আমি বাংলাদেশের নাগরিক। তো আমি কী চাই? আমি আমার ব্যক্তিজীবনে প্রথম বিদেশে যাই ২০০৩ সালে, ইউরোপে বেশ কিছুদিন ছিলাম। ফিরে আসার পরে সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি কী দেখে আসলেন, কোনটা আপনার ভালো লেগেছে? তো আমার উত্তর ছিল, আমি লাইন ধরা শিখে এসেছি। কেন লাইন ধরা? মানে হলো যে, অন্যের অধিকারটাকে প্রতিষ্ঠিত করা, সঙ্গে আপনারটাকেও প্রতিষ্ঠিত করা। আপনি আমাকে সুপারসিড করবেন না, আমি আপনাকে সুপারসিড করবো না। যার যার জায়গা থেকে আমরা আমাদের সেবাটা নেবো। এই জিনিসটা আমাদের নেই। আর আমরা স্বৈরতন্ত্রের দশকে অনেক ছোট ছিলাম। কিন্তু দেখেছি, আন্দোলনগুলোও দেখেছি, এখনকার আন্দোলনগুলোও দেখি। স্বাধীনতা পেয়েছি, আমি বাঙালি বলে পরিচয় দিতে পারি, এটা সবচাইতে বড় কথা। কিন্তু আমাদের কার কী থাকা উচিত, কার কী থাকা উচিত নয়, এই জিনিসটা ভুলে গেছি। আমাদের প্রত্যেকেরই বোধহয় নিজেদের বিবেক দিয়ে একটু চিন্তা করা উচিত, আমার প্রাপ্য কী? সবাই আমাকে করে দেবে এটা নয়, আমার আসলে কতটুকু যোগ্যতা, আমি কতটুকুর জন্য হাত বাড়াতে পারি, এই জিনিসটা আমরা কখনোই চিন্তা করি না।

আর বিচারহীনতা এবং অপসংস্কৃতি। আমরা অপ্রেসড ছিলাম। আজকেও একটু আগেই বললেন যে, বঞ্চনা থেকেই স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু। অপ্রেসড ছিলাম, কিন্তু আজকে আমরা কী করছি? আমি কি আমার ভাইয়ের অধিকারটা সব জায়গায় নষ্ট করছি না? আমার প্রতিবেশীর অধিকারটা আমি বারবার নষ্ট করছি না? তো আমরা এখানে কবে নিজেদের বিবেককে জাগ্রত করতে পারব?
আরও বলতে পারি, যাদের পেশা রাজনীতি তাদেরকেই রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হোক। কেন না, রাজনীতি পেশা হতে পারে না। রাজনীতি প্যাশন, প্রফেশন নয়। তো প্যাশনকে প্রফেশন বানাচ্ছি আমরা। আর এই প্রফেশনটাই সবচাইতে লাভজনক প্রফেশন।
প্যানেল আলোচক, স্বত্ত্বাধিকারী, পদ্মাফুডস