• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

“জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই” -ড. বেল্লাল হোসেন

প্রতীক ওমর / ৫০ Time View
Update : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষকের সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বগুড়া বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. মো. বেল্লাল হোসেন।
তিনি বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ। ৫ই অক্টোবর ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি নিজ হাতে তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে একমঞ্চে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের ১০০ জন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই প্রথম একসঙ্গে সম্মাননা প্রদান করা হলো। সরকারের এই অনন্য উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
প্রফেসর ড. মো. বেল্লাল হোসেন একজন দক্ষ প্রশাসনিক প্রধান। শ্রেণিকক্ষেরও পছন্দের শিক্ষক। তিনি উত্তরাঞ্চলের সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অনন্য রূপকার। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি বহু শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন।


তাঁর একাডেমিক ও গবেষণামূলক পথচলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি ২০০৫ সালে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘পূর্ব বগুড়ার লোকসাহিত্যের স্বান্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য’ শীর্ষক মৌলিক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাসকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম।
এখন পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জার্নালে তাঁর ৪২টি মানসম্পন্ন গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি ১৩টি মৌলিক ও সম্পাদিত গ্রন্থের প্রণেতা। শিক্ষা, সমাজ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রপত্রিকায় তাঁর অর্ধশতাধিক চিন্তা-উদ্দীপক প্রবন্ধ ও নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদনা করেছেন একাধিক গবেষণাধর্মী সাময়িকী ও সাহিত্য পত্রিকা। তিনি বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি এবং পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সমিতির আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জীবনের এই শ্রেষ্ঠতম সম্মাননা গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রফেসর ড. মো. বেল্লাল হোসেন। স্বীকৃতি প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে ড. মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, “শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। এটি একটি পবিত্র ব্রত ও দায়বদ্ধতা। দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি মহোদয়ের হাত থেকে জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননা গ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। একমঞ্চে দেশের ১০০ জন শিক্ষককে সম্মানিত করার যে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্থাপন করলেন, তা সমগ্র শিক্ষক সমাজকে আরও নিষ্ঠা ও ভালোবাসার সাথে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়; এটি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, সহকর্মী এবং প্রিয় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার প্রতিফলন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ তথা পুরো দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করতে এবং লোকসাহিত্যের প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।”

বগুড়ার সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সার্বিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। জাতীয় পর্যায়ে তাঁর এই অর্জনে সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ পরিবারসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের শিক্ষাঙ্গনে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্থানীয় বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষক নেতাদের মতে, গুণী এই শিক্ষাবিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তরুণ প্রজন্মের শিক্ষকদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান ও গবেষণায় গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category