• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র: ঢাকা-করাচি-বেইজিং অক্ষ ও ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ

Reporter Name / ২৭২ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬

জেসমিন আক্তার

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে যে পরিবর্তনগুলো ঘটছে, তা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে ‘ইউ-টার্ন’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা ভারত, পাকিস্তান এবং চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সমীকরণকে নতুন করে বিন্যস্ত করছে।
দক্ষিণ এশিয়া বরাবরই বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য বা ‘বিগ ব্রাদার’ ইমেজ বজায় থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে পাকিস্তান এবং চীনের সাথে সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ‘দিল্লিকে বাইপাস’ করে করাচি এবং বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার হাত মেলানো একটি দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি শেষে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হচ্ছে। বাহ্যিকভাবে এটি যাত্রী পরিবহনের বিষয় মনে হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর কৌশলগত অর্থ।
আগে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে যেতে হলে ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করা হতো অথবা দুবাই/দোহা হয়ে ঘুরপথে যেতে হতো। এখন সরাসরি ফ্লাইটের মাধ্যমে ভারত নির্ভরতা কমিয়ে আনা হচ্ছে। এটি এক ধরনের প্রতীকী বার্তা যে, ঢাকা এখন তার আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির জন্য দিল্লির অনুমোদনের অপেক্ষায় নেই।
তিব্বত রুট ও চীনা প্রভাব: তিব্বতের ওপর দিয়ে সরাসরি ফ্লাইটের বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও কারিগরি দিক থেকে এটি অত্যন্ত জটিল। তিব্বত মালভূমির গড় উচ্চতা অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে বাণিজ্যিক বিমানের অক্সিজেন ও ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিংয়ের ঝুঁকি থাকে। তবে বেইজিং যদি তিব্বত বা তার নিকটবর্তী আকাশসীমা ব্যবহার করে করাচি-ঢাকা সংযোগকে নিরাপত্তা প্রদান করে, তবে তা ভারতের আকাশসীমার একচ্ছত্র আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাবে।

শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’: ভারতের সবচেয়ে বড় ভীতি এটি। ভারতের কৌশলগত দুর্বলতার সবচেয়ে বড় জায়গা হলো শিলিগুড়ি করিডোর। মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই ভূখণ্ডটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আটটি রাজ্যকে (সেভেন সিস্টার্স) যুক্ত রেখেছে।
কোণঠাসা হওয়ার আশঙ্কা: বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক যখন মধুর ছিল, তখন ভারত এই করিডোর নিয়ে অনেকটা নিশ্চিন্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ যদি চীনের সামরিক বা কৌশলগত প্রভাবের অধীনে চলে যায়, তবে যুদ্ধের সময় চীন খুব সহজেই এই সরু পথটি বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারবে।
চীনের ‘টু-ফ্রন্ট’ কৌশল: উত্তরে চীন আর দক্ষিণে যদি বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এই আশঙ্কাই দিল্লিকে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিচলিত করছে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান-চীন অক্ষ: ক্ষমতার নতুন মেরুকরণ। দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘকাল ধরে পাকিস্তান ও চীনকে ভারতের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হতো। এখন এই জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি একটি নতুন ‘পাওয়ার ব্লক’ তৈরি করছে।
সামরিক সহযোগিতা: বাংলাদেশ সম্প্রতি চীন থেকে অত্যাধুনিক ঔ-১০ঈ যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন প্রযুক্তি নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন এবং দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সম্ভাবনা ভারতের জন্য একটি রেড সিগন্যাল।
বঙ্গোপসাগরে চীনের আধিপত্য: চীন দীর্ঘদিন ধরেই বঙ্গোপসাগরে তার প্রভাব বিস্তার করতে চায় (যাকে বলা হয় ‘স্ট্রিং অফ পার্লস’)। চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরে চীনা বিনিয়োগ এবং পাকিস্তানের সাথে নৌ-সহযোগিতা বেইজিংকে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে অবাধ প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে।
ভারত কেন চিন্তিত?: দিল্লির জন্য বর্তমান পরিস্থিতিটি ‘কৌশলগত দুঃস্বপ্ন’ (ঝঃৎধঃবমরপ ঘরমযঃসধৎব) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ঘিরে ফেলার নীতি: পশ্চিমে পাকিস্তান, উত্তরে চীন এবং এখন পূর্বে বাংলাদেশ—তিন দিক থেকেই ভারত নিজেকে এক ধরনের প্রতিকূল বেষ্টনীতে অনুভব করছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (যেমন মনিপুর বা নাগাল্যান্ড) যে অস্থিরতা রয়েছে, সেখানে যদি বাংলাদেশের দিক থেকে সীমান্ত সহযোগিতা কমে যায়, তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
আঞ্চলিক নেতৃত্ব হারানো: দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে (নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এবং এখন বাংলাদেশ) ভারতের প্রভাব কমছে এবং চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বাড়ছে।
ভূ-রাজনীতির ‘ভয়ঙ্কর খেলা’: সম্ভাবনা ও ঝুঁকি। মূলত একটি প্রক্সি যুদ্ধের ইঙ্গিত দেয়। এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ এবং অর্থনীতি অনেক সময় বড় ঝুঁকির মুখে পড়ে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা: যদি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক (যেমন পেঁয়াজ, বিদ্যুৎ বা ট্রানজিট) ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উভয় দেশের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চরমপন্থার উত্থান: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা বাড়লে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করে যে, সীমান্তে উগ্রবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো নতুন করে তৎপর হওয়ার সুযোগ পাবে।
ভারতের পাল্টা কৌশল: দিল্লি হাত গুটিয়ে বসে নেই। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তারা তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে।

সামরিক শক্তিবৃদ্ধি: শিলিগুড়ি করিডোরে ভারত ইতিমধ্যে রাডার সিস্টেম এবং মিসাইল ডিফেন্স মোতায়েন করেছে। ‘লাচিত বরফুকন’ সামরিক স্টেশনের উন্নয়ন এবং সেখানে দ্রুত সাড়াদানকারী বাহিনী বাড়ানো হয়েছে।
বিকল্প কানেক্টিভিটি: ভারত এখন তার ‘কালাদান প্রজেক্ট’ (মিয়ানমার হয়ে) এবং অভ্যন্তরীণ জলপথের ওপর জোর দিচ্ছে যাতে বাংলাদেশের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
অপরদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনের ঋণের প্রভাব এবং ভারতের বাণিজ্যিক প্রতিক্রিয়া স্পস্ট হয়ে উঠছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে বাংলাদেশ এখন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে চীনের বিশাল অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং অন্যদিকে ভারতের সাথে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিক নির্ভরতা, এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ঢাকা এখন এক কঠিন ভারসাম্যের খেলা খেলছে। বেইজিংয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে যেমন উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তেমনি ভারতের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (ইজও)-এর আওতায় বাংলাদেশ গত এক দশকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও ঋণ গ্রহণ করেছে। এই ঋণের প্রভাব বহুমুখী।

পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল (বঙ্গবন্ধু টানেল), পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বিভিন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চীনের বিশাল অর্থায়ন বাংলাদেশের লজিস্টিক সক্ষমতাকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এই প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চীনের। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন বাংলাদেশ এখনও শ্রীলঙ্কার মতো ‘ডেব্ট ট্র্যাপ’ বা ঋণের জালে পড়েনি, তবে ঋণের শর্ত এবং উচ্চ সুদের হার উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে ডলার সংকটের এই সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। চীন যখন কোনো দেশে বড় বিনিয়োগ করে, তখন সেই দেশের নীতিনির্ধারণে বেইজিংয়ের একটি পরোক্ষ প্রভাব তৈরি হয়। ঢাকা-করাচি সরাসরি যোগাযোগ বা তিব্বত রুটের আলোচনার পেছনে চীনের এই ‘সফট পাওয়ার’ বা অর্থনৈতিক প্রভাব কাজ করছে বলে ধারণা করা হয়।
ভারতের বাণিজ্যিক প্রতিক্রিয়া: বাংলাদেশ যখন বেইজিং বা ইসলামাবাদের দিকে কৌশলগতভাবে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন ভারত তার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি রাজনীতি। বাংলাদেশ ভারতের আদানি গ্রুপসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সম্পর্কের অবনতি হলে ভারত যদি বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো প্রযুক্তিগত বা পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করে, তবে বাংলাদেশের শিল্পোৎপাদন বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট: ভারত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের যে সুবিধা (ট্রানজিট) পায়, তা দিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি বাংলাদেশ এই সুবিধা সীমিত করতে চায়, তবে ভারতও পাল্টা হিসেবে বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি বা কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে।

এছাড়াও পেঁয়াজ, চিনি, ডাল এবং গমের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের জন্য বাংলাদেশ ভারতের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। ভারত মাঝেমধ্যেই অভ্যন্তরীণ সংকটের অজুহাতে এসব পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় একে ‘ইকোনমিক লিভারেজ’ বা অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে ব্যবহার করার ইতিহাস ভারতের রয়েছে।
অন্যদিকে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীন যখন বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়, তখন ভারত একে তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। কারণ তিস্তা অববাহিকা শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছে। এখানে চীনের উপস্থিতি মানেই ভারতের গলার কাছে বেইজিংয়ের হাত পৌঁছে যাওয়া। এই ভূ-রাজনৈতিক লড়াই কেবল বাংলাদেশ-ভারত-চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পাকিস্তানও এখানে ফ্যাক্টর উঠেছে। ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তান বাংলাদেশের বাজারে পুনরায় প্রবেশের চেষ্টা করছে। তুলা, সুতা এবং অন্যান্য কাঁচামাল আমদানিতে পাকিস্তান যদি ভারতকে প্রতিস্থাপন করতে পারে, তবে তা ভারতের টেক্সটাইল খাতের জন্য বড় দুঃসংবাদ হবে।

এছাড়াও নেপাল ও ভুটান এই দেশগুলোও এখন বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে বহির্বিশ্বের সাথে ব্যবসা করতে চায়। ভারত যদি বাংলাদেশের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, তবে এই আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বাধাগ্রস্ত হবে, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর।
বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ: কীভাবে সামলাবে এই ভারসাম্য? বাংলাদেশকে এই “ভয়ঙ্কর খেলা”র মাঝে নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে:
বাজার বৈচিত্র্যকরণ: কেবল ভারত বা চীনের ওপর নির্ভরশীল না থেকে আসিয়ান (অঝঊঅঘ) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হবে।
কূটনৈতিক পেশাদারিত্ব: আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো একটি ব্লকে যোগ না দিয়ে ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব’ নীতি কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা: জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে যাতে কোনো প্রতিবেশী দেশ একে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।
মোটকথা হলো, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এখন আর কোনো পুরনো সমীকরণ স্থায়ী নয়। ঢাকা-করাচি সরাসরি যোগাযোগ এবং বেইজিংয়ের সাথে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ এখন তার জাতীয় স্বার্থকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল না রেখে বহুমুখী করতে চায়। তবে এই “নতুন খেলা” যেন এই অঞ্চলে বড় কোনো সামরিক সংঘাতের জন্ম না দেয়, সেটিই হবে আগামী কয়েক বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভারত যদি তার ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ পলিসি বজায় রাখতে চায়, তবে তাকে পেশিশক্তির বদলে কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই নতুন অক্ষকে মোকাবিলা করতে হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category