• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন

‘উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের পদে নারীদের অংশগ্রহণ প্রশংসনীয় হলেও তৃণমূল পর্যায়ে এবং সাধারণ আসনে তাদের উপস্থিতি এখনো কম’ -নাজমা আক্তার

Reporter Name / ২৮৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

বগুড়ার রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী মহিলা দল বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের কল্যাণে নিরলসভাবে আন্দোলন করে আসছেন। জেল-জুলুম, মিছিল-মিটিং আর রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে তার পরিচয় সর্বজনবিদিত। ১৯৯৪ সালে বগুড়া সদর থানা ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রাজনীতি শুরু। সেই থেকেই নিরলসভাবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
আজকের এই একান্ত সাক্ষাৎকারে, নাজমা আক্তার তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, বগুড়ার মাটি থেকে উঠে আসা নারী নেতৃত্বের গল্প, এবং সমাজের জন্য তার স্বপ্নের কথা তুলে ধরবেন। আমরা তার কাছ থেকে আরও জানতে পারব, একজন নারী হিসেবে রাজনীতিতে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ এবং তা অতিক্রম করার পেছনের দৃঢ় সংকল্পের কথা।
“আলোচনা” ম্যাগাজিনের এই বিশেষ পর্বে, নাজমা আক্তারের সাহসী ও অনুপ্রেরণাদায়ী জীবন থেকে আমাদের জন্য কী বার্তা রয়েছে, তা খুঁজে দেখব আমরা।

আলোচনা: আপনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আপনি নারীদের রাজনীতিতে আগ্রহী করে তোলার জন্য কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছেন এবং এর ফলে কতটা সফল হয়েছেন?
নাজমা আক্তার: আমি একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও নারীদের জন্য উন্মুক্ত ও সমান রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করাই আমার মূল লক্ষ্য। নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য আমি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছি। প্রথমত, আমি নারীদের জন্য বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন করেছি, যেখানে তারা নেতৃত্বের মূল দিকগুলো শিখতে পারেন এবং আত্মবিশ্বাস অর্জনের সুযোগ পান। এই প্রশিক্ষণগুলো নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস জোগিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আমি নারী নেত্রীদের জন্য সমন্বিত ফোরাম তৈরি করেছি, যেখানে তারা মতামত বিনিময় এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ পায়। পাশাপাশি, আমি বিভিন্ন সভা ও সমাবেশে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি, যাতে তাদের কণ্ঠস্বর উঠে আসে এবং তারা নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হয়। তাছাড়া, আমি তরুণীদের সুষ্ঠু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়েছি।
এসব কৌশলের ফলশ্রুতিতে আমি দেখতে পেয়েছি, নারীরা এখন অধিকতর সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে রাজনীতিতে তাদের অবদান বাড়ছে। এর ফলে নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, আমি মনে করি, আমাদের আরও দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা যতই কার্যকরী হবে, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আরো বিস্তৃত এবং সফল হবে। এ উদ্যোগগুলো সামগ্রিকভাবে আমাদের দেশের জন্য সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

আলোচনা: নারী হিসেবে রাজনীতি করতে গিয়ে আপনাকে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং এই চ্যালেঞ্জগুলো আপনি কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?
নাজমা আক্তার: নারী হিসেবে রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা সাধারণত সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথাগত মতামতের কারণেই আসে। প্রথমত, আমাদের সমাজে নারীদের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করাকে অনেক সময়ই অনেকেই অগ্রহণযোগ্য মনে করে। অনেক ক্ষেত্রে আমাকে হাস্যরসে বা অবাঞ্ছিত মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছিল। কিছু সময় ধরে আমার মনোবল ভেঙে গেছে, তবে আমি দৃঢ় বিশ্বাসে অটুট থেকেছি। এই সমস্ত প্রতিক‚লতার মধ্যেও আমি আমার লক্ষ্যে অটুট থাকি, কারণ আমি জানি নারীদের অবদান অপরিসীম এবং এ পরিবর্তনের জন্য প্রচুর সংগ্রাম করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অনেক ক্ষেত্রে নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং সুবিধাবাদী বিকৃতি দেখা যায়, যেখানে নারীর অংশগ্রহণ অপ্রতুল বা অপচেষ্টায় থাকে। আমি এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সততা, আন্তরিকতা ও স্পষ্ট নীতি অনুসরণ করেছি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সমাজের নানা ধরনের দ্বিমত ও বিরোধিতা। আমি দৃঢ়চিত্তে বলব, এই সমস্ত বাধা আসলেও আমি সবসময় বিশ্বাস ও সাহসের সঙ্গে এগিয়ে গেছি। আমি মনে করি, এই সংগ্রাম শুধু আমার ব্যক্তিগত নয়, বরং সমস্ত নারীর স্বপ্ন পুনরায় জাগানোর সংগ্রাম।

আলোচনা: রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করার জন্য কোন বিষয়গুলোকে আপনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন এবং বগুড়ার নারীদের উন্নয়নে আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?
নাজমা আক্তার: রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করার জন্য যে বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও নারীর ক্ষমতায়ন। বগুড়ার নারীদের উন্নয়নে এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি।
রাষ্ট্রের কল্যাণে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া বিষয়সমূহ হচ্ছে,
শিক্ষার প্রসার: শিক্ষিত জনগোষ্ঠীই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ। মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন: পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়।
সুশাসন ও ন্যায়বিচার: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি আধুনিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
স্বাস্থ্যসেবা: উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বীমার মতো কর্মসূচি চালু করা উচিত।
নারীর ক্ষমতায়ন: সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাই, নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সম-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনা: আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কতটা বেড়েছে এবং তা আরও বাড়াতে কোন বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া প্রয়োজন?
নাজমা আক্তার: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে, তবে তা এখনো কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের পদে নারীদের অংশগ্রহণ প্রশংসনীয় হলেও তৃণমূল পর্যায়ে এবং সাধারণ আসনে তাদের উপস্থিতি এখনো কম।
নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির দিকসমূহ:
সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি: স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ১৫টি থেকে ৫০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। স¤প্রতি সংবিধান সংস্কার কমিশন সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ১০০ করার প্রস্তাব করেছে।
উচ্চপর্যায়ে নেতৃত্ব: বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটি নারীর রাজনৈতিক সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
স্থানীয় সরকারে অংশগ্রহণ: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক হচ্ছে।
গণআন্দোলনে সক্রিয়তা: সা¤প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।
অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে করণীয়:
সরাসরি নির্বাচন নিশ্চিত করা: সংরক্ষিত আসনে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে তারা জনগণের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ থাকবেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাÐে আরও সক্রিয় হবেন।
মনোনয়নে অগ্রাধিকার: রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সাধারণ আসনে আরও বেশি সংখ্যক যোগ্য নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী দলীয় কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতা পূরণ করা।
নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ: রাজনৈতিক হয়রানি, সাইবারবুলিং এবং নিরাপত্তাহীনতা নারীর অংশগ্রহণে বড় বাধা। নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা: রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা। পারিবারিক বা সামাজিক পরিচয়ের বাইরে এসে নারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ দেওয়া উচিত।
মানসিকতার পরিবর্তন: সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে বিদ্যমান পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যোগ্য নেতা হতে পারেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
নারীর পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ ছাড়া একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই উল্লিখিত বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং তা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে।

আলোচনা: আপনার দল যদি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং সমাজে নারীর অবস্থান দৃঢ় করতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন?
নাজমা আক্তার: ভবিষ্যতে আমাদের দল যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং সমাজে নারীর অবস্থান দৃঢ় করতে আমরা একটি বহুমুখী ও সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করব। এই পরিকল্পনা নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবে।

আলোচনা: যুব সমাজের রাজনীতিবিমুখতা নিয়ে বর্তমানে অনেক আলোচনা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে যুক্ত করতে আপনার পরামর্শ কী?
নাজমা আক্তার: দেশের রাজনীতিতে তরুণ সমাজের আগ্রহ কমে যাওয়া একটি গুরুতর বিষয়, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য উদ্বেগজনক। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে হলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও পরিবেশের মধ্যে মৌলিক পরিবর্তন আনা অপরিহার্য।
তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে যুক্ত করতে পরামর্শ:
সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা: দুর্নীতির বিস্তার এবং রাজনৈতিক অস্বচ্ছতা তরুণদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের আর্থিক ও সাংগঠনিক কর্মকাÐে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে হবে। এছাড়া, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নয়ন: রাজনৈতিক সংঘাত, হয়রানি এবং সহিংসতা তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অন্যতম প্রধান বাধা। রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি ইতিবাচক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকবে।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ব্যয়ভার এবং রাজনৈতিক পেশার অনিশ্চয়তা অনেক তরুণকে নিরুৎসাহিত করে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে তারা রাজনীতিতে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
নতুন নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি: রাজনীতিতে প্রবীণ নেতৃত্বের আধিপত্যের কারণে তরুণরা প্রায়শই গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছানোর সুযোগ পায় না। রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার: তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সামাজিক মাধ্যম ও প্রযুক্তিকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আলোচনা, ক্যাম্পেইন এবং জনমত গঠনের সুযোগ তৈরি করলে তরুণরা আরও সহজে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবে।
রাজনৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা: স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রাজনৈতিক শিক্ষা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে তরুণরা গণতন্ত্র, সরকার পরিচালনা এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে।
তরুণ-কেন্দ্রিক নীতি প্রণয়ন: রাজনৈতিক দলগুলোকে এমন নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা তরুণদের চাহিদা যেমন—শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল অধিকারকে প্রাধান্য দেয়।
অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ: কেবল প্রতীকী অংশগ্রহণ নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দিতে হবে। তাদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিলে তারা রাজনীতিতে নিজেদের ভ‚মিকা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে।
এই পরামর্শগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে তরুণদের রাজনীতিবিমুখতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমÐলে নতুন গতি ও প্রাণ সঞ্চার হবে।

আলোচনা: সবশেষে, আপনার রাজনৈতিক আদর্শের মূল ভিত্তি কী এবং এই আদর্শকে সামনে রেখে আপনি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কোন পরিবর্তন দেখতে চান?
নাজমা আক্তার: আমার রাজনৈতিক আদর্শের মূল ভিত্তি হলো ন্যায়, সাম্য এবং মানবিক মর্যাদা। এই আদর্শের কেন্দ্রে রয়েছে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন, যেখানে কোনো নাগরিক তার ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে বৈষম্যের শিকার হবে না। আমরা বিশ্বাস করি, টেকসই উন্নয়ন সম্ভব কেবল তখনই, যখন তা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রত্যাশিত পরিবর্তন:
সুশাসন ও জবাবদিহি: আমরা এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাই, যেখানে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতি দূর করা হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আবশ্যক।
সমন্বিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা একটি বড় সমস্যা। আমরা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এমন পরিবর্তন চাই, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে দেশের সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হবে। পারস্পরিক সম্মান ও বিতর্কের সুস্থ পরিবেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
তরুণ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা: তরুণদের মেধা ও শক্তিকে রাজনীতিতে কাজে লাগাতে হবে। রাজনীতির ব্যয়ভার এবং পেশাগত অনিশ্চয়তা তরুণদের নিরুৎসাহিত করে। আমরা চাই, এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে তরুণ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে, এবং তারা শুধুমাত্র প্রতীকী নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবে।
জনমুখী নীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন: রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে আমরা চাই, সব নীতি ও কর্মসূচি যেন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করে একটি জনমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা আমাদের লক্ষ্য।
দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব একটি বড় সমস্যা। আমরা এমন ভবিষ্যৎ চাই, যেখানে দলগুলো নিজেরাই অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা করবে, যাতে নেতৃত্ব তৈরি হয় জনগণের সমর্থন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, পারিবারিক বা অর্থবিত্তের জোরে নয়।
এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রাজনীতি কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই না হয়ে, জনগণের কল্যাণের প্রকৃত মাধ্যম হয়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, নাজমা আকতার ১৯৭০ সালের ২৩ ডিসেম্বর বগুড়া সদররের বাঘোপড়া এলাকায় জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম মোখলেছার রহমান ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। নাজমা আকতার ১৯৯৩ বাঘোপাড়া শহীদ দাশেন উদ্দিন স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন। বহুভাষি শর্টলিপি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ একাডেমি, (নটট্রামস) থেকে এইচএসসি পাস করেন ১৯৯৫ সালে। এরপর ইতিহাস বিষয়ে অনার্স পাস করেন সরকারি আজিজুল হকে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে। ২০০২ সালে একই কলেজ থেকে একই সাবজেক্টে মাস্টার্স করেন। পরে বগুড়া আইন কলেজ থেকে এলএলবি করেন ২০২৩ সালে। নাজমা দীর্ঘদিন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। বর্তমানে তিনি বগুড়া জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাতদক পদে দায়িত্বপালন করছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category