• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

যে কারণে চিরতরে নিষিদ্ধ হতে পারে আওয়ামী লীগ

Reporter Name / ২৩১ Time View
Update : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫

এফ শাহজাহান

আওয়ামী লীগকে কমপক্ষে ৭ বার নিষিদ্ধ করার মতো আইনসংগত কারণ আছে। অথচ একবারও নিষিদ্ধ হয়নি। দলগতভাবে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানবতাবিরোধী অপরাধ করলেও চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়নি আওয়ামী লীগকে।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার অপরাধে তাদের দলীয় কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও স্থায়ীভাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি।

বিপ্লব পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরুতেই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে পারতো। পরবর্তীতে দলগত অপরাধের বিচারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়ে যেতো। সেটা না করে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার একটা সুড়ঙ্গ রেখে দিয়েছে।

বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনো অবৈধ ঘোষিত হয়নি। যে কোনো সময় আবার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালু করা হতে পারে বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জানিয়েছেন।

অথচ একটি রাজনৈতিক দল চিরতরে নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য যে ধরনের অপরাধ দায়ী, তার চেয়ে কয়েকগুণ বড় অপরাধে দলগতভাবেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ কমপক্ষে সাতবার নিষিদ্ধ হওয়ার মতো সাতটি বড় অপরাধ সংঘটিত করছে।

আওয়ামী লীগ এমন ৭টি মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে,তার যে কোন একটা অপরাধের দায়ে যে কোন রাজনৈতিক দল চিরতরে নিষিদ্ধ হওয়ার কথা। কিন্তু রক্তঝরা চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের রক্ত ও লাশের ওপর দাঁড়িয়ে শপথ নেওয়া ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিষিদ্ধ না করে আবার ফিরে আনার ফন্দি ফিকির করছে।

ভারতের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিডিআর গণহত্যা, লগি-বৈঠার তাণ্ডব,শাপলা চত্তরের হেফাজত গণহত্যা, জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের হত্যা, গুম-খুনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েম এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মতো ভয়ংকর মানবতা বিরোধী অপরাধের করেও আওয়ামী লীগ চির তরে নিষিদ্ধ হয়নি।

এর যে কোনো একটি অপরাধে আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফরজ কাজ ছিল। কারণ, নির্বাচনের মাধ্যমে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবে না।

বিপ্লব পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত ছিল বিচারের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা। এটা যতোদিন না করা হবে বাংলাদেশকে তততোদিন রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হবে।

আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিষিদ্ধ করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো নিম্নরূপ-

এক. জুলাই গণহত্যা
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র–জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো দমনপীড়ন ও গণহত্যা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনেও জুলাই গণহত্যাকে ভয়ংকর মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই গণহত্যা নির্দেশদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পলাতক শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের ফাঁসি হয়েছে।
জুলাই গণহত্যা আওয়ামী লীগ দলগতভাবে জড়িত ছিল। সশস্ত্র দলীয় ক্যাডার বাহিনী আন্দোলনকারীদের হত্যা করেছে। এজন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যায় দলগত ভূমিকা পালনের দায়ে আওয়ামী লীগকে দোষী সাব্যস্ত করার মাধ্যমে চিরতরে নিষিদ্ধ করা জরুরি ছিল জাতির কলঙ্ক মোচনের জন্য।

দুই. বিডিআর গণহত্যা
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর গণহত্যায় ভারত,শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরাসরি জড়িত ছিল।
পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা পেয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন।
তারা বলছে, এ ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। এ ছাড়া এই ঘটনায় ভারতেরও সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিশন।

সাবেক বিডিআরের ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভুঁইয়া বলেন, ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা ভারতের স্বার্থে ও নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার স্বার্থে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ভারতবিরোধী কোনো সেনা-কর্মকর্তা হলে তার অবস্থা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার শিকার হতে হবে, এটাই মেসেজ ছিল এই হত্যাকাণ্ডের।

গত ১ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী রাওয়া ক্লাবে ‘বিডিআর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে শহীদ পরিবারের মতপ্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে আমরা ছাড়ব না। রিপোর্টে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করতে হবে সরকারকে। মীরজাফরদের বিচার করতে হবে না হলে আরও একটা পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। [ জাগো নিউজ- ১২:২৮ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ]

তিন. শাপলা গণহত্যা
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে নিহতদের মধ্যে ৯৩ জনের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তালিকাটি প্রাথমিক খসড়া এবং এ সংখ্যা যাচাই-বাছাইয়ের পর আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

হেফাজতের জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বশীল মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী জানান, এটি একটি প্রাথমিক খসড়া তালিকা এবং যাচাই-বাছাই শেষে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। [যুগান্তর-০৫ মে ২০২৫]

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ ঘটনার পরপর হেফাজতের কর্মসূচি ঘিরে ৬১ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছিল। [যুগান্তর-০৫ মে ২০২৫ ]

শাপলা চত্তরের এই গণহত্যা হাসিনার প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ দলগতভাবে জড়িত ছিল। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এখনো হয়নি। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে শাপলা চত্তরের গণহত্যার বিচার করলে আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে নিষিদ্ধ করার যথেষ্ট আইনি ভিত্তি তৈরি হতো।

চার. লগী-বৈঠার তাণ্ডব
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ভয়ংকর মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল আওয়ামী লীগ। এই দিনে এ দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে তরতাজা তরুণদের পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে নারকীয় উল্লাস চালানো হয়েছিল। পিটিয়ে হত্যা করে সেই লাশের উপর নাচা-নাচির দৃশ্য বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছল।

২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর ঢাকার পল্টন-বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াতে ইসলামী এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি এবং জামায়াত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের গাড়ি, বাড়ি এবং ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়। [ বিবিসি নিউজ বাংলা: ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ]

সেদিন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপর পৈশাচিক হামলা চালিয়েছিল, ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। লগি, বৈঠা, লাঠি, পিস্তল ও বোমা হামলা চালিয়ে যেভাবে মানুষ খুন করা হয়েছে তা মনে হলে আজও শিউরে ওঠে সভ্য সমাজের মানুষ। সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ মেরে লাশের উপর নৃত্য উল্লাস করার মতো ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। এ ঘটনায় জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব থেকে শুরু করে সারাবিশ্বে ওঠে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল।

২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানের মহাসমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এই আহ্বানে সাড়া দিয়েই আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের কর্মীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ২৭ অক্টোবর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সে দিনও মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের সভাস্থল থেকে বারবার ঘোষণা দেয়া হচ্ছিল, “জামায়াত শিবিরের উপর হামলা কর” ওদের খতম কর”।

১৪ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমদ, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন বারবার উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়ে হামলার জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে উৎসাহিত করছিলেন।

এই দিনে দলগতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে।

পাঁচ. গুম-খুন
স্বৈরশাসক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা নিজেই গুম ও হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন। তার সরাসরি নির্দেশে গুম ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এইচআরডব্লিউ এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন সব ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরেছে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলেইন পিয়ারসনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অধ্যাপক ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেন জুলাই বিপ্লবের ওপর একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। এই প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছেন যে, শেখ হাসিনা হাসিনা সরাসরি গুম ও হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।’

‘গুম কমিশনের’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি গুমের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী, নারী ও শিশুরাও রয়েছেন। ‘আয়নাঘর’সহ গোপন বন্দিশালায় এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা এসব অপরাধের জন্য সরাসরি দায়ী। [ দৈনিক ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্ক : প্রকাশ ১২ অক্টোবর ২০২৫, ২০:২৮]

ছয়. জুডিশিয়াল কিলিং
২০২৫ সালের ২৭ মে মঙ্গলবার জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনার স্বৈরশাসন আমলে জামায়াতের শীর্ষ ৬ নেতাকে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে।জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের খালাস ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। [ ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট : প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৫, ১৩:২০ ]

যুদ্ধাপরাধী মামলার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খালাসপ্রাপ্ত আজহারুল ইসলাম বলেন, যারা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মিথ্যা অভিযোগে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করেছে তাদের বিচার করতে হবে। যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। [ সময় নিউজ : প্রকাশ : ১৮ টা ৩৮ মিনিট, ৪ জুলাই ২০২৫ ]

সাত. সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর থেকে ৬ মার্চ টানা সাত দিন যৌথবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী গণহত্যা চালায় আওয়ামী লীগ। সে সময় শিশু ও সাধারণ নারী পুরুষসহ কমপক্ষে ১৬০ জন গুলিতে নিহত হন। [ দৈনিক জনকণ্ঠ : প্রকাশ : আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২৫ ]

কোনো প্রকার প্রটোকল না মেনে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি গণ-জাগরণ মঞ্চের পরিকল্পিত চাপে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সে সময় রায়ের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে সারাদেশ। রায় ঘোষণার পর থেকেই সারাদেশে নিরস্ত্র, নিরীহ বিক্ষুব্ধ আল্লামা সাঈদী ভক্তদের ওপর ইতিহাসের বর্বর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় পুলিশ ও সরকারের পেটোয়া বাহিনী।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ সারা দেশে চালানো হয় গণহত্যা। প্রথম দিনেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৭০ জনের অধিক। [ দৈনিক জনকণ্ঠ : প্রকাশ : ১৭:৪০, ৯ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ১৯:৫৭, ৯ এপ্রিল ২০২৫ ]
সাঈদীর রায় পরবর্তী সংঘটিত এই গণহত্যায় হাসিনার নির্দেশে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় সশস্ত্র আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুব লীগের ক্যাডার বাহিনী। দলগতভাবে এই গণহত্যা চালানোর অপরাধেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

একটা, দুইটা নয়। এই সাত কারণে আওয়ামী লীগকে কমপক্ষে সাতবার নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। এই সরকার সেই কাজটা এখনো করতে পারে। যদি তারা আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ না করে, তাহলে হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগ দলগতভাবে অনেকগুলো গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত। ওপরে বর্ণিত ভয়ংকর ৭টি কারণের যে কোনো একটা কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা ফরজ ছিল।

ড. ইউনূস বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে বৈধ রয়েছে। তবে কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না। যে-কোনো সময়-এ কার্যক্রম আবার চালু করা হতে পারে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা যে কোনো সময় তুলে নেওয়া হতে পারে।
[ ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্ক-প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫]

লেখক: নির্বাহী পরিচালক,স্কুল অব জার্নালিজম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category