখর পরিবেশে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিলেকোঠা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে শনিবার বিকেলে শহরের জলেশ্বরীতলাস্থ আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ সংলগ্ন সংগঠনের কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।
চিলেকোঠা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি প্রতীক ওমরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি হাফিজুর রহমান হাফিজ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক এমদাদুল হক এবং প্রধান আলোচক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন কবি একে আজাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানমঞ্চ অলংকৃত করেন কবি ও গবেষক বাপ্পা আজিজুল, কবি আখতার ইবনে জওহর। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কবি সামিয়া সেতু, সাংবাদিক ফেরদৌসুর রহমান এবং কবি জাকারিয়া আরমান। সভায় আমন্ত্রিত অতিথিরা কবি আল মাহমুদের বর্ণাঢ্য জীবন এবং তার কালজয়ী সাহিত্য কর্মের নানা দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কবি একে আজাদ বলেন, “আল মাহমুদ বাংলা কবিতার এক অবিনাশী ও অদ্বিতীয় কণ্ঠস্বর। ‘সোনালী কাবিন’-এর মাধ্যমে তিনি আমাদের লোকজ ঐতিহ্য, মাটির টান ও মানুষের যে চিত্র এঁকেছেন, তা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে এক বিরল সংযোজন। গ্রামীণ জীবনের শব্দমালা ও আবহকে আধুনিক কবিতার শরীরে যেভাবে তিনি ধারণ করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের কবিদের জন্য এক পরম শিক্ষণীয় পাঠশালা। তার জীবনবোধ ও সৃষ্টিশীল সাহিত্য নিয়ে আরও ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, “আল মাহমুদ কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের জাতীয় মনন ও চেতনার এক অনন্য রূপকার। তার লেখনীতে এদেশের মাটি, নদী আর মানুষের যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ একাকার হয়ে ফুটে উঠেছে। আধুনিক বাংলা কবিতার বাঁক পরিবর্তনে এবং এর আধুনিকায়নে তার অবদান চিরস্মরণীয়। তরুণ প্রজন্মের মাঝে মেধা ও মননশীল সমাজ বিনির্মাণে এবং সুস্থ ধারার সাহিত্য চর্চা ছড়িয়ে দিতে আল মাহমুদের সাহিত্য কর্মকে আরও বেশি বেশি পাঠ করা উচিত।”
আলোচনা পর্ব শেষে স্থানীয় শিশু আবৃত্তি শিল্পী আলাইনা সাঈদ ও স্থানীয় কবিরা আল মাহমুদের জনপ্রিয় কবিতাগুলো আবৃত্তি করেন এবং নিজেদের লেখা স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত করে তোলেন।