• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন

ইন্টারনেট আর মাদকের গ্রাস থেকে তরুণ প্রজন্মকে মুক্ত করতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

নিজস্ব প্রতিবেদন / ১৬১ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

পড়ন্ত বিকেলের সোনাঝরা আলোয় তখন মথরপাড়া গ্রামের সবুজ মাঠজুড়ে উৎসবের আমেজ। একদিকে তারুণ্যের উদ্যম, অন্যদিকে ফুটবলকে ঘিরে গ্রামীণ জনপদে হারিয়ে যাওয়া চেনা কোলাহল। ইন্টারনেট আর মাদকের গ্রাস থেকে তরুণ প্রজন্মকে মুক্ত করতে এবং ঈদের আনন্দকে আরও রাঙিয়ে তুলতে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।
গতকাল বিকেলে উপজেলার মথরপাড়া গ্রামে ‘আব্দুস সালাম মাস্টার-মনোয়ারা বেগম পাঠাগার’ এবং ‘ইয়্যুথ সোশ্যাল ক্লাব’-এর যৌথ উদ্যোগে এই প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদ পুনর্মিলনী উপলক্ষে গ্রামের তরুণ ও কিশোরদের মাঠমুখী করতে এই নান্দনিক ফুটবল লড়াইয়ের উদ্যোগ নেয় সংগঠন দুটি।


খেলার মাঠে প্রতিপক্ষের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছে ইয়্যুথ সোশ্যাল ক্লাব। আক্রমণভাগের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তারা আব্দুস সালাম মাস্টার-মনোয়ারা বেগম পাঠাগারকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে ধরাসশায়ী করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ইয়্যুথ সোশ্যাল ক্লাবের হয়ে মাঠে একক আধিপত্য বিস্তার করে চমৎকার এক হ্যাটট্রিক উপহার দেন সিয়াম। দলের হয়ে বাকি ১টি গোল করেন আরাফাত। পুরো ম্যাচে নিখুঁত ড্রিবলিং আর ফিনিশিংয়ের সুবাদে সিয়াম টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের সব আক্রমণ নস্যাৎ করে দেওয়া গোলরক্ষক নুর আলম পান সেরা গোলকিপার এবং একই সাথে ম্যান অব দ্য ম্যাচ’-এর পুরস্কার।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী পর্বে টুর্নামেন্টের মূল উদ্যোক্তা, আব্দুস সালাম মাস্টার-মনোয়ারা বেগম পাঠাগারের সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক ওমর ফারুক তরুণদের রক্ষায় মাঠের ভূমিকার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন: “বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের করাল গ্রাস এবং মাদকের কালো ছায়া আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ভয়াবহতা থেকে কিশোর ও যুবকদের হেফাজত করার উদ্দেশ্যেই আমরা প্রতিবার ঈদের এই সময়ে খেলাধুলার আয়োজন করি। দুঃখের বিষয়, দিন দিন খেলার মাঠ হারিয়ে যাওয়ার কারণে এখনকার তরুণ-কিশোররা বিকেলগুলোকে উপভোগ করতে পারছে না; তারা সারাক্ষণ মোবাইলের স্ক্রিনে বুদ হয়ে থাকছে।”


ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে এই গণমাধ্যমকর্মী আরও বলেন: “আমাদের শিশু-কিশোর এবং তরুণদের সুনাগরিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সবার আগে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি বর্তমান সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাব, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে যেন অন্তত একটি করে খেলার মাঠ তৈরি করে দেওয়া হয়।”
খেলা শেষে বিজয়ী ‘ইয়্যুথ সোশ্যাল ক্লাব’ ও রানার্স-আপ পাঠাগার দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শক এবং গ্রামবাসীদের উপচে পড়া উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে, ডিজিটাল আসক্তির এই যুগেও মাঠের ফুটবলের আবেদন এতটুকু কমেনি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category